
নিজস্ব প্রতিবেদক, কেরাণিগঞ্জ, ঢাকা :
রাজধানীর কেরাণিগঞ্জের শুভাঢ্যা ভুমি অফিস দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুষ দুর্নীতি ও জাল জালিয়াতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও এসি ল্যান্ড মহেদয়ের কঠোর নির্দেশ “” গ্রাহক ছাড়া এখানে অনাহুত কেউ প্রবেশ করবেনা”” কিন্তু শুভাঢ্যা ভূমি অফিসের কেউ সে কথা মানছেন না। উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা রণজিৎ চন্দ্র নাথসহ এ অফিসের ৫ জন স্টাফকেই অফিস চলাকালীন সময়ে নিজ নিজ পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে দৃশ্যমান রাখতে বলা হলেও, সেসব কেউ তোয়াক্কা করছেন না। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের রেকর্ড রুমেও অবাধে বিচরণ করছেন বহিরাগত দালাল সিন্ডিকেট সদস্যরা। কারণ হিসেবে জানা গেছে টানা ৫ বছর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি করার সুবাদে রণজিৎ বাবু এ অফিসকে নিজের আড্ডাবাজী আর ঘুষ কালেকশনের স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী নায়েব রণজিৎ চন্দ্র নাথ পলাতক শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজ কর্মস্থলগুলোকে লীগের ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেন শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট, যা আজও চলমান। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দিল্লি পালিয়ে গেলেও সাবেক ছাত্রলীগের এই পেতাত্মার দাপট একটুও কমেনি। বরং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ডেভলপার কোম্পানিগুলোকে VP ও AP প্রোপার্টিতে অনৈতিক সুযোগসুবিধা পাইয়ে দিয়ে প্রতিমাসে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এপি ভিপি ছাড়াও এলএ, ফিরনীবাস, হাটচাঁদনী, জলমহাল, বালুমহাল বরাদ্দ- নবায়ন ও জমির তদন্ত রিপোর্টের নামেও হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। নামজারি ( ই- নামজারি)র সরকারি খরচ ১১ শ ৭০ টাকা হলেও তিনি ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজারের নীচে কোনো নামজারি করেননা বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।। আর “খ” শ্রেণীভূক্ত জমির নামজারিতে তিনি হাতিয়ে নেন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া জমির নবায়ন ফি, ভূমি উন্নয়ন কর ও মিস কেস করতে সরকার নির্ধারিত ফির কয়েকগুণ বেশি অর্থ না দিলে তহশিলদার রণজিৎ চন্দ্র নাথ কোনো কাজ করেন না বলে জানান সেবাগ্রহীতারা। তাদের অভিযোগ, মিস কেস তদন্তের জন্য কোনো কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে যাতায়াত ও চা-নাস্তা খরচ ছাড়াও তাকে দিতে হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের জন্য দিতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। এসব টাকা থেকেও ফিফটি পারসেন্ট কমিশন নেন ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা রণজিৎ।
আর উপজেলা ভূমি অফিসে রিপোর্ট গেলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিস কেসের রায় এনে দেওয়ার চুক্তি করেন রণজিৎ বাবু নিজেই। আর এসব কাজ সম্পাদন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে।
ঘুষ লেনদেন এখানে ওপেন সিক্রেট। ভূক্তভোগী ও এলাকাবাসীও জানে ” এখানে দক্ষিণা ছাড়া নড়েনা ফাইল “। ফলে রণজিৎ চন্দ্র নাথ এর শুভাঢ্যা ভূমি অফিসে প্রবেশের পূর্বেই সেবাপ্রত্যাশীরা চাহিদা মোতাবেক নগদ নারায়ণে তহশিলদার রণজিৎ কে তুষ্ট করেই কার্য সম্পাদন করতে বাধ্য হন। আর ঘুষ না দিলে ভূক্তভোগীদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। ঘুষ আদায়ের অপকৌশল হিসেবে রণজিৎ প্রকাশ্যেই গ্রাহকদের সামনে বড়োগলায় বলে থাকেন, এসি ল্যান্ড, ইউএনও, ডিসি অফিস ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের বড়োবাবুকে ম্যানেজ করেই আমাদের অফিস পরিচালনা করতে হয় !! সব জায়গায় সিস্টেম করে আমি চলি তাই সংবাদমাধ্যমে কেউ কিছু লিখলেও আমার কিছুই করতে পারবেনা।

সেবা নিতে আসা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘুষ গ্রহণের ঘটনা এই অফিসে হরহামেশাই ঘটে। বিষয়টি সবারই জানা। টাকা না দিলে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ঝামেলা এড়াতে ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে বাধ্য হচ্ছেন ভূক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রশ্নে নায়েব রণজিৎ চন্দ্র নাথ এর মোবাইলে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠালেও তিনি দেখও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যান।।





















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :