
সিনিয়র রিপোর্টার, জুয়েল খন্দকার :
ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক ঢুকছে চোরাই পথে। বাংলাদেশ শুধু মাত্র মাদক বন্ধ করলেই ভারতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ধ্বস নামবে। এতে ভারত ব্যাপক আকারে অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব বরন করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ মহল। এই মাদকের করালগ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে যুবক, বৃদ্ধ, কৃষক, তাঁতি, ধোপা, ছাত্র সহ সকল পেশার শ্রমজীবী মানুষের নির্মল ভবিষ্যত। মাদক সেবনের কারণে, মাদকের টাকা যোগান দিতে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি সহ নানান অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরছে যুবক সহ কিশোর ও কিশোরীরও। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পরছে মাদকের ভয়াবহ নেশায়। যার লাগাম টানতে পারছেন না অভিভাবকরাও। নেশার টাকা যোগান দিতে না পারলে অভিভাবকদেরকেও হতে হচ্ছে সন্তানদের হাতে লাঞ্ছিত।
সম্প্রতি ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় নিজ মেয়ে ঐশীর হাতে খুন হলেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমান। ঐশীর মত এমন ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। কিন্তু যুগে যুগে সরকার পরিবর্তন হলেও মাদকের বিষয়ে ঘুম ভাঙছেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বেনাপোলের তিন ডিবিশনের তিন সৎ বিজিবি কমান্ডার জানান যে, সীমান্ত এলাকায় শুধু মাত্র ভারত থেকে প্রতিদিন এক একটা পয়েন্টে কোটি কোটি টাকার মাদক ঢুকছে বাংলাদেশে অনায়াসে এবং ভারতের সীমান্ত এলাকাতেই ভারতের প্রভাবশালী মহল মাদক উৎপাদন কারখানাগুলি তৈরি করেছেন যাতে করে বাংলাদেশে সহজে মাদক জোগান দিতে পারেন। তাঁরা আরও জানান যেমন একটি ফেন্সিডিল তৈরিতে বাংলা টাকা ১০০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। বাংলাদেশে এসে বিক্রি করা হয় ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকার উপরে। তেমনি সকল মাদকদ্রব্য বিকিকিনির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ পথে চলে যাচ্ছে ইন্ডিয়াতে। মাদক ছাড়াও কসমেটিক, শাড়ি, কাপড়, চিনি, জিরা, লবণ ইত্যাদি পণ্য চোরাকারবারি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে ইন্ডিয়া।
আরও জানা যায়, বর্ডারে স্থাপন করা ক্যাম্প ও বর্ডারে থাকা বিজিবিরা চাইলেই মাদক মুক্ত করা সম্ভব মাত্র এক মাসে। এক মাস মাদক না ঢুকলে ভারতে হৈচৈ বেধে যবে, নামবে অর্থনৈতিক ধ্বস। বিজিবি চাইলেই মাদক মুক্ত করলে করতে পারেন কিন্তু বর্ডারে থাকা বিজিবিদের প্রতি মাসে মাসিক মসোয়ারা দিতে হয় ঊর্ধ্বতন কর্ম কর্তাদেরকে, নয়তো তাদেরকে ঘণ ঘণ বদলি করা হয় দুর্গম এলাকায় এলাকায়। সম্প্রতি আওয়ামীলীগ এর আমলে এ প্রতিবেদক “” (একজন হত্যাকারী হত্যা করে একজনকে আর মাদক হত্যা করে গোটা দেশকে)”” শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রালারেন্স ঘোষণা দিয়ে পুলিশকে দায়িত্ব দিতে চাইলে এতে নানান দ্বী-মত সৃষ্টি হলে ও প্রশাসনিক বিভাগে হৈচৈ বেধে গেলে সরকার অন্য ইস্যূ সামনে নিয়ে এসে এই ইস্যূটি সুকৌশলে ধামাচাপা দিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ সেনা বাহিনী মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সক্রিয় ভূমিকায় থাকলেও সেনা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বিজিবি চাইলেই বাংলাদেশে অবৈধ ভাবে মাদক ও অস্ত্র প্রবেশ বন্ধ করতে পারেন কিন্তু তারা করছেন না। তারা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে লাভবান হয়ে সব ছেড়ে দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন। আরও মন্তব্য করেন যে, বিজিবির এরিয়া বর্ডারের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে সেনা বাহিনীর প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় সেনা বাহিনী লাগাম টানতে পারছেন না।
গত ২৬শে জুন ২০২৫ইং তারিখে সচিবালয়ে বেসরকারি মাদকাসক্ত, মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, শুধু মাত্র বাংলাদেশে পাচারের জন্যই ভারত ফেনসিডিল তৈরি করে, অথচ তারা নিজেরা কখনো খায় না। এছাড়াও মায়ানমার ইয়াবা তৈরি করে বাংলাদেশে পাচার করে আসছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন করে তোলার জন্য সব মহলকেই দায়িত্ব নিতে হব, সচেতন থাকতে হবে। “” মাদক সুকৌশলে দেশে ঢুকিয়ে, মানুষকে মাদক না খাওয়ার জন্য সচেতন করার প্রশ্ন আসে কেন”” ? বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কঠোর ভূমিকায় না গিয়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র খোলা ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানানো কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :