
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ঢাকা:
বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী ৫ বছর বয়সী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার। ঢাকার উত্তরা খ্যাত বহুল আলোচিত সাব রেজিস্ট্রার ও পতিত স্বৈরাচার পলাতক শেখ হাসিনার পেতাত্মা সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার৷ চাকরীজীবনের শেষ বর্ষে রাজধানীর উত্তরা থেকে বদলি করা হয় নীলফামারী জেলার জলঢাকাতে। এখানে যোগদান করেই চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী ঘুষ দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত করেন জলঢাকা সাব রেজিস্ট্রি অফিসকে। দলিল প্রতি তার চাহিদা পূরণ করতে যেয়ে, তার অফিস স্টাফ থেকে শুরু করে দলিল লেখক সমিতির নেতারাও ত্যক্ত বিরক্ত। ভূক্তভোগী দলিল দাতা গ্রহীতারাও রয়েছে মহা আতঙ্কে। তার ঘুষ দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে জলঢাকায় একাধিকবার মানবন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মলেন করেছে ভূক্তভোগীরা। তবে তাতেও বিন্দুমাত্র সতর্ক না হয়ে লুৎফর রহমান মোল্লা তার লুটপাট বাণিজ্য মহাসমারোহে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে। ভূক্তভোগীরা সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার শাস্তি ও বিচার দাবিতে জেলা রেজিস্ট্রার এর নিকট অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ তিনি (DR) গ্রহণ করেননি।

ঘুষ দুর্নীতি ও জাল দলিল বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড লুৎফর রহমান মোল্লা মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ভূয়া শিক্ষা সনদে ২০০৯ সালে চড়ামূল্যে বাগিয়ে নেন সাব রেজিস্ট্রারের মতো লোভনীয় পদ। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।
ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার ও শীর্ষতম কালোটাকার পাহাড় গড়ে তোলাদের মধ্যে বহুল আলোচিত বরিশালের অসীম কল্লোল, ধানমন্ডি খ্যাত আবুল হোসেন, নরসিংদী সদর থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া সোহরাব হোসেন সরকার, রূপগঞ্জ খ্যাত খোন্দকার গোলাম কবির, নোয়াখালী আবু হেনা মোস্তফা কামাল, রংপুর সদর ও পীরগাছার আলোচিত সাব রেজিস্ট্রার রাম জীবন কুন্ডু, বাগেরহাট মোংলার স্বপন কুমার দে, কিশোরগঞ্জ সদর খ্যাত মিনতী দাস (বর্তমানে ফরিদপুর সদর) ও মিনতী দাসের স্বামী পরিতোষ দাস, ধামরাই কামালপুর খ্যাত মঞ্জুরুল আলম ( বর্তমানে লালমোহন ভোলা), মো: ফারুক পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া খেপুপাড়ার কাজী নজরুল ইসলাম, কালিয়াকৈর ও টাঙ্গাইল খ্যাত নুরুল আমিন তালুকদার, কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরের শ্রীপুর খ্যাত বর্তমানে কাপাসিয়ার সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল, নওগাঁ থেকে সম্প্রতি অবসরে যাওয়া মুক্তিয়ারা খাতুন প্রমূখদের ন্যায় লুৎফর রহমান মোল্লাও এখন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। নামে বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। রয়েছে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ।

১লা জানুয়ারি ১৯৬৬ সালে মাদারীপুরে কৃষক পরিবারে জন্ম নেন লুৎফর রহমান মোল্লা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লুৎফর রহমান মোল্লার বয়স ছিলো ৫ বছর।। অনেক কষ্টে গ্যাপ দিয়ে দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেও বিএ পাশ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তাঁর একজন প্রতিবেশী । অথচ মোটা অংকের টাকা ও আওয়ামী নেতাদের তদবিরে তৎকালীন মন্ত্রী আমিনুল ইসলামকে ম্যানেজ করে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও বিএ পাশের ভূয়া সনদে হাতিয়ে নেন সাব রেজিস্ট্রার পদ।

২০০৯ সালের ৭ই ডিসেম্বর চাকরি পেয়ে খুলনার তেরখাদায় তাঁর প্রথম পোস্টিং হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে খুলনার- ফুলতলা, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর, সাতক্ষীরা সদর, মাগুরা সদর, ঢাকার ধানমন্ডি, কিশোরগঞ্জ সদর, মুকসুদপুর, আবার ঢাকার উত্তরায় এসে শেখ হাসিনার পেতাত্মাদের তথা শীর্ষ আওয়ামী নেতাদের মিশন সাকসেস করতে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন লুৎফর রহমান মোল্লা।। ওইসময় ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে এ্যানিমি প্রোপার্টি, সরকারী খাসজমিসহ অসংখ্য জমি আওয়ামী নেতা, এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ডেভলপার কোম্পানির নামে রেজিষ্ট্রেশন করে দেন।

সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা জালজালিয়াতি ও অবৈধ ভাবে ঘুষ বাণিজ্য করে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার তরমুগুরিয়া মাষ্টার কলোনীতে। বর্তমানে তিনি ঢাকা শহরের শান্তিনগরে অবৈধ টাকায় ক্রয়কৃত নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। এছাড়া মাদারীপুরে তার রয়েছে মাছের ঘের, ইট ভাটা, মাইন্ডিং মিল, মার্কেট,হাসপাতাল ও ৮ শতাংশ জমির উপর ৬ তলা বাড়ি,মাদারীপুর শহরে দু’টি ৫ তলা বাড়ি, ঢাকা শান্তিনগরে রয়েছে দু’টি ফ্ল্যাট, ধানমন্ডি ফ্ল্যাট, বড় বড় হাউজিং কোম্পানিতে রয়েছে শেয়ার হোল্ডার এবং চড়ে বেড়ান ৩টি বিলাসবহুল গাড়িতে যার এক একটি গাড়ির দাম কোটি টাকা।

তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে লুৎফর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে একটি ১০ তলা ভবনের ২৭টি ফ্ল্যাট একত্রে জমির অংশ হিসাবে রেজিস্ট্রি করে ব্যাপকভাবে সংবাদ শিরোনাম হন তিনি
সাতক্ষীরা সদরে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতির দায়ে তিনি এক পর্যায়ে কারাভোগ করেন।
২০০৯ সালের ৭ই ডিসেম্বর মো. লুৎফর রহমান মোল্লা সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। শর্তানুযায়ী ২০২৪ সালের ১৮ই ডিসেম্বর তার পিআরএলে যাওয়ার কথা। তবে মাঝ বয়েসে চাকরী পাওয়াদের মধ্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের এক বছর করে চাকরির মেয়াদ বর্ধিত করতে তৎকালীন আইনমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে এক প্রজ্ঞাপন জারি রয়েছে। তবে লুৎফর রহমান মোল্লা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও অপর ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলদের মতো BRSA( বাংলাদেশ রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন) এর শীর্ষ নেতা চট্টগ্রামের জেলা রেজিস্ট্রার জামিলুর রহমান, মুন্সিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার রমজান আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাদের মাধ্যমে ২ কোটি টাকা লগ্নী করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি এক বছর বর্ধিত করে নিয়েছেন। ( চলবে)

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত পড়ুন আগামীকাল জাতীয় দৈনিক এই আমার দেশ ও আজকের পেপার পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :