

সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
গাজীপুর বিআরটিএ (BRTA) অফিসে দুর্নীতিবাজ অফিস সিন্ডিকেট ও দালালদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত রয়েছে। অবাধে চলছে ঘুষ দুর্নীতি। সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি AD এস.এম মাহফুজুর রহমান। ইতোপূর্বে তিনি ঝালকাঠি ও পিরোজপুর বিআরটিএ সার্কেলে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতি করে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের একজন অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তাকে দিয়ে ” গোপন সিঁড়ি ব্যবহার” করে উপঢৌকনের মাধ্যমে থিতু হন গাজীপুর সার্কেলে।
সহকারী পরিচালকের (নীরব সম্মতি) সবুজ সংকেতে গাজীপুর BRTA’র সকল ঘুষ দুর্নীতি এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন। আর প্রতিদিন অফিস শেষে রাত সাড়ে সাতটা আটটার দিকে নিজের ভাগ বুঝে নিয়ে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন:) S.M Mahfuzur Rahman থাকছেন ঠুটোঁ জগন্নাথ হয়ে!!!

Bangladesh Road Transport Authority ( BRTA) গাজীপুর সার্কেলে ঘুষ বাণিজ্যের শীর্ষতম আলোচিত খাত “” পরীক্ষা বোর্ড বাণিজ্য “”। এই খাতে মোটরযান পরিদর্শকের নেতৃত্বে রয়েছে অফিস স্টাফ, নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও অর্ধশতাধিক সক্রীয় দালাল।
আগত সেবাপ্রার্থীদের অধিকাংশই অফিসিয়াল নিয়ম-কানুন জানেন না। ফলে হয়রানি এড়াতে এরা দালালদের দারস্থ হন। কর্মকর্তারা বোর্ডে পাস কার্ড বাবদ দালালদের মাধ্যমে প্রার্থীপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ টাকা গুণে বুঝে নেন। তবে কালেভদ্রে দু’একজন প্রার্থীকে নিজ দক্ষতায় বিনা টাকায় উত্তীর্ণ হতে দেখা যায়। তবে দালালদের সর্দারগোছের একজন বললেন, এটা স্যারেদের লোকদেখানো অপকৌশল। এভাবে ঘুষ দুর্নীতি ব্যালেন্স করা হয়!!!!

কীভাবে এবং কখন এডি বা মোটরযান পরিদর্শকের কাছে আপনারা টাকা জমা করেন?? উত্তরে বেশ ক’জন দালাল বললেন স্যারেদের মোবাইল নাম্বার আমাদের কাছে আছে, কথাও হয়। তবে টাকা আমরা সরাসরি না দিয়ে স্যারদের মনোনীত ক্যাশিয়ার (উমেদার), অফিস সহায়ক স্বপন হোসেন বা অফিস স্টাফদের হাতে দিই। সেখান থেকে ইন্সপেক্টর আরিফিন স্যার সব টাকা বুঝে নিয়ে তারপর বড়ো ছোটো পদ অনুযায়ী ভাগ-বাটোয়ারা করে দেন।

বেশ কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, তারা দালালদের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ও ব্যাংকে ফি জমা দিয়েছেন। দালালরা সাধারণত বোর্ডের টাকাসহ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেন।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, গাজীপুর বিআরটিএতে বর্তমানে সপ্তাহে একটি বা দুটি পরীক্ষার বোর্ড বসে। মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। সে হিসেবে প্রার্থীর কাছ থেকে ৩/৪ হাজার টাকা করে নেন পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন। এতে মাসে আদায়কৃত ঘুষের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ থেকে-৩০ লাখ টাকা। অন্যান্য খাত যেমন নবায়ন, ফিটনেস, রোড পারমিট, মালিকানা বদল ইত্যাদি থেকে আসে আরও ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।

পরীক্ষার খাতায় নাম না থাকলেও পাশ, শূন্য পেলেও লাইসেন্স মিলছে গাজীপুর বিআরটিএ তে!!! অথচ আইন অনুযায়ী কমপক্ষে লিখিত পরীক্ষায় ২০ এর মধ্যে ১২ পেতে হয়। তবে এসব আইনের কোনো ভিত্তি নেই গাজীপুর বিআরটিএ অফিসে !! সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক পরীক্ষার্থী সেই মানদণ্ডে না পৌঁছালেও এডি, মোটরযান পরিদর্শক, অন্যান্য কর্মচারী ও দালালদের সহায়তায় তারা পাশ করেছেন এবং লাইসেন্স পেয়ে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে “” গলি থেকে রাজপথ””।
ফলে নিরক্ষর, অদক্ষ আর নিরেট মূর্খ ব্যক্তিদের হাতে লাইসেন্স তুলে দিয়ে সড়ককে নরকে পরিণত করার পথ আরও প্রশস্ত করছে গাজীপুর বিআরটিএ। সচেতন সমাজের অভিযোগ, ক্ষমার অযোগ্য ধারার এসব অভিযোগের পুরোটা দায়ভার বর্তায় মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন ও সহকারী পরিচালক এস.এম মাহফুজুর রহমান এর কাঁধে।

দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেন ‘এটি শুধুমাত্র অনিয়ম নয় এটি “মহা অপরাধ”। সামান্য কিছু টাকার জন্য “” জননিরাপত্তা নিয়ে ছেলেখেলা”” করা হচ্ছে।
সড়ক ও জননিরাপত্তা বিশ্লেষক দানিয়েল ইসলাম বলেন, অদক্ষ চালকদের রাস্তায় নামার সুযোগ তৈরি করা মানেই, সাধারণ মানুষের জীবনকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলা। তাই জন্ম মৃত্যু আল্লাহর হাতে হলেও, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত মৃত্যূকে আরও তরান্বিত করা হচ্ছে। ( চলবে)
(আগামীকাল পড়ুন গাড়ীর ফিটনেস, রোড মারমিট, নবায়ন, মালিকানা বদল সহ বিস্তারিত……………)






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :