
মোঃ রাকিবুল হাসান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:
প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন রূপ নিয়েছে এক গভীর শোক ও ক্ষোভে। বেতন বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের বর্বরতায় গুরুতর আহত চাঁদপুরের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো শিক্ষক সমাজ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজ ক্যাম্পাসের মাঠে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। কিন্তু সেই পেশার মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেমে প্রাণ দিতে হলো ফাতেমা আক্তার (৪৫) নামের এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে। গত ৮ই নভেম্বর, শনিবার বিকেলে ১০ম গ্রেডের দাবিতে ঢাকার এক সমাবেশে আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন।
ফাতেমা আক্তার, ইডেন মহিলা কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী এবং মতলব উত্তরের ৫নং ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। দুই সন্তানের জননী এই শিক্ষিকা, তিনদিন ধরে মিরপুর অলক হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মেনেছেন। তাঁর স্বামী ডি. এম. সোলেমান এবং পরিবার শোকে স্তব্ধ।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আজ উত্তাল হয়ে উঠেছে তেজগাঁও কলেজ প্রাঙ্গণ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং বর্বরতার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি (অর্নব) বলেন, “আমরা আমাদের শিক্ষকদের সমাজে গাছ হিসাবে উপস্থাপনা করি, আমরা বলি শিক্ষকরা আমাদের গাছ আর আমরা সেই গাছের পাতা। আজ যদি পুলিশ আমাদের শিক্ষকদের হত্যা করে, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীরা পাতার মত ঝরে পড়বো। রাষ্ট্র যদি শিক্ষকদের নিরাপত্তা না দিতে পারে, তবে ছাত্র সমাজের পতন অনিবার্য।”
আরেক শিক্ষার্থী ফাইয়াজ বলেন, “যারা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করে, সেই শিক্ষকদেরকেই নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামতে হয়। ফাতেমা ম্যাডামের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।”
শিক্ষার্থীরা জোরালো কণ্ঠে দাবি জানান, “সরকারকে অবশ্যই ফাতেমা ম্যাডামের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পূর্ণ পেনশন নিশ্চিত করতে হবে। যতদিন না বিচার পাব, আমাদের আন্দোলন চলবে।”
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এখন #JusticeForFatemaMadam হ্যাশট্যাগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছাবে এবং ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুর সঠিক বিচার নিশ্চিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :