
আহসান হাবিব মিলন, রংপুর ব্যূরো:
রংপুর মহানগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াটারী এলাকায় বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাঁশের দুর্বল মাচায় কাজ করার সময় রবিউল (৪৫) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু -এই অনিয়মকে নতুন করে সামনে এনেছে। নিহত রবিউল বড়বাড়ি এলাকার মনোয়ার মিয়ার ছেলে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, সিডিডি হাউজিং প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন প্রায় অর্ধশতাধিক ভবনে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট। বেশিরভাগ ভবনই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে এবং ছাদ ঢালাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা হচ্ছে বাঁশের ভঙ্গুর মাচার ওপর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচতলা ভবনে কাজ করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান শ্রমিক রবিউল। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনার পর ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে লুমেন বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
তবে স্থানীয়রা মনে করেন, এই ‘মীমাংসা’ ভবনগুলোর ঝুঁকি কমাতে কোনো ভূমিকা রাখেনি। তাদের দাবি, এখনো ওই সব নির্মাণাধীন ভবন ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তবে যে’ কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এদিকে ভূমিকম্পে বাড়ছে জনমনে ক্ষতির আশঙ্কা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় নগরবাসীর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ভাষ্য, দেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ছে, আর এ অবস্থায় বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে দুর্বল কাঠামোর ভবন নির্মাণ নগরবাসীর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।
তাদের মতে, লুমেন বিলডার্স, কম্বিনেশন বিলডার্স, দরবার প্রোপার্টিজ ও টুইলাইট বিল্ডার্স
মমতা প্রোপার্টিজ,নবটেক,আর এ ডিএল বিল্ডার্সসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও বাঁশের মাচা দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। এছাড়া কৃষিজমি কম দামে কিনে সেখানে অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ করায় পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, ভবন নির্মাণের প্রতিটি ধাপে সরকারি তদারকি থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তারা বলেন, অডিট, ডিজাইন অ্যাপ্রুভাল ও তদারকি সঠিকভাবে করা হলে কোনোভাবেই এ ধরনের মাচায় কাজ করার সুযোগ থাকতো না।
এ অবস্থায় তারা নির্মাণাধীন সব ভবনের নিরাপত্তা যাচাই, বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে রংপুর মহানগরীতে এক সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
তবে এবিষয়ে সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান প্রকৌশলী আযম আলীর তেমন দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশন থেকে নকশা অনুমোদন দেয়ার পর আমরা সিভিল ইন্জিনিয়ার দিয়ে বাড়ির কাজ করার পরামর্শ দেই। এরপরেও তারা লোকাল মিস্ত্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে বিল্ডিং কোড আইন
অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণে আইনগত ব্যবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি অকপটে এড়িয়ে যান।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :