রসুলপুরে মাদ্রাসার পরিচালক ভণ্ড কবিরাজ আনোয়ার কর্তৃক শিক্ষার্থী বালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০২৫, ৩:৩৩ PM /
রসুলপুরে মাদ্রাসার পরিচালক ভণ্ড কবিরাজ আনোয়ার কর্তৃক শিক্ষার্থী বালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমাই ও কুমিল্লা :

মক্তবে পড়তে গিয়ে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানাধীন রসুলপুর দারুসসুন্নাহ নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আনোয়ার (৪০) কর্তৃক ১৩ বছরের এক শিক্ষার্থী বালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২৫শে অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখ, সকাল ৭.৩০ মিনিটের সময় লালমাই থানার রসুলপুর, বাকুই উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া (১৩) বছর বয়সী ওই ছাত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে লম্পট পরিচালক জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হীন লালসা চরিতার্থ করে  বলে জানা যায়। ছোট্ট ওই মেয়েটি স্কুলের পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান ও কোরআন শিক্ষার জন্য প্রতিদিন সকালে ঐ মাদ্রাসা ও এতিমখানার মক্তবের শিক্ষার্থীদের সাথে পড়তেন।

২৫শে অক্টোবর সকাল বেলায় ঐ বালিকা মক্তবে পড়তে গেলে প্রথমে মক্তবের হুজুরকে পরিচালক আনোয়ার মেয়েটিকে তার অফিস কক্ষ পাঠাতে নির্দেশ দেন। পরে মেয়েটিকে মক্তব শিক্ষক আনোয়ারের কাছে পাঠালে মক্তবের শিক্ষকের সাথে ওই বালিকা মেয়েটির অনৈতিক সম্পর্ক আছেন বলে মানুষিক ভাবে অপদস্ত করেন।

এর কিছুক্ষণ পরে নির্যাতিতা মেয়েটিকে মক্তবে পাঠিয়ে ১৫ মিনিট পরে আবারও ডেকে নিয়ে কোরআনের পড়া নেবেন বলে মক্তবে খবর পাঠান। এরপর আনোয়ার তার জৈবিক চাহিদা চরিতার্থ করার মানসে সূরা ইয়াসিন এর অর্ধেক পড়া নেওয়ার পর নানান ভাবে জ্বীন ভূতের কাল্পনিক গল্প শুনিয়ে ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে ধর্ষিতা ছাত্রী কারো কাছে কিছু বললে জ্বীন দিয়ে, পিতা-মাতাসহ ধর্ষিতা মেয়েটিকে জাদু টুনার মাধ্যমে বাণ মেরে পাগল করে মেরে ফেলবেন বলাতে শিশুটি দু”দিন মানুষিক ভাবে চুপচাপ অসুস্থ হয়ে নিজ ঘরে পড়ে থাকে।

শনিবারে আনোয়ার কর্তৃক ধর্ষণ হওয়ার পর ১সপ্তাহ যাবৎ আর মক্তব বা স্কুলে যাচ্ছিলোনা মেয়েটি এবং ধীরে ধীরে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন ধর্ষিতার মা তার আকস্মিক অসুস্থতা, নিশ্চুপ থাকা ও স্কুল- মক্তবে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মেয়েটি মক্তব ও এতিম খানার পরিচালক আনোয়ারের জ্বীন-ভূতের কল্প কাহিনী ও জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা মায়ের কাছে অকপটে স্বীকার করে। ঘটনা জেনে ধর্ষিতা মেয়েটির পরিবার স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশ করতে চাইলে উল্টো আনোয়ার ও আনোয়ারের পরিবার হুমকি ধামকি প্রদান করে। পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করে ৩০শে অক্টোবর ২০২৫ বৃহস্পতিবার বাড়িতে নিলে, পুলিশ এসে মেয়েটিকে ধর্ষণের আলামত হিসেবে পরনের কাপড় সহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমাই থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, মেয়েটিকে ১লা নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় থানায় দিয়ে আসলে রাতে থানায় রেখে সকালে হাসপাতালে ধর্ষণের মেডিক্যাল করানোর জন্য পাঠানো হবে বলে জানান।

রসুলপুর দারুসসুন্নাহ নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার পরিচালক ধর্ষক আনোয়ার কাতার প্রবাসী বলে জানা যায়। আনোয়ার নাটকীয় জ্বীন চালান ও কবিরাজি করেন বলে মাদ্রাসার শিক্ষক সহ স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ। ভণ্ড কবিরাজির আড়ালে এই ধর্ষণকাণ্ডে লম্পট মুখোশধারী আনোয়ারের ভিতরের জানোয়ার তথা তার আসল চেহারাটি প্রকাশ হয়েছে বলে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

কাতার প্রবাসী ধর্ষক আনোয়ার(৪০) লালমাই থানার বাকুই উত্তর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।

উক্ত ধর্ষণ বিষয় জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এলাকার স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানান, আনোয়ার কাতার প্রবাসী সে যে কোনো সময়ে কাতারে পালাতে পারেন। তাই তার আন্তর্জাতিক ই-পাসপোর্ট জব্দপূর্বক তাকে আটক করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।

S/A+ J+K

You cannot copy content of this page