‘তারা হারমনিয়াম নিয়ে কাঁদছে, আর হাদিকে ভিলেন বানানোর পাঁয়তারা করছে’


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১০:৫০ AM /
‘তারা হারমনিয়াম নিয়ে কাঁদছে, আর হাদিকে ভিলেন বানানোর পাঁয়তারা করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যু ও রাজধানীতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটে হামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা। এমন প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘হাদির জীবনের চেয়ে হারমনিয়াম নিয়ে কাঁদার সুযোগ যারা খুঁজছিল, সেই সুযোগ আমরা নিজেরাই তৈরি করে দিয়েছি।’ তিনি অভিযোগ করেন, যারা আজ হারমনিয়াম নিয়ে কান্নাকাটি করছে, তাদের অনেকেই হাদির জীবদ্দশায় কিংবা মৃত্যুর পর একটি পোস্ট বা শেয়ারও দেয়নি।

ডা. মাহমুদা মিতু আরও লেখেন, ‘আজ তারা হারমনিয়াম নিয়ে কাঁদছে, আর পর্দার আড়ালে হাদিকে ভিলেন বানানোর পায়তারা করছে। ।’

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতার বড় একটি অংশের মধ্যে এখনও হাদির মতো বোধ তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, প্রতিটি লড়াইয়ের শহীদদের দিকে তাকালে দেখা যায়—বেশিরভাগই মাদ্রাসার ছাত্র, আলেম-ওলামা কিংবা সাধারণ ঘরের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে একটি এলিট বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী তাদের ‘সাধারণ’ করে রাখার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, হাদি এই চিত্র বদলাতে চেয়েছিলেন। তিনি কাউকে শুধু রক্ত দেওয়ার যন্ত্র বানাতে চাননি; বরং স্কিল, পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট, ভাষা, সাহিত্য, চিন্তা ও বুদ্ধির শক্তি দিয়ে লড়াই করে একটি বড় শক্তির বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। এমনকি শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ করার চিন্তা ছিল তার আদর্শের অংশ।

তিনি আরও দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠী হাদির লড়াইকে বুঝতে পেরেছিল এবং আশঙ্কা করেছিল—হাদি সফল হলে বা তার আদর্শে একটি গোষ্ঠী তৈরি হলে তাদের সঙ্গে আর পেরে ওঠা যাবে না। সে কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রথমে বিচার, পরে হাজার হাজার হাদি তৈরি করা।’ তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক ইনসাফের লড়াই চালানোর মতো সৈনিক তৈরির পথ খুঁজতে এবং হাদির আদর্শ সমাজে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানান।

এছাড়া তিনি সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘মাথা ঠান্ডা করে জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে পথনির্দেশ ও সাহায্য চাইতে হবে।’

You cannot copy content of this page