মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ভয়াবহ সিন্ডিকেট


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ১১:০৬ AM /
মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ভয়াবহ সিন্ডিকেট

নেপথ্যের কারিগর আওলাদ, আকিব,হারিছ S.R আ:কাদির

 

সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

রাজধানীর তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অবস্থিত কালোটাকার স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমানে চলছে ৪ জন দুর্নীতিবাজের নেতৃত্বে ভয়াবহ সিন্ডিকেট। “” এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল “”।। এই চারজন হলেন নকলনবিশ সমিতির কথিত “” পকেট কমিটির নেতা ” আওলাদ হোসেন, আওলাদ হোসেনের ভাই “” পদ পদবী বিহীন কথিত অফিস স্টাফ আকিব হোসেন””, হারিছ ও স্বয়ং সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির।।  আর এই ৪ জনের নেতৃত্বে এই অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কতিপয় দলিল লেখক, তৃতীয় শ্রেণীর কতিপয় রাজনৈতিক পরিচয় দানকারী ক্যাডার সহ চিহ্নিত দু’ডজন দালাল।।

তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে প্রতিনিয়ত চলছে অনিয়ম, ঘুষ- দূর্নীতি ও মোটা অংকের গোপন চাঁদাবাজি। উল্লিখিত ৪ জন ছাড়াও মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমান সময়ে মুখোশধারী অনেকের মধ্যে ৭ থেকে ৮ জন রয়েছেন ভয়াবহ দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের লাইম লাইটে।

এরা হলো মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির, সহকারী মোঃ হারিজ মিয়া, নকল নবিশ মোঃ আওলাদ হোসেন, মোঃ এনামুল, মোঃ মোস্তফা, মোঃ ইমরান, মোঃ ইউসুফ এছাড়াও কাগজ কলমের বাহিরে আছে এই অফিসের “” কথিত অফিস স্টাফ ও আওলাদ হোসেনের সহোদর মোঃ আকিব হোসেন””।

দলিল বাণিজ্য, জমির শ্রেণী পরিবর্তন, খাসজমি(VP) ও শত্রু সম্পতি(AP) হাতবদল ও জাল দলিল সম্পাদনের নেপথ্যের প্রধান কুশীলব মোঃ আওলাদ হোসেন।। মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের একজন এক্সট্রা মোহরা (নকল নবিশ) হিসেবে কর্মরত আওলাদ হোসেনের মাসিক বৈধ আয় সর্বসাকুল্যে ২০/২৫ হাজার টাকা হলেও অসাধু পন্থায় এবং সিন্ডিকেট প্রধান হিসেবে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। এভাবেই আওলাদ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন “” নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়””।। অল টাইম (All time)  পাউয়ার পার্টির ছাতার নীচে থাকতে অভ্যস্থ রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আওলাদের পরিচয় হয় ভিন্ন ভিন্ন। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখনই আওলাদ হোসেন তার রূপরেখা পরিবর্তন করে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়ে থাকেন।এজন্য প্রতি মাসে তাকে কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করতে খরচ করতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। আর এসব অবৈধ টাকা তিনি অবৈধ দলিল রেজিস্ট্রি করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন অবলীলায়। রাজনৈতিক দলগুলো তার মুখোশধারী রাজনীতির চরিত্র আজো বুঝতে পারেনি, তাই যখন যেদল ক্ষমতায় বা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে সেখানেই “” সূচ হয়ে ঢুকে পড়েন আওলাদ হোসেন “”। যার সুবাদে আওলাদ হোসেন তার মাষ্টারমাইন্ড পদ্ধতি ব্যবহার করে অফিসের বিভিন্ন দলিল ঘসা মাজা করে দলিলের দাগ, খতিয়ান ও মৌজা পরিবর্তন করে খুব সহজেই নিরীহ দলিল দাতা ও গ্রহীতাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, দলিল হবে না বলে অমানবিক মানসিক নির্যাতন করে কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। আওলাদ হোসেনের এসব দুইনাম্বারী জাল দলিলের কাজ মোটা অংকের নজরানা নিয়ে “”খাস কমরায় বসে সম্পন্ন করেন সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির“”।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আওলাদ হোসেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার একজন “” চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পাইকারী ইয়াবা ব্যবসায়ী””। সকল ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ইয়াবা হাতবদলের কাজ পরিচালনায় তাকে সাহায্য করে থাকেন তার আপন ছোট ভাই মোঃ আকিব হোসেন। “” লিগ্যাল নিয়োগপত্র ছাড়াই”” এই আকিব হোসেন বছরের পর বছর  মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিজেকে “” স্বঘোষিত উমেদার”” পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দুদকের ধারাবাহিক অভিযান শুরু হলে আওলাদ হোসেন জাল দলিল বাণিজ্য, সেরেস্তা খরচ বা অফিস খরচের নামে দলিল প্রতি টাকা কালেকশনের জন্য লাইম লাইটে নিয়ে আসেন আকিব হোসেনকে। অফিস স্টাফদের বাইরের কোনো ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা থাকলেও দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম সেই অবৈধ টাকা বহণকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনোরকম এ্যাকশন নিতে পারেনা। তাই এই সুযোগ কাজে লাগাতে অবৈধ টাকা কালেকশন এবং তার ভাই সিন্ডিকেট প্রধান আওলাদ হোসেন ও সাব রেজিস্ট্রারকে “” ধোয়া তুলসীপাতা “” প্রমাণ করতেই নিয়োগপত্র বিহীন কথিত স্টাফ ও স্বঘোষিত উমেদার  আকিব হোসেন সমস্ত অবৈধ টাকার বান্ডিল নিজ জিম্মায় রেখে দেন। মূলতঃ এই আকিব হোসেন কোনো স্টাফ না হয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা কাগজে কাছ করেন উমেদার হিসেবে। আকিব ব্যক্তিগ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলিল রেজিস্ট্রি করেন যে দলিলের কোনো কাগজপত্র সঠিক থাকে না, তবুও দাতা গ্ৰহীতার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে সাব রেজিস্ট্রারকে এক অর্ধেক ঘুষ দিয়ে দলিলের কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। বর্তমান সময়ে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিস চলে নকল নবিশ আওলাদ হোসেন, নিয়োগ বিহীন কাগজপত্র ছাড়া মোঃ আকিব হোসেন, সহকারী হারিজ মিয়া ও সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির সহ আরো কজন নকল নবিশের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

এই চার জনের যুক্তি পরামর্শ ও দূর্নীতির অনিয়মের মারপ্যাঁচে চলছে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস। সেবা নিতে এসে দলিলের কাজ সম্পন্ন করতে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়েও খুব সহজেই নানান ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন দলিল দাতা ও গ্রহীতারা।

অফিস প্রশাসন কেনো কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কেনো আওলাদ হোসেন দীর্ঘ ১১ বছর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বহাল তবিয়তে ??  কেনো তার আপন ছোটোভাই আকিব হোসেন নিবন্ধন অধিদপ্তর কর্তৃক কোনো নিয়োগপত্র ছাড়াই কয়েক বছর যাবৎ কথিত স্টাফ হিসেবে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন ??  কোন জুজুর ভয়ে পূর্বতন সাব রেজিস্ট্রারদের মতো বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরও রয়েছেন আওলাদ হোসেন ও আকিব হোসেন সিন্ডিকেটের লেজুড়বৃত্তির সহায়ক হিসেবে ??? 

অফিসের অন্যান্য স্টাফরা মনে করেন এটা খুবই দুঃখজনক। এভাবে যদি অফিসে অনিয়ম দুর্নীতি বছরের পর বছর চলতে থাকে তাহলে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কাজকর্ম দিন দিন কম হবে, মারাত্মক ব্যাহত হবে সরকারের রাজস্ব আনয়ন।  তাই এক্ষুনি যদি আওলাদ আকিব ও হারিছ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরসহ এদের প্রত্যেককে জবাবদিহিতার মধ্যে না আনা যায় তাহলে স্মরণকালের মধ্যে ভয়াবহ কলংকের জঘন্য তিলক অঙ্কিত হবে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কপালে। আর এই কলঙ্ক থেকে কোনোভাবেই পার পাবেনা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান ও আইজিআর মহোদয় কাজী আব্দুল হান্নান। ( চলবে) 

বি:দ্র: এরপর আরো বিস্তারিত পড়ুন আগামীকাল জাতীয় দৈনিক এই আমার দেশ, ক্রাইম নিউজ ২৪ ও আজকের পেপার পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।।

You cannot copy content of this page