
আহসান হাবিব মিলন, রংপুর ব্যূরো প্রধান:
রংপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। সর্বশেষ হালনাগাদে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৭ জন। নতুন এই ভোটারদের সিংহভাগই তরুণ, যারা প্রথমবারের মতো তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। ভোটার বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও, যা নির্বাচনী প্রস্তুতির পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।
রংপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেখানে মোট ভোটার ছিলেন ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০৫ জন, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ লাখে। নারী ভোটার এবারও সংখ্যাগরিষ্ঠ। আগের নির্বাচনের তুলনায় নারী ভোটার বেড়ে হয়েছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটার বৃদ্ধির এই প্রবণতা রংপুরের সব আসনেই কমবেশি লক্ষণীয়। রংপুর-১ থেকে রংপুর-৬—প্রতিটি আসনেই নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন কয়েক হাজার করে। বিশেষ করে নগর এলাকা ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে ভোটার বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং কোথাও কোথাও পুনর্বিন্যাস করার মাধ্যমে ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন নিবন্ধনের সুযোগ এবং মৃত ভোটার বাদ দেওয়ার কার্যকর প্রক্রিয়ার কারণেই তালিকা আরও নির্ভুল ও হালনাগাদ হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ভুয়া ভোটার কমেছে, অন্যদিকে প্রকৃত ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়; আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ধরন এবং ‘জুলাই সনদ’ ঘিরে হ্যাঁ–না ভোটের বিষয়টি। জনগণের প্রত্যাশা, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ যেমন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবেন, তেমনি রাষ্ট্র ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লার আড্ডায় হ্যাঁ–না ভোটের তাৎপর্য নিয়ে মতবিনিময় হচ্ছে। অনেকেই এটিকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তাই ভোটারদের কাছে সহজ ভাষায় নির্বাচন প্রক্রিয়া, ব্যালট পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রে করণীয় এবং হ্যাঁ–না ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
নির্বাচন অফিস সূত্র বলছে, ভোটারদের আস্থা বাড়াতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রংপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। বাড়তি ভোটার, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং ‘জুলাই সনদ’ ঘিরে গণমত—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি বাছাই নয়, বরং জনগণের কণ্ঠস্বরের এক বড় প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
gmail.com






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :