
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজস্ব সার্কেল আমিন বাজার ভূমি অফিসের নিয়ন্ত্রনাধীন কান্দি বলিয়ারপুর ভূমি অফিস এখন পরিণত হয়েছে ব্যাপক ঘুষ দূর্নীতি আর রমরমা বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে। তাই প্রতি কর্মদিবসে তাঁকে দেখা যায় দালাল পরিবেষ্টিত অবস্থায় অফিস টাইমের বাইরেও রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত ভূমি অফিস চালু রেখে ব্যস্ত সময় পার করতে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, নামজারীতে সমস্যা আছে বলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে
নজরুল ইসলাম হাতিয়ে নেন ২০/৩০ হাজার থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে টেনে নেন ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা। এছাড়া ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা ভায়া দলিলের ক্ষেত্রে হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ।
ভূক্তভোগী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন আমার নামের বানান ভুল আছে এবং দাগ নাম্বারে সমস্যা আছে বলে আমার কাছ থেকে ডিসিআরএর টাকা বাদেও হাতিয়ে নিয়েছে দেড় লাখ টাকা। মূলত: এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল।

ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের মূল বাণিজ্য নামজারী, এপি, ভিপি, এলএ, পেরীফেরীভূক্ত, ফিরনিবাস বরাদ্দ নবায়ন এবং তদন্ত রিপোর্টের নামেও তিনি বেশুমার ঘুষ দুর্নীতি অব্যহত রেখেছেন বলে জানা যায়।
এছাড়া জলমহাল, বালুমহাল ও হাটচাঁদনী বরাদ্দ নবায়নেও তিনি বড়ো ধরনের ঘাপলা ও তদবির ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এতে ব্যক্তিগতভাবে ভূমি কর্মকর্তা লাভবান হলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
আর এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে তাঁকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে তাঁর সৃষ্ট সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট ও তাঁর কথিত সহকারী এবং দলিল লেখক সমিতির কতিপয় মহুরার।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ভূমি কর্মকর্তা দালালদের সাথে নিয়ে সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা বেলাতেও ধুমসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো গ্রাহককে এখানে সরাসরি ঢুকতে দেওয়া হয়না। যদি কোনো গ্রাহক বা ভূক্তভোগী কোনো কাজে অফিসে ঢুকে পড়লে তাকে সুকৌশলে বেড় করে দিয়ে দালাল বা দলিল লেখকদের সাথে কথা বলার ইঙ্গিত করা হয়।
আমিন বাজার সার্কেল এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খান সাহেবের কঠোর নির্দেশ গ্রাহক ছাড়া কোনো দালাল ভূমি অফিসে ঢুকবে না। অথচ এই আদেশ তোয়াক্কা করছে না ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। এই অফিসে তাঁর চলন বলন আর ভাবভঙ্গি দেখলে মনে হবে, এটি কোনো সরকারি অফিস নয়, যেনো এটি তাঁর অবৈধ টাকা কালেকশন ও আড্ডাবাজির বৈঠকখানা। আর এই ধারাবাহিকতা চলে আসছে টানা এক দশক ধরে।
তাই এখানে নজরুল ইসলামের কথায় শেষ কথা, বাদবাকি সব হুকুমের গোলাম।
আর তাই প্রতি কর্ম দিবসেই কতিপয় দালাল ও দলিল লেখক সমিতির লেখকদের সাথে বিভিন্ন কাজের বিষয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে ঘুষের টাকার দর কষাকষি করতে দেখা যায়।।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, নায়েব নজরুল সাহেবের অফিসে দালাল বা দলিল লেখকদের না ধরলে এই অফিসে কোনো কাজই হয়না।

ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে নিজেকে শেখ হাসিনার কাছের মানুষ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁর কর্মস্থলে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে আমিনবাজারের কান্দি বলিয়ারপুর ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন কাজে আসা সেবা প্রার্থীরা চরম হতাশায় অপেক্ষা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এই অফিসে কোনো কাজের জন্য গেলেই দালালদের শরণাপন্ন হতে হয়। দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরেও কোনো কাজ হয় না। তাঁরা আরও জানান, ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না, কারণ এতে ভবিষ্যতে নিজেদের জমির কাগজপত্রে আরও বড় ধরনের ঘাপলা তৈরি হতে পারে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নামজারি বা খারিজের আবেদনের ক্ষেত্রে কেউ যদি নিয়ম মেনে সরাসরি আবেদন করেন এবং ঘুষ না দেন, তখন এই ভূমি অফিস থেকে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। যেমন—জমির দাগ নম্বর ভুল লেখা বা হোল্ডিং নম্বর নেই বলে উল্লেখ করে এসিল্যান্ড মহোদয়কে ইচ্ছেকৃতভাবে বিব্রত করা হয়।
তখন ভুল প্রতিবেদনের কারণে এসিল্যান্ড অফিস থেকে আবেদনটি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগী পুনরায় ভূমি অফিসে ফিরে এলে দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।

এ বিষয়ে আগামীকাল বিস্তারিত পড়ুন জাতীয় দৈনিক এই আমার দেশ ও আজকের পেপার এর প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।।
বি: দ্র: তিনপর্বের এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রশ্নে আপনার বক্তব্য আজ অতিসত্বর জানাবেন বলে আশাকরি।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :