

সজীব আকবর, সিনিয়র প্রতিবেদক, ঢাকা:
মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারীর ভূয়া সনদ বাগিয়ে নিয়ে একজন আমিনের হেলপার( সহকারী) থেকে রাতারাতি সাব রেজিস্ট্রার বনে যান ধূর্ত লুৎফর রহমান মোল্লা। জাল জালিয়াতি ও দলিল বাণিজ্যের অভিনব মাস্টারমাইন্ড নামে বেনামে গড়েছেন শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়। আছে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ। কয়েকবার তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা হলেও কালোটাকার বিনিময়ে সেসব অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন সুনিপুণভাবে।
আজ লুৎফর রহমান মোল্লার অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও, তিনি গোপনসিঁড়ি ব্যবহার করে ১ বছর চাকরীর সময়সীমা বর্ধিত করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও শুধুমাত্র অরিজিন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ১ বছর চাকরী বর্ধিত করার নিয়ম বেঁধে দিলেও
আমিনের সহকারী ও দিনমজুরের ছেলে ভূয়া সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বয়স ছিলো মাত্র সাড়ে ৪ বছর। তারপরও তিনি মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে বাগিয়ে নেন মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী তথা মুক্তিযুদ্ধের ভূয়া সনদ।
২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী হিসেবে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে নির্দেশ জারি করে ১৮৯ জনকে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি দেয়। যারমধ্যে অধিকাংশই শতভাগ ভূয়া। তাদের মধ্যে লুৎফর রহমান মোল্লাও একজন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫/ ২০২৬ সালের মধ্যে এরা সবাই অবসরে যাবেন এই শর্তে মধ্য বয়সে সাব রেজিস্ট্রার বনে যাওয়া এসব কথিত ও ভূয়া সাব রেজিস্ট্রাররা শুরু থেকেই ঘুষ দুর্নীতি আর জাল দলিল বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। কথায় জমির শ্রেণী পরিবর্তন, AP, VP ও খাসজমি, শত্রু সম্পত্তিও এরা রেজিস্ট্রি করে দিয়ে লুটে নেন বস্তা বস্তা টাকা।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আমলে এইসব ভূয়া সাব রেজিস্ট্রারসহ দেশের সকল সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে টাকা কালেকশন করে প্রতিমাসে আইনমন্ত্রীর বাসায় পৌঁছে দিতেন
৫ই আগষ্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা দিল্লি পালিয়ে গেলে ড. মোহাম্মদ ইউনুস সরকারের আইনমন্ত্রী আসিফ নজরুল এর মাধ্যমে এসব ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি সাব রেজিস্ট্রার ও সাবিকুন নাহার এবং রমজান আলী খানদের মতো আওমায়ী নেতা সাব রেজিস্ট্রার/ জেলা রেজিস্ট্রারদের শাস্তি বা তিরস্কৃত করে শুরু হবে সংস্কার!! তবে সেসব কিছুই হয়নি। রহস্যজনক কারণে নিবন্ধন অধিদপ্তর ও আইনমন্ত্রী রয়েছেন মুখে কুলুপ এঁটে।
যে কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার জামিলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক খিলগাঁও সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ।।
২০১৬ সালে দিকে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন লুৎফর রহমান মোল্লা । জাল দলিল করার কারণে ওই বছরের ১৫ মে তিনি ও দলিল লেখক মুনসুর রহমান জাল দলিল করার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক হয়েছিলেন। কিন্তুু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রিয়জন হিসেবে খ্যাত লুৎফর রহমান মোল্লাকে বেশিদিন কারাবাসের দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি।
১৭ নভেস্বর-২০২৪ তারিখে তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা তার অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ফাইল ধামাচাপার দিয়ে রাখেন যাতে করে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ সহজে প্রমাণিত না হয়।
পতিত স্বৈরাচার সরকার আওয়ামীলীগের তকমা গায়ে লাগিয়ে তেরখাদা, ফুলতলা, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, সদর সাতক্ষীরা, সদর মাগুরা, ধানমন্ডি ঢাকা, সদর কিশোরগঞ্জ, উওরা এবং বর্তমানে তিনি নীলফামারী জলঢাকা সাব রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত রয়েছেন। এই সকল প্রত্যেক স্টেশনে তদন্ত করলে জানা যাবে লুৎফুর রহমান মোল্লার অনৈতিক কার্যকলাপের সুদীর্ঘ ফিরিস্তি।
সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজের পকেট ভারী করে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। যা তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে দুদুকে দাখিল করা এক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়। রাজধানীর শান্তিনগর মোড়সংলগ্ন আবাসিক ভবন ইস্টার্ন পয়েন্ট বহুতল ভবনের ৬০২ নম্বর ফ্ল্যাট , ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট, বড় বড় হাউজিং কোম্পানিগুলোতে শেয়ার, তার নিজ জেলা মাদারীপুরে একটি ৮ শতাংশ জমির উপর ৬ তলা আলিসান বাড়ি , মাদারীপু শহরে ৫ তলা বিলাসবহুল বাড়ি, গ্রামে বিশাল মাছের ঘের, হাসাপাতাল, মার্কেট, অবৈধ ইট ভাটা, জুট বাইন্ডিং মিল সহ নামে বেনামে বিঘা বিঘা জমির মালিক। ব্যক্তিগতভাবে মোল্লা ও তার পরিবাী ব্যবহার করেন মোট ৪ টি বিলাসবহুল গাড়ি যার মূল্য এক একটি অর্ধ কোটি টাকা থেকে কোটি টাকা।
আইনের চোখে ধুলো দিতে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে ৬৩৭২ নম্বর দলিলমূলে ১১১ শকুনী মৌজার বিআরএস ১১৩৬ নম্বর দাগের ৭ শতাংশ জমিসহ ছয় তলা ভবন লুৎফর রহমান মোল্লাকে হেবা করে দেন তার ভাই লোকমান মোল্লা।
২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ১১১ শকুনী মৌজার ৩৯ নম্বর দাগের ৪ শতাংশ জমি কেনেন। দলিলে দাম দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অথচ সেই জমির প্রকৃত মূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি যা শহরের সৈদার বালি এলাকার পারুল বেগম ও কানিজ ফাতেমার কাছ থেকে ক্রয় করেন দুর্নীতিবাজ ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা।
এত শত দুর্নীতি করার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরেই কী থেকে যাবে ভূয়া সনদে নিয়োগপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লারা ??? না-কি তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এসব অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিস্ট্রারদের, সেটাই এখন সচেতন মহলে শতকোটি টাকার প্রশ্ন।।





















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :