লংগদুতে অবৈধ করাত কল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বন, উজাড় হচ্ছে পাহাড়ের মূল্যবান বৃক্ষ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ৪:০৭ PM /
লংগদুতে অবৈধ করাত কল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বন, উজাড় হচ্ছে পাহাড়ের মূল্যবান বৃক্ষ

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা অবৈধ করাত কলগুলো গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল (রিজার্ভ ফরেস্ট)। লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ২০ থেকে ২৫ টি করাত কল অবাধে চলছে। এতে প্রাকৃতিক বন উজাড় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। এই বনাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাতের আঁধারে মূল্যবান বৃক্ষ পাচার করছে এইসব অবৈধ করাত কলে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লংগদু উপজেলায় পরিচালিত কোনো করাত কলেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কর্তব্যরত বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা মোটা অংকের দক্ষিণা গ্রহণ করে আইনবহির্ভূতভাবে বনাঞ্চল এলাকায় করাত কল চালানোর সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছে। ফলে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নির্বিচারে পাহাড় ও বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে এসব মিলে প্রতিনিয়ত সরবরাহ করছে। ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু মিল সিলগালা ও জরিমানা করা হলেও কয়েক দিন পরেই সেগুলো আবারও চালু হয়ে যায়। পরবর্তীতে মাসিক চাঁদার বিনিময়ে এখনো এসব করাত কল চলছে মহাসমারোহে, দেখার যেন কেউ নেই।

এ বিষয়ে করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি রহমত উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রহস্যজনকভাবে নিজের পরিচয় অস্বীকার করেন এবং এসব বিষয়ে মতামতদানে অনীহা প্রকাশ করেন।

ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভুঁইয়া জানান, “করাত কল বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনো করাত কল থাকতে পারবে না। অথচ লংগদুতে অবৈধভাবে এসব মিল চলছে। গাছ উজাড় হওয়ার ফলে আগামী ২০-২৫ বছরের মধ্যে পাহাড়ে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দেবে, পরিবেশে নামবে মারাত্মক বিপর্যয়। গাছ না থাকলে পানি থাকবে না। তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্টাছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, লংগদুতে একটি করাত কলেরও বৈধ লাইসেন্স নেই। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই লংগদু বনশূন্য হয়ে পড়বে।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, আমি ইতোমধ্যে জেনেছি যে, এখানে কোনো করাত কলের বৈধ লাইসেন্স নেই। আমি বিদ্যুৎ বিভাগকে এসব অবৈধ কলের বিদ্যূৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছি। বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে দ্রুতই বড় ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এদের অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।।

You cannot copy content of this page