কাপাসিয়ায় মাটি খেকোদের লাগাম টানল প্রশাসন: ঝটিকা অভিযানে ভেকু জব্দ, চক্র উধাও


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৬, ২০২৬, ২:২২ AM /
কাপাসিয়ায় মাটি খেকোদের লাগাম টানল প্রশাসন: ঝটিকা অভিযানে ভেকু জব্দ, চক্র উধাও

মাহাবুর রহমান, কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি ::

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফসলি জমি ধ্বংস, ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করা এই চক্রের বিরুদ্ধে সোমবার (৫ই জানুয়ারি) সকালে টোক ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের ‘খুদির বাড়ি’ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এসকেভেটর (ভেকু মেশিন) জব্দ করা হয়। কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অভিযুক্তরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমি থেকে বালু ও মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে করে ফসলি জমির শ্রেণি অবৈধভাবে পরিবর্তন, জমির উর্বরতা নষ্ট, পাশের বসতভিটা ও সড়ক ঝুঁকিতে পড়া, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের মাধ্যমে একাধিক আইন ভঙ্গ করা হচ্ছে – বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বালু বা মাটি উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। ভূমি ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৩০/৪৩১ ধারায় (ক্ষতিসাধন) মামলার সুযোগও রয়েছে বলে আইন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুল হক বলেন, “অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি কৃষি, পরিবেশ ও জননিরাপত্তায় হুমকিজনিত অপরাধ। জনস্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

এলাকাবাসী জানায়, নিয়মিত নজরদারি না থাকলে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থাকা এসব চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত অভিযান, জব্দকৃত যন্ত্র বাজেয়াপ্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন।