মৃত বাবা-মাকে মনে পড়লেই শুধু চোখ দিয়ে নীরবে অশ্রু ঝরে


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১১:৩০ AM /
মৃত বাবা-মাকে মনে পড়লেই শুধু চোখ দিয়ে নীরবে অশ্রু ঝরে

এতিম মরিয়মের কাঁধে শিশু ইসমাইল ও সংসারের বিশাল বোঝা

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খানমরিচ ইউনিয়ন মাদারবাড়িয়া গ্রামের কোমলমতি শিশু সন্তান এতিম মরিয়ম (১০) ও ইসমাইল(৬) এর পৈত্রিক বাড়ি। তাদের দুই চাচা মোঃ আবুল হোসেন আলী ও হোসেন আলী, তারা খুব অভাবী দিন আনে দিন খায়। তবুও তারা সাধ্য মতো চেষ্টা করছে দুই শিশু এতিম মরিয়ম ও ইসমাইলের জন্য, তারা যেন লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হয়।

যে সময়ে আনন্দ উল্লাস ও খেলাধুলা করে সময় কাটানোর কথা মরিয়মের। কিন্তু সেই সময়ে সে ছোট্ট ভাই ইসমাইল ও সংসার এর দায়িত্বে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ১০ বছরের মেয়ে শিশু সন্তান মরিয়ম।

বাবা ও মায়ের মৃত্যুর পর ৬ বৎসর বয়সী ছোট্ট ভাই ইসমাইল কে নিয়ে এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে মরিয়ম। এতিম মরিয়মদের থাকার মধ্যে আছে শুধু বসতভিট’র ওপর একটি জরাজীর্ণ ঘর ছাড়া কিছুই নেই তাদের।

এতিম মরিয়মদের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া গ্রামে। মরিয়ম স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ইসমাইল স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে সবেমাত্র।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ট্রোক করে তাদের হতদরিদ্র পিতা ওয়াজেদ আলী মারা যান। পিতার মৃত্যুর পর তাদের সংসার চালাইতেন মা আজিমা খাতুন।কিন্তু গত প্রায় ২৭ দিন আগে মায়েরও মৃত্যু হয়। তখনই এতিম হয়ে যায় শিশু সন্তান মরিয়ম ও ইসমাইল। আর এতিম মরিয়ম ও ইসমাইল এর জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকার জীবন। তখন এতিম মরিয়ম ও ইসমাইল দিশেহারা হয়ে যায়। এখন বাবা-মা ছাড়া জরাজীর্ণ একটি ঘরে কষ্টে জীবনযাপন করছে তারা। তাদের আপনজন বলতে রয়েছে দুই চাচা। কিন্তু তাদেরই সংসার ঠিকমতো চলে না,তারাই অভাবি। বর্তমানে এলাকার মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় চলছে দুই এতিম শিশু মরিয়ম ও ইসমাইলের জীবন।

এতিম মরিয়ম জানায়,“আমি ছাড়া দুনিয়ায় আমার ছোট্ট ভাইয়ের আপন আর কেউ নেই। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর আমিই ওর দেখাশোনা,লেখাপড়া,গোসল করানো,খাওয়া-দাওয়া, ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া সবকিছুই করি। মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়লে দুই ভাই-বোন খুব কান্না করি।”

চাচা মোঃ হোসেন আলী জানান, “আমার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী দুজনেই মারা গেছেন, এখন ওরা এতিম, আমি যতটুকু পারছি ওদের দেখাশোনা করার চেষ্টা করি। আপনারা সবাই যদি এতিম দুই শিশু সন্তানের পাশে এসে একটু দাঁড়ান তবেই ওদের মানুষের মত মানুষ করা সম্ভব হবে।”

ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাদারবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির জানান, “বাবা- মাকে হারিয়ে শিশু দুটো অসহায় হয়ে পড়েছে। এতিম মরিয়মকে এই বয়সে সংসার ও ভাইয়ের লেখাপড়া দুটোরই দায়িত্ব নিতে হয়েছে।”

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, “বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর এতিম শিশু মরিয়ম ও ইসমাইল অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে। ঐ এলাকার লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছে এবং আরো জানায় অসহায় এই শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কেউ তাদের দায়িত্ব নিলে খুব ভালো হত।”

You cannot copy content of this page