
সজীব আকবর, সিনিয়র প্রতিবেদক:
ঘুষ দুর্নীতি আর রমরমা লুটপাট বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে গাজীপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) অফিস। এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল। এসবের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড ঝালকাঠি পিরোজপুর সার্কেলের সেই বিতর্কিত সহকারী পরিচালক(ইঞ্জিন) এস.এম মাহফুজুর রহমান।
এবার মাহফুজুর রহমান ও নাসিরুল আরিফিনের প্লান মোতাবেক নিজেদেরকে “”ধুয়া তুলসীপাতা”” প্রমাণ করতে কতিপয় হলুদ সাংবাদিক ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রেসের দারস্থ হয়েছেন। কথিত হলুদ সাংবাদিক ম্যানেজ ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রেসে “” তৈলাক্ত সংবাদ” পরিবেশনের জন্য সর্বসাকুল্যে বাজেট ১০ লাখ টাকা বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এসব তৈলাক্ত সংবাদ পরিবেশনে কাজের কাজ কিছুই হয়নি, বরং গাজীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তা কর্মচারীরা হাস্যকর বস্তুতে পরিণত হয়েছেন। আর মূলধারার সাংবাদিকেরা হয়েছেন এখন গাজীপুর BRTA’র প্রতিপক্ষ।
AD মাহফুজের দিকনির্দেশনা মোতাবেক ঘুষ দুর্নীতির গাজীপুর বিআরটিএর মহা ময়দানে প্রধান সেনাপতি কাম কালেকশন Boss মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন। এ অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিস সহায়ক স্বপন, ঝাড়ুদার, উমেদারসহ দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাসে লুটপাট হচ্ছে কোটি টাকা। সরকার প্রতিমাসে হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। বিতর্কের ধারাবাহিকতায় এসব স্টাফদের কারণে BRTA’র ভাবমূর্তি এসে ঠেকেছে খাদের কিনারায়।
প্রতি গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করতে এখানে সেবা প্রত্যাশীদের গুণতে হয় অতিরিক্ত ৫/৭ হাজার টাকা। গাড়ি ও মালিক ছাড়া মালিকানা পরিবর্তন করতে লাগে ২৫/৩০ হাজার টাকা।
মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশন করতে অতিরিক্ত দক্ষিণা দিতে হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স নিতেও দিতে হয় ১৫শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। তার পোষ্য সিন্ডিকেটের দালাল সোলেমান, জিন্নাত, আহমদ, কাজল, রাজ্জাক, সাত্তার, মনির, জাহাঙ্গীর, শাহীন, সাগর, মফিজদের মাধ্যমে কালেকশন হয় এসব অবৈধ ঘুষের টাকা।
এসব ঘুষের টাকার ৪০% পান সহকারী পরিচালক (A.D) ও ৩০% মোটরযান আর বাকি টাকা দিনশেষে ভাগাভাগী করে নেন অফিস স্টাফ, দালাল গং ও কতিপয় কথিত সাংবাদিক এবং লোকাল রাজনৈতিক ক্যাডার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘুষ দিয়েই ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির। মালিক ও গাড়ি উপস্থিত না থাকলেও হচ্ছে মালিকানা বদল। ড্রাইভিং লাইসেন্সের এর লিখিত পরীক্ষায় ২০ এর মধ্যে বিগ জিরো “O” পেলেও মিলছে লাইসেন্স । বিশাল ব্যস্ততার ভূমিকায় দেখা গেল মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিনকে তার দালালদের সাথে নিয়ে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করছেন। গাড়ির চালকরাও দালালের সাথে গোপনে লেনদেন করছেন। নাসিরুল আরিফিন পাশে দাঁড়িয়েই বেশ ক’জন দালালকে ঘুষের টাকা প্রকাশ্যে গুনে নিতে দেখা যায়।
দালালদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালিত হয়। কিছুদিন পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত ভালো থাকে; তারপর আবার সবকিছু “” যথা পূর্বং তথা পরং “”।।
এ কারণে সারাবছর দালালদের অপতৎপরতা চলে গাজীপুর বিআরটিএ’র এস এম মাহফুজুর রহমান ও নাসিরুল আরিফিন এর মতো এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে। মূলত তারাই দালালদের পৃষ্ঠপোষক। তাই বন্ধ হয় না বিআরটিএ কার্যালয়ের দুর্নীতি এবং দালালদের অপতৎপরতা। ফলে প্রতিদিন চলে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্য । বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
BRTA”ই মূলত: সড়ক নিরাপত্তার রক্ষাকবচ। তবে গোপন সিঁড়ি ব্যবহার করে অদক্ষ ও অযোগ্য চালক লাইসেন্স পেয়ে গাড়ি চালালে অথবা সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চললে এর পরিণতি কী হতে পারে, তা দেশবাসী জানে। আর এ কারণেই দেশে সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক মহামারি আকার ধারণ করেছে। তাই সরকারের উচিত এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিআরটিএ কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা।
তাদের সীমাহীন ঘুষ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের খোঁজতল্লাশি নিতে মাননীয় উপদেষ্টা, চেয়ারম্যান মহোদয় ও দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের পক্ষ থেকে আবারো আকষ্মিক অভিযান চান সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীবৃন্দ।
গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এস এম মাহফুজুর রহমান ও পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন এর বিষয়ে জানতে ঢাকা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে উনি জানান, গাজীপুর বিআরটিএর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ যেনো সেই গৎবাঁধা ডায়লগ ” অনেকটা ভূতের মুখে রাম নাম “”।।৷ ( চলবে)






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :