“সাকিব হ*ত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ৩, চুনোপুটি গ্রেপ্তারেই কি মুক্তি? এখনো অধরা মূল হোতারা!


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৭, ২০২৬, ১২:১৬ AM /
“সাকিব হ*ত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ৩, চুনোপুটি গ্রেপ্তারেই কি মুক্তি? এখনো অধরা মূল হোতারা!

তেজগাঁও কলেজ প্রতিনিধি

অন্ধকার জগতের নেশা আর ক্ষমতার লড়াই যখন ছাত্রাবাসের পবিত্রতাকে গ্রাস করে, তখন ঝরে যায় রানার মতো সম্ভাবনাময় স্বপ্ন। রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ হারানো উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যা মামলায় তৃতীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

৬ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে ইমতিয়াজ বিন ইউসুফ নামের ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়ল। তবে….এই 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি—শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মী নয়, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘রাঘববোয়ালদের’ আইনের আওতায় আনতে হবে।

৬ই ডিসেম্বর ২০২৪ এর রাতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা। টানা কয়েকদিন মগবাজারের প্রশান্তি হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ই ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান ১৮ বছর বয়সী এই সম্ভাবনাময় মেধাবী তরুণ।

শুরুতে শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও সাকিবের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে চলছে চিরুনি অভিযান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে ডিবির একটি চৌকস টিম বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান চালায়। অবশেষে আজ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রামের নিজ খালার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় ইমতিয়াজকে। এই ইমতিয়াজ তেজগাঁও কলেজেরই ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে:

১. শাহরিয়ার সরকার রিফাত: শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য (গ্রেপ্তার: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪)।
২. হৃদয় আল হাসান: ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী (গ্রেপ্তার: ৪ঠা জানুয়ারি ২০২৫, রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গ্রেফতার করে ডিবি )।
৩. ইমতিয়াজ বিন ইউসুফ (সিয়াম): ৫ই জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রামের খালার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ইমতিয়াজ তেজগাঁও কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

এদিকে সাকিবের সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী মহলের মদদ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে তাদের একটাই দাবি

—”চুনোপুটিদের ধরে মূল ঘটনা আড়াল করা যাবে না। সাকিবের প্রকৃত হত্যাকারী এবং নেপথ্যের হোতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

সাকিব হত্যা মামলার তদন্ত যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে অচিরেই ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে ডিবি পুলিশ। একজন মেধাবী ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

You cannot copy content of this page