
প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, পাবনা প্রতিনিধিঃ
বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় রবি মৌসুমের রবি শস্য সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের বৃহত্তম জলাভূমিতে। বর্ষার পানি নেমে গিয়ে চারদিকে দেখা দিচ্ছে চিরচেনা মাঠ। এই সুযোগে মাঠে নেমে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। শরতের শেষ ভাগে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সরিষা চাষের প্রস্তুতিতে।
চলনবিল অঞ্চলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপড়া, শাহজাদপুর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও পাবনার চাটমোহর ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের জমি এখন প্রস্তুত, বীজ বপন ও আগাছা পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত। কেউ জমিতে চাষ দিচ্ছেন, কেউ বা আগাম জাতের সরিষা বপন করছেন।
তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, বর্ষার পানি নামতেই জমি শুকাতে শুরু করেছে। এখনই সময় সরিষা বপনের। আমরা আগাম জাতের সরিষা বুনলে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ফুল আসবে এবং জানুয়ারিতে ফলন পাবো।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের কৃষক মোঃ আয়নাল সরদার বলেন, এই মৌসুমে সরিষার আবাদ যথা সময়ে শুরু হচ্ছে,তাই আমরা আগাম সরিষা জমিতে বপন করে আগাম সরিষা ঘরে তুলবো।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলনবিল এলাকায় এ মৌসুমে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় অনেক অনাবাদি জমিও এবার আবাদে আনা সম্ভব হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, চলনবিল অঞ্চলের মাটি, তেল, বীজ ফসলের জন্য বেশ উপযোগী। আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি উন্নত জাতের সরিষা চাষে। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং তেলের চাহিদা পূরণে স্থানীয়ভাবে অবদান রাখবে।
এ দিকে মাঠজুড়ে কৃষকের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে চলনবিল অঞ্চল। চারদিকে হালচাষ, বীজ বপন আর কৃষকের ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে চলনবিলের মাঠ। কৃষকেরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার ফলন হবে বাম্পার।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :