
সিলেট ব্যুরো চীফ।।
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ যাবতীয় মাদক দ্রব্য বিক্রি ও সেবন হরদম চলছে। ফলে ছাত্র, যুব সমাজ ও উঠতি কিশোর ও তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে, হারাচ্ছে তাদের নৈতিক চরিত্র। অভিভাবকরাও তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ইদানিং এলাকায় চুরি, ডাকাতি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে রাত জেগে তাদের বাড়ী ঘর পাহারা দিচ্ছেন। ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এসব ধ্বংসাত্মক মাদক স্পট থেকে কথিত ক্যাশিয়ার ও সোর্সের মাধ্যমে মাসিক চাঁদা আদায় করছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। কেউ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের ধরে এনে নিজের চাহিদা পূর্ণ করে আবার ছেড়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
সরেজমিনে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২০শে ডিসেম্বর শনিবার ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস.আই আব্দুল কাদের ইনাতগঞ্জ পূর্ব বাজার পুরাতন ভূমি অফিসের সামনে সইদুল (৩০) এর মাদকের আস্তানা থেকে ৬২ পিস ইয়াবা সহ সইদুল কে গ্রেফতার করে। এসময় সইদুলের ঘরে পাওয়া হাসান (২০) নামক অপর এক যুবককে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ৪০ হাজার টাকা রফাদফায় পুলিশ আসামীদের ৫৫১ ধারায় আদালতে পাঠিয়ে দেয়।
গ্রেফতারকৃত হাসানের এক চাচা জানান, হাসানের কাছে কোন ইয়াবা পায়নি পুলিশ। পরদিন আসামীরা আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসে এলাকায়। গ্রেফতারকৃত সইদুলের গ্রামের বাড়ী এ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামে। আর হাসানের গ্রামের বাড়ী এ ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে, তার পিতা ফইম উদ্দিন।
এই ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ সর্বদায় ফাঁড়িতে বসে বসে টাকা হাসিলের ধান্ধায় সবসময় মত্ম থাকে বলে এলাকায় ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যবসায়ী জানান, ইনাতগঞ্জ বাজার সহ আশপাশের এলাকায় কোন দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু হলে পুলিশের খোঁজ পাওয়া যায়না। দাঙ্গা শেষ হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রেফতার বাণিজ্যের মুখোশে ধান্দা ফিকির শুরু করে। যাকে স্থানীয়রা বলেন “ঘোলা জলে মাছ শিকার”।
গত ২৬শে অক্টোবর ২০২৪ ইংরেজি তারিখে ইনাতগঞ্জ পূর্ব বাজারে এক সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো ছুরিকাঘাতে নুয়াগাঁও এর সিরাজ উদ্দিনের পূত্র সৌদিআরব প্রবাসী সোহাগ ( ২৫) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। ২০১৯ সালে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে কলেজ রোডে অপর এক সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো ফিকলের আঘাতে দীঘিরপাড় গ্রামের মৃত করিম উল্যাহর পুত্র জয়নাল (৫৫) নিহত হয়। ১৯৯৭ সনে ইনাতগঞ্জ পশ্চিম বাজারের এক ফার্মেসী ব্যবসায়ী রঞ্জু কে দুর্বৃত্তরা তার ফার্মেসীতে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরে থাকা লোহার সিন্দুক নিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যায়।
সবাই বলে “পুলিশ বিপদের বন্ধু” পুলিশ আমজনতার জানমাল রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। তবে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের প্রশংসনীয় দৃশ্যমান তেমন পদক্ষেপ এলাকাবাসী স্মরণকালের মধ্যে প্রত্যক্ষ করেনি। আজ বাংলাদেশ পুলিশের সংগ্রাম ত্যাগ ও সাহসীকতার ইতিহাসকে ভূলন্ঠিত করে এই “ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ” নামক বাহিনীটি ধ্বংসাত্মক আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। তাঁরা এখন “রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ”। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই ইনাতগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ি ছিল, এখনো আছে। এদের নানা অপকর্মের কারণে একসময় ইনাতগঞ্জ থেকে পুলিশ ফাঁড়ি ক্লোজ করে নিয়ে যায় জেলা পুলিশ। ১৯৯৬ সালে ইনাতগঞ্জ পূর্ব বাজারে এক জনসভায় প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার কাছে ইনাতগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর দাবী তোলা হলে মাননীয় মন্ত্রী এর তীব্র বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে একটি চক্রের প্রবল দেনদরবারে ইনাতগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ি আবারো বসানো হয়।
সূদুর বৃটিশ আমল থেকে বিখ্যাত ব্যবসাকেন্দ্র হিসাবে ইনাতগঞ্জ বাজারের সুনাম -সুখ্যাতি রয়েছে দেশে বিদেশে। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে একটি দুর্বৃত্ত চক্র প্রায় সময়ই দাঙ্গাহাঙ্গামা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে স্থানীয় শান্তিকামী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্যে থাকেন। কখন কি হয়ে যায়। ইদানিং দূর দূরান্তের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ইনাতগঞ্জ বাজারে আসতে ভয় ও শঙ্কায় ইতস্তত বোধ করেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ব্যহত হওয়ায় অজানা আশঙ্কায় মানুষ শঙ্কিত। যার ফলে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্র ইনাতগঞ্জ তার পুরানো ঐতিহ্য ক্রমশ: হারিয়ে ফেলছে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর বিরোধিতা এবং এর ফলাফল আজ এলাকাবাসী হারে হারে টের পাচ্ছেন বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সুপারসহ অন্তবর্তিকালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ডিআইজি মহোদয়ের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল এবং সচেতন এলাকাবাসী।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :