ভাঙ্গুড়ায় ডাঃ হালিমা খানম মুমূর্ষু প্রসব রোগীর জীবন রক্ষায় প্রশংসিত হয়েছেন


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ২:৫২ PM /
ভাঙ্গুড়ায় ডাঃ হালিমা খানম মুমূর্ষু প্রসব রোগীর জীবন রক্ষায় প্রশংসিত হয়েছেন

 

পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মোছাঃ সাথী খাতুন নামে এক নারীর প্রথমে প্রসব বেদনা শুরু হয়ে -পরবর্তী রক্তক্ষরণে মুমূর্ষু অবস্থায় বিভিন্ন বে-সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্নিকটে পৌঁছান। এই সংকটময় মুহূর্তে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ হালিমা খানম লিমা সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন।

ডাঃ হালিমা খানম লিমা সরকারি হাসপাতালে এসে দ্রুত চিকিৎসা ও অভিজ্ঞ নার্সদের সহযোগিতায় রোগীকে স্থিতিশীল করে তোলেন। মোছাঃ সাথী খাতুন(২৫), যিনি পাশ্ববর্তী পাবনার চাটমোহর উপজেলার সমাজ গ্রামের বাসিন্দা ও দুই সন্তানের মা জানান,“আল্লাহর রহমতে ডাঃ হালিমা খানম লিমা ও নার্সদের কারণে এখন বেঁচে আছি। ডাঃ হালিমা খানম সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ কৌশিক বলেন,“রোগীর অবস্থার কারণে তাকে অন্য কোথাও নেওয়া তখন সম্ভব ছিল না। ডাঃ হালিমার দূরদর্শী চিন্তাভাবনায় দ্রুত পদক্ষেপের কারণে মা ও সন্তান উভয়েই নিরাপদ হয়।”

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা মোঃ শামসুল হক,নার্সিং সুপারভাইজার সাহানা এবং স্থানীয়রা চিকিৎসক ডাঃ হালিমার এই মানবিক কাজে প্রশংসা জানিয়ে বলেন, সরকারি হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা ও সকল ডাক্তার এবং কর্মচারীদের আন্তরিকতার মাধ্যমে রোগীরা জীবনের নিরাপদ আশ্রয় পেতে পারেন।

ডাঃ হালিমা খানম লিমা বলেন, “রোগীটি মুমূর্ষু অবস্থায় আমার কাছে আনা হলে তৎক্ষণাৎ দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা সেবা শুরু করি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে,ইনশাল্লাহ। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ভ্রান্ত ধারণা পরিবর্তন হবে বলে আশা আমি করি। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় শুরু থেকেই মানুষকে নিজের মতো করে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে ভাঙ্গুড়ায় চিকিৎসা সেবার উন্নতির পেছনে সবারই অবদান আছে। আমৃত্যু মানুষকে এভাবে সেবা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা ও পদোন্নতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সাল থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। একাধিকবার নিজ উপজেলা (ফরিদপুর) বদলি হয়ে যেতে চাইলেও ভাঙ্গুড়ার সংবাদকর্মী, জনপ্রতিনিধি, গণমান্য ব্যক্তি, এমনকি সাধারণ মানুষের বারবার অনুরোধের জন্য যেতে পারিনি। এর পরও দুবার বদলি হয়েছিলাম; কিন্তু তাদের অনুরোধে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি।

You cannot copy content of this page