পাবনার চিকনাই নদীর যৌবন ও বার্ধক্য 


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ৪:২৮ PM /
পাবনার চিকনাই নদীর যৌবন ও বার্ধক্য 

পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনা জেলার মধ্যে প্রবাহিত ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চিকনাই নদী টি নাটোর জেলার সতৈল বিল থেকে উৎপত্তি হয়ে চাটমোহর উপজেলা হয়ে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরায় বড়াল নদীতে গিয়ে মিশেছে।

নদীটি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণ ছিল। নদীর পাড়ের মানুষগুলি এই নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল,এক সময় নদী ছাড়া তাদের জীবন কল্পনা করাই যেত না। নদীতে বিভিন্ন কাজ,যেমন গোছল করা, কাপড় ধোয়া, হাড়ি পাতিল ধোয়া, মাছ ধরা,নতুন বউয়ের নাইয়োরে যাওয়া, নৌকায় যাতায়াত করা, নৌকায় মাল টানা, নৌকার মাঝিদের ভাটিয়ালি-জারি গান গাওয়া, জেলেদের মাাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা, ঝিনুক সংগ্রহ করে চুনারুদের জীবন নির্বাহ করা, গাংশালিক, কানাকুয়া, মাছরাঙ্গা, বক, শালিক, চা পাখি, ঈগল, বাজপাখি আর মাছ ও শুকের আনাগোনা আর কলকাকলীতে একসময় চিকনাই নদী সব সময় মুখরিত থাকতো।

প্রায় ৩৫ বৎসরের ব্যবধানে আজ চিকনাই নদী তার জৌলুস হারেতে বসেছে, মানুষের কাছে হার মেনেছে। আজ চিকনাই নদীর সেই স্রোতও নেই, পানিও নেই, নেই পাখি মাছ শামুক ঝিনুক নৌকার কলকাকলী আর মাঝি মাল্লাদের ভাটিয়ালি জারি গান। নতুন বউরা এখন আর নৌকায় নাইয়োরে যায় না, নদীতে গোছল করে না, গাংচিলরা আর উড়াউড়ি করে না, নদীতে ভরপুর মাছও থাকে না।

আজ চিকনাই নদী মৃতরুপ ধারন করেছে, পুরো নদী কচুরীপানাতে ছয়লাব, পানি দুষিত, পঁচা পানিতে মাছও নেই।

নদীর গতিপথ অপরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণই নদীকে মৃতমুখে ঠেলে দিয়েছে। তারপর নদীর ভিতরে ছোট ছোট বাদ দেওয়া, নদীতে কচুরীপানা বেঁধে রাখা, পাট জাগ দেওয়া এবং নদীতে বজ্য ফেলে নদীর পানি নষ্ট করা হয়েছে। বর্ষায় নদীতে ভরপুর কচুরীপানা থাকায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সর্বশেষ এই দুষনের মধ্যেও নদীতে যে মাছ থাকে সেগুলি সর্বনাশা কারেন্ট জাল দিয়ে এমনভাবে মাছ নিধন করা হয় যে মাছের ডিমগুলিও রেহাই পায় না। নদীতে ঘন ঘন এই জাল পাতা থাকে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় জনগন সচেতন না হলে এই জাল ব্যবহার রোধ করা যাবে না।

অন্তত বর্ষাকালে এই নদীর প্রান ফিরানো সম্ভব যদি নদীর পাড়ের মানুষগুলি সচেতন হয়ে নীচের কাজগুলি করেতে পারে।

১. কচুরীপানা নিজের ঘাটে বেঁধে না রাখা বা না হতে দেওয়া
২. নদীতে পাট জাগ না দেওয়া বা কাউকে দিতে বাঁধা দেওয়া
৩. শিল্প বজ্য নদীতে না ফেলা
৪. কারেন্ট জাল ব্যবহার না করা বা করতে বাঁধা দেওয়া
৫. পাখি, ব্যাঙ, কাঁকড়া, কচ্ছপ, কুচো না ধরা বা ধরতে বাঁধা দেওয়া

আমরা শুধু কালের সাক্ষী হয়ে রইলাম নদীর ভরা যৌবন দেখে এবং বিমর্ষ হৃদয়ে নদীর মৃতপ্রায় শেষ তটরেখা দেখার।

“একটি সুন্দর পৃথিবী আমরা রেখে যেতে চাই পরবর্তী প্রজম্মের জন্য”

You cannot copy content of this page