আদাবাড়ীয়া ভূমি অফিসে ঘুষ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড তহশিলদার ইলিয়াস হোসেন


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১২:৪১ PM /
আদাবাড়ীয়া ভূমি অফিসে ঘুষ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড তহশিলদার ইলিয়াস হোসেন

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

রাজস্ব সার্কেল দৌলতপুর কুষ্টিয়ার নিয়ন্ত্রনাধীন আদাবাড়ীয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষ-দুর্নীতি ও হাজারো অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামীলীগের দোসর ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইলিয়াস হোসেন নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে সেবাকে রূপ দিয়েছেন অভিনব ঘুষ বাণিজ্যের মোড়কে।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। অথচ দালালদের হাত দিয়ে টাকা গেলে মুহূর্তেই ফাইল উধাও হয়ে আবার জাদুর মতো হাজির হয়ে যায় এসিল্যান্ড এর সহি- স্বাক্ষর সহকারে

এ অফিসে দু’ডজন চিহ্নিত দালালের পৃষ্ঠপোষক ও হাজারো দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড ইলিয়াস হোসেন নিজেই।
তাঁর ওইসব পোষ্য দালালদের মাধ্যমে সুকৌশলে সাধারণ মানুষের ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইঙ্গিতে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। এই দালাল চক্র অফিসের ভেতর ও বাইরেই নির্দ্বিধায় ঘোরাফেরা করে।

ভূমি নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, দলিল ভেরিফিকেশনসহ সব কাজেই এ অফিসে ঘুষ লেনদেন প্রকাশ্যে দরকষাকষির মাধ্যমে। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ
“আমাদের খোলাখুলি বলা হয়, টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে থাকবে।” এসিল্যান্ড স্যারের কাছে নালিশ করলেও লাভ হবেনা, কারণ আমি সবজায়গায় সিস্টেমে কাজ করি।

প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সাধারণ মানুষ সেবা পান না। ফাইল খোঁজা, রেকর্ড বের করা, সিল-সাইন করানো—সবকিছুতেই টালবাহানা চলে। অথচ টাকার বিনিময়ে দালালের ফাইল সরাসরি কর্মকর্তার টেবিলে পৌঁছে যায়। মিটে যায় সব ঝামেলা। মূলত: রেকর্ড রুমে প্রতিদিন গোপনে ঘুষ লেনদেন হয় বলে অভিযোগ। কিছু ফাইল ‘হারিয়ে যাওয়া’ নাম দিয়ে জিম্মি করা হয়, পরে মোটা অঙ্কে আবার সেই হারানো ফাইল “” অলৌকিক কায়দায় হাজির করা হয়””।

আদাবাড়ীয়া ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন যাবৎ ইলিয়াস হোসেনের ইশারায় নকল দলিল, জাল খতিয়ান তৈরি ও ভূয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কাজও দালাল চক্রের মাধ্যমে হয়, কর্মকর্তাদের নীরব সম্মতিতে। আর মাঝখানে হাতবদল হয় লক্ষ লক্ষ টাকা।

এ অফিসে সরকারের ডিজিটাল ভূমি সেবার ব্যবস্থা থাকলেও অফিসে সেটিকে জটিল করা হয়েছে। অনলাইন ফাইল ‘প্রসেসিং ফি’র নাম করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে পর্চা বা এনআইডির ভুল দেখিয়ে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নতুন করে হাতিয়ে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় ভূমি কর্মকর্তা ইতোমধ্যে হয়েছেন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। অফিসের সিন্ডিকেটভূক্ত দালাল চক্রও উঠেছে।ল ফুলেফেঁপে।
এক ভুক্তভোগী জানান “সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঘুরেছি। কর্মকর্তা ইলিয়াস স্যার কথাই শুনলেন না। নামজারির ১১৭০ টাকা বাদেও ইলিয়াস স্যারকে ৩ হাজার টাকা দিতে চাইলাম, তাও নিলেন না। যাদের হাতে ১৫/২০ বা ২৫ হাজার টাকা ছিলো তাঁদের কাজ মুহূর্তেই সমাধান হয়ে গেল।”

আরেকজন বলেন:
“আমাদের সরাসরি বলা হয়—‘টাকা দেন, না হলে কাজ হবে না’। এভাবে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে ঘুষ দিতে হয়।”

এসব বিষয়ে এসিল্যান্ড প্রদীপ কুমার দাশ এর এই মোবাইলে কল করা হলে তিনি বলেন,
আমি নতুন জয়েন্ট করেছি মাত্র। ইতিমধ্যে কয়েক জনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসছে বলে জানান, তিনি তাদের বিরুদ্ধে আগামীকাল থেকে সরেজমিনে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

সুশীল সমাজ মনে করে, সরকারি দপ্তরে দালাল ও ঘুষ বাণিজ্য দেশের সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ভূমি আইনজীবীরা বলছেন, ভূমি অফিসের দুর্নীতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। কঠোর জবাবদিহি ও নজরদারি ছাড়া এ থেকে মুক্তি নেই।

You cannot copy content of this page