পাবনার DR দ্বীপক কুমারের মাসে ধান্দা কোটি টাকা, আছে মানি লন্ডারিং ও দ্বৈতনাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৭, ২০২৬, ৯:২৩ AM /
পাবনার DR দ্বীপক কুমারের মাসে ধান্দা কোটি টাকা, আছে মানি লন্ডারিং ও দ্বৈতনাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগ

অনুসন্ধানী পর্ব —১

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক।।

পাবনা জেলার বহুল আলোচিত জেলা রেজিস্ট্রার      ( D.R) দ্বীপক কুমার সরকার। প্রথম দর্শনে নজদরকাঁড়া নায়কোচিত পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব মনে হলে তাঁর ঘুষ দুর্নীতি ও জাল দলিল বাণিজ্যের শিকড় রয়েছে অনেক গভীরে। পাবনায় যোগদানের শুরু থেকেই তিনি লুটপাট বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আবির্ভূত।। তিনি পাবনাতে প্রতিমাসে বেতনের বাইরে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। জেলা সদরসহ এখানে মোট সাব রেজিস্ট্রি অফিস আছে ১১ টি। প্রতিমাসে ওইসব সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিল সম্পাদন হয় ১০/১১ হাজার। আর এসব দলিল প্রতি তিনি তাঁর সহকারীর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন ১ হাজার টাকা হিসেবে নাস্তা খরচের নামে কোটি টাকা।

তাছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও শেখ হাসিনার পেতাত্মা দ্বীপক কুমারের নামে বেনামে রয়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। সংগোপনে ব্যবহার করেন একাধিক বেনামী ব্যাংক একাউন্ট। তিনি শেখ হাসিনার বদৌলতে ভারতীয় ” র ” এর প্রিয়জন হিসেবে খ্যাত।। এছাড়া জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমারের নামে রয়েছে যুবতী, তরুণী ও প্রবাসীদের সুন্দরী স্ত্রীদের কে ” বেড রুমে নিয়ে যাওয়ার ” কূপ্রস্তাবের একাধিক অভিযোগ। এক ললনা নাম প্রকাশের স্বার্থে বলেন আমার দলিলে সমস্যা ঠিক করে দেয়ার নামে তিনি তাঁর অন্দরমহলে আমাকে একাকী নিরিবিলি দেখা করার জন্য একাধিকবার সরাসরি ও মোবাইলে কূপ্রস্তাব দিয়ে বলেন, সব ঝামেলা এক স্বাক্ষরেই জল করে দেবো তুমি আমার বাসায় একা একা অটো নিয়ে চলে আসো, তোমার দলিলের বিষয়ে একটাকাও সাব রেজিস্ট্রারদের পিছনে খরচ করতে হবেনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ই আগষ্ট ২০২৪ জুলাই আন্দোলনের মুখ শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে দ্বীপক কুমার আইজিআর অফিসের অনুমতি ছাড়াই কোলকাতায় পালিয় যেয়ে আত্মগোপন করেন।। সে সময় দীর্ঘদিন যাবৎ অনুপস্থিত থাকার কারণে ব্যাপক ক্ষোভে ফেটে পরে ভূক্তভোগী ও সচেতন মহল।
এর আগে শেখ হাসিনার পেতাত্মা দ্বীপক কুমার ” জুলাই বিপ্লব দমন”” করার মানসে কতিপয় অসস্ত্রধারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সাথে রাতের আঁধারে গভীর চক্রান্ত ও শলাপরামর্শে লিপ্ত হন। তাছাড়াও ছাত্র জনতার ওই আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য বিশেষ মহলের ফোন পেয়ে মোটা অংকের টাকা লগ্নী করেন।

ওই সময় পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন ভুক্তভোগী দলিলদাতা ও দলিলগ্রহীতাগণ। ২৯ শে জুলাই ২০২৪ ইং তারিখে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পাবনা কোর্ট চত্বরে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলমের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রতি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গড়ে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়, যা না দিলে দলিল বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া, জেলার প্রতিটি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন, “রেজিস্ট্রার অফিসে আগে গোপনে টাকা দিতে হয়, না দিলে কাজ আটকে দেওয়া হয়।” জেলা রেজিস্ট্রার এর কাছে অভিযোগ দিতে গেলে তিনি একাকী তার বেডরুমে দেখা করার নোংরা প্রস্তাব দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূক্তভোগী ও দলিল লেখক সমিতির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার অফিস শেষে তার সহকারী ও তাকে তলাশী করলে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম অবৈধ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে পারবে।   

 

( চলবে)।।

 

এরপর আগামীকাল বিস্তারিত পড়ুন জাতীয় দৈনিক দেশবাংলা, এই আমার দেশ ও আজকের পেপার পত্রিকার প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সনে।।

You cannot copy content of this page