গাজীপুর BRTA ঘুষ দুর্নীতির আঁতুড়ঘর


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ৬:৪৪ AM /
গাজীপুর BRTA ঘুষ দুর্নীতির আঁতুড়ঘর

পর্ব- ৫

সজীব আকবর, সিনিয়র প্রতিবেদক:

গাজীপুর BRTA অফিস দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের আঁতুড়ঘর হিসেবে কূখ্যাতি অর্জন করলেও রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান ও দু-একজন দালালকে ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য জেলে পাঠানো হলেও দুর্নীতি থাকে আকাশছোঁয়া।
অনেক সময় মিডিয়ার ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশের কারণে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলি করা হলেও শাস্তুির চিত্র অতি নগণ্য। ঘুষ দুর্নীতির কারণে রাজধানীর ইকুরিয়াতে ৪ জন স্টাফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও স্মরণকালের ইতিহাসে গাজীপুরে এ ধরণের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

কর্মকর্তা কর্মচারী মাঝেমাঝে বদল হলেও গাজীপুর BRTA তে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও কর্মকর্তাদের লুটপাট বাণিজ্য থেকে যায় বহাল তবিয়তে। সাম্প্রতিক সময়ে আজকের পেপারসহ একধিক সংবাদ মাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হতে থাকলে সড়িয়ে দেওয়া৷ হয় সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মোটরযান পরিদর্শক সুমন গংকে। এ সময় শূণ্যপদ পূরণ করতে ঝালকাঠি পিরোজপুরের দায়িত্বরত AD এসএম মাহফুজুর রহমান কে পদায়ন করা হয় গাজীপুরে। তৃতীয় শ্রেণীর বিআরটিএ অফিস থেকে কোন যাদুর বলে গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অফিসে মাহফুজুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হলো — তা নিয়ে
অফিসের ভেতরে-বাইরে রয়েছে নানারকম মুখরোচক আলোচনা সমালোচনা।

সাড়ে পাঁচমাস পূর্বে যখন এডি মাহফুজুর ও মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন যোগদান করে তখন সাধারণ মানুষ ভেবেছিলো BRTA গাজীপুরের দুর্নীতি হয়তো কিছুটা কমবে। তবে বাস্তবে ঘুষ দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বেড়েছে শ্রেণীভেদে ঘুষের রেট।
আগে ড্রাইভিং বোর্ড পরীক্ষায় ফেল করা প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতি জনে যেখানে AD আব্দুল্লাহ আল মামুন ও পরিদর্শক সায়েদুল ইসলাম সুমন নিতেন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, সেখানে এখন মাহফুজ আরিফিন জুটি নিচ্ছেন মাথা পিছু ৫ হাজার করে।
আগে যানবাহনের ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা লাগলেও, এখন প্রতি গাড়ির জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করছেন এই জুটি। ফলে দালালরাও এসব হিসেব মাথায় রেখেই হাতিয়ে নিচ্ছেন ১০/১২ হাজার টাকা করে। তবে আশার কথা হলো লিখিত পরীক্ষায় ২০ এর মধ্যে ৪/৫ বা শূণ্য পেলেও দালালরা গ্যারান্টিসহ পাশ করিয়ে দিচ্ছেন, নেপথ্যের প্রধান কুশীলব গ্যাং মাহফুজুর ও নাসিরুল আরিফিন।। এভাবে প্রতিমাসে লুটপাট হচ্ছে কোটি টাকা। AD ও পরিদর্শক নামে বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

গাড়িচালক ও মালিকদের অভিযোগ, বিআরটিএর এ ধরনের দুর্নীতি ও দালাল চক্রের কারণে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ( চলবে-)

You cannot copy content of this page