
মোঃ ফজলুল কবির গামা, বিশেষ প্রতিনিধি:
দফায় দফায় যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন, রক্তাক্ত জখম ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা দায়ের। আবার সেই মামলা তুলে নিতে মুহুর্মুহু হুমকি ধামকী ও সবশেষে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর শরীরে এসিড জাতীয় তরল পদার্থ নিক্ষেপের ঘঠনায় দুই পরিবারের মাঝে চরম অসন্তোষ দানাবেঁধে উঠছে। সর্বশেষ ভিকটিম থানা থেকে যথাযথ সহযোগিতা না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হন।
আজ ২৬ নভেম্বর বুধবার সকাল ১১ টায় ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির কার্যালয়ে ভুক্তভোগী এসিড আক্রান্ত নারী উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জানান,
আমি মোছাঃ নাছিমা খাতুন স্বামী মোঃ ফারুক মিয়া, গ্রাম গোয়াল পাড়া উপজেলা জীবননগর জেলা চুয়াডাঙ্গা। নিরাপত্তার স্বার্থে ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটিতে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের এই আয়োজন করি।
বিগত ১৭ বছর পূর্বে মোঃ ফারুক হোসেন পিতা শহিদুল ইসলাম গ্রাম গোয়াল পাড়া উপজেলা জীবননগর জেলা চুয়াডাঙ্গায় আমার বিবাহ হয়। আমার একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয় যার বয়স ১৫ বছর। বিবাহের পর থেকে আমার স্বামী যৌতুকের টাকার জন্য আমাকে খুবই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। আমাকে শুধু টাকা আনতে বলে। আমি আমার স্বামীকে দুই লক্ষ টাকা দেয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে।
আমার স্বামী খুবই দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার ভয়ে এলাকায় কেহ মুখ খুলতে পারে না। এভাবেই চলতে থাকে সংসার। শুধু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব সহ্য করে নিয়েছি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আবারো আমাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলে। আমি বারবার টাকা কোথা থেকে আনবো বললে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে পেটে বুকে লাথি ঘুষি কিল মেরে জখম করে। প্রতিবেশীরা আমাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসক শরীর চেক-আপ করার জন্য লিখে দেন। শরীর চেক-আপ করে একটু সুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে আমার স্বামী ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা দায়ের করি যার মামলা নম্বর ২৩২/২৫।
মামলাটির তদন্ত শুরু হলে, আমার স্বামী আমাকে মামলা উঠিয়ে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। তার হুমকি থেকে বাঁচতে ও জীবন রক্ষা করতে আমি নানা সময় থানাতে গেলেও আসামীর প্রভাবের কারণে থানা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
আমার স্বামী আমাকে মামলা তুলতে হুমকি দিলে আমি মামলা তুলতে অস্বীকার করলে সে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। ক্ষিপ্ত হয়ে আমি যাতে মানুষের সামনে মুখ দেখাতে না পারি তার জন্য গত ১৬ই নভেম্বর রবিবার রাতে আমাকে একা পেয়ে বোতলে করে তরল জাতীয় কিছু এনে আমার শরীরে নিক্ষেপ করে। আমি সরে গেলে নিক্ষিপ্ত তরল আমার শরীরের পেট ও বুক বরাবর লেগে আমার পরনের কাপড়ের ঐ অংশ ও পাশের অন্যান্য অংশ পুড়ে ঝলসে যায়। ভাগ্যক্রমে আমি সরে যাওয়ায় আমার মুখ পোড়া থেকে রক্ষা পাই।
আমি দ্রুত হাসপাতালে যেয়ে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলে জীবননগর থানাতে গেলে থানা আবারো আসামীর প্রভাবে আমার মামলা গ্রহণ করেনা। পরবর্তীতে আমি বিজ্ঞ এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে এসিড নিক্ষেপের মামলা দায়ের করি যার মামলা নম্বর পিটিশন -০১/২০২৫। মামলার পর থেকে আসামী নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে ও আমাকে খুন জখম ও নানাবিধ ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। আমাকে আমার বাসাতেও যেতে দিচ্ছেনা।
আমি আমার যৌতুক লোভী স্বামীকে এমন নির্যাতনের কারণে তালাক দিয়ে ছিলাম। সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পুনরায় আমাকে আর কোনদিন এভাবে নির্যাতন করবে না। সে কারণে সন্তানের কথা ভেবে পূনরায় তার সংসার করছিলাম। সে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করতেই এই এসিড নিক্ষেপ করে। আমি তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার আগের সংসারের ছেলে মোঃ বাপ্পারাজ মন্ডল ও বউমা মোছাঃ গোলাপী খাতুন।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :