নায়েব প্রেম চরণ রায়ের চন্ডিপুর ভূমি অফিস এখন ঘুষ দুর্নীতির আখড়াই পরিণত, ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল 


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৫, ৮:১৩ AM /
নায়েব প্রেম চরণ রায়ের চন্ডিপুর ভূমি অফিস এখন ঘুষ দুর্নীতির আখড়াই পরিণত, ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল 
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর:

রাজস্ব সার্কেল পার্বতীপুর ভূমি অফিসের নিয়ন্ত্রনাধীন চন্ডিপুর ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা নায়েব প্রেম চরণ রায় এর দপ্তর এখন পরিণত হয়েছে ব্যাপক ঘুষ দূর্নীতি আর নামজারি বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে।
প্রতি কর্মদিবসে তাঁকে দেখা যায় দালাল পরিবেষ্টিত অবস্থায়  অফিস টাইমের বাইরেও  ভূমি অফিস চালু রেখে ব্যস্ত সময় পার করতে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, নামজারীতে সমস্যা আছে বলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে টেনে নেন ২০/৩০ হাজার থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ দেড় লাখ টাকা। এছাড়া ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা  ভায়া দলিলের ক্ষেত্রে হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ।

ভূক্তভোগী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন আমার নামের বানান ভুল আছে এবং দাগ নাম্বারে সমস্যা আছে বলে  আমার কাছ থেকে ডিসিআরএর ১১৭০ টাকা বাদেও হাতিয়ে নিয়েছে ৫০ হাজার টাকা। মূলত: এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল।

ভূমি কর্মকর্তা প্রেম চরণের মূল বাণিজ্য নামজারী, এপি, ভিপি, এলএ, পেরীফেরীভূক্ত, ফিরনিবাস বরাদ্দ নবায়ন। এছাড়া  তদন্ত রিপোর্টের নামেও তিনি বেশুমার ঘুষ দুর্নীতি অব্যহত রেখেছেন বলে জানা যায়।

আর এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে তাঁকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে তাঁর সৃষ্ট সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট ও তার কথিত সহকারী এবং দলিল লেখক সমিতির কতিপয় মহুরার।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, দালালদের সাথে নিয়ে সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা বেলাতেও ধুমসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে কোনো গ্রাহক বা ভূক্তভোগীকে এখানে সরাসরি ঢুকতে দেওয়া হয়না। যদি কোনো গ্রাহক বা ভূক্তভোগী কোনো কাজে অফিসে ঢুকে পড়লে তাকে সুকৌশলে বেড় করে দিয়ে দালাল বা দলিল লেখকদের সাথে কথা বলার ইঙ্গিত করা হয়।

এসিল্যান্ড মাহমুদ হুসাইন রাজু মহোদয়ের কঠোর নির্দেশ গ্রাহক ছাড়া কোনো দালাল ভূমি অফিসে ঢুকবে না। অথচ এই আদেশ তোয়াক্কা করছে না নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ভূমি কর্মকর্তা প্রেমচরণ রায়। তার চলন বলন আর ভাবভঙ্গি দেখলে মনে হবে, এটি কোনো সরকারি অফিস নয়, যেনো এটি তার আড্ডাবাজির বৈঠকখানা। আর কথায় কথায় বলেন “” কোনো এসিল্যান্ড বা ভূমি কর্মকর্তা নয়, এখানে আমার কথায় শেষ কথা” বাদবাকি সব হুকুমের গোলাম।
আর তাই প্রতি কর্ম দিবসেই কতিপয় দালাল ও দলিল লেখক সমিতির লেখকদের সাথে বিভিন্ন কাজের বিষয়ে তাকে প্রকাশ্যে দর কষাকষি করতে দেখা যায়।।
একাধিক ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রেম চরণ বাবুর অফিসে দালাল বা দলিল লেখকদের না ধরলে এই অফিসে কোনো কাজই হয়না।

চতুর ভূমি কর্মকর্তা প্রেম চরণ রায়  বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে নিজেকে শেখ হাসিনার কাছের মানুষ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে তার কর্মস্থলগুলোতে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। যা এখনো চলছে বহাল তবিয়তে। আর এভাবেই ঘুষ দুর্নীতির টাকায় প্রেম চরণ নামে বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে জুলাই -আগস্ট ২০২৪ নায়েব প্রেম চরণ রায় কতিপয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের মাঝে মোটা টাকা লগ্নী করেন বলে চন্ডিপুর এলাকাবাসী জানান।

এছাড়া জলমহাল, বালুমহাল ও হাটচাঁদনী বরাদ্দ নবায়নেও তিনি বড়ো ধরনের ঘাপলা ও তদবির বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এতে ব্যক্তিগতভাবে ভূমি কর্মকর্তা লাভবান হলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

তাই এই অফিস থেকে ভূমি কর্মকর্তা প্রেম চরণ কে  অনতিবিলম্বে অপসারণ ও তাঁর অবৈধ সম্পদের খোঁজ তল্লাশী নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।।

এ বিষয়ে আগামীকাল বিস্তারিত পড়ুন জাতীয় দৈনিক এই আমার দেশ ও আজকের পেপার এর প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।

বি: দ্র: এই প্রতিবেদনে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রশ্নে আপনার বক্তব্য আজ অতিসত্বর জানাবেন বলে আশাকরি।

You cannot copy content of this page