দেশের সর্ববৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনাতে হঠাৎ কেজিতে দাম বাড়লো ৪০ টাকা


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৭, ২০২৫, ৩:২২ PM /
দেশের সর্ববৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনাতে হঠাৎ কেজিতে দাম বাড়লো ৪০ টাকা

 

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, পাবনা প্রতিনিধি:

পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষতম এলাকা পাবনায় মৌসুমের শেষের দিকে এসে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৬ই নভেম্বর) সকালে পাবনার বড়বাজার, লাইব্রেরি বাজারসহ কয়েকটি মোকামে সরজমিনে এর সত্যতা মিলেছে। এতে করে প্রতিবারের ন্যায় সিন্ডিকটদের পোয়াবারো হলেও সাধারণ মানুষ হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

পাবনার বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহে অর্থাৎ ৩০ ও ৩১ অক্টোবরেও প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ৫ই নভেম্বর থেকে তা বিক্রি হচ্ছে ১০৫- ১১০ টাকা দরে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় অংশ উৎপাদন হয় পাবনায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ প্রায় শেষের দিকে। আবার পেঁয়াজের মৌসুমও শেষ। ফলে কৃষকের ঘরে থাকা পেঁয়াজের মজুত একেবারেই কমে গেছে। এতে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় অস্বাভাবিকভাবে মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে।

বড় বাজারের পেঁয়াজের একজন ব্যবসাদার বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে পেঁয়াজের বাজার ঠিকই ছিল। গত ৬/৭ দিন আগে হুট করেই কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা হয়। এরপর ৫-১০ টাকা করে বাড়তে বাড়তে আজ ১১০ টাকায় ঠেকেছে। এখন চাষির ঘরে পেঁয়াজ নাই। মুড়িকাটা রোপণ শেষ। তবে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ পাবনার বাজারে আসবে এবং তা ছড়িয়ে যাবে সারাদেশে।

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, এখন মাসের প্রথম সপ্তাহ চলে। অনেকেই মাসিক বাজার করছেন। এ জন্য পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। কিন্ত বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকাই আমাদেরকে অনেক জবাবদিহি করতে হচ্ছে। অনেক সময় দীর্ঘদিনের চেনাজানা কাস্টমারদের সাথেও বিতর্ক ও ঝগড়া লেগে যাচ্ছে, এতে করে আমরা বিব্রতবোধ করছি।

শুধু সরবরাহ ঘাটতিতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি মানতে নারাজ রেগুলার ক্রেতারা। তারা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগানো শুরু হয়েছে ৩-৪ সপ্তাহ আগে। ইতোমধ্যে প্রায় লাগানো শেষ। তাহলে হুট করে তিন থেকে চারদিনের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক বিষয় নয়।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ আসলেই কমে গেছে। তবে বাঁধাই বা মজুত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। তারা প্রতিবছর এই সময়টাতে পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে দিয়ে মোটা অংকের মুনাফা লুটে নেন। এটা তাদেরই ধারাবাহিক কারসাজির অংশ কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক ও ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকীর তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।।

You cannot copy content of this page