
নিজস্ব প্রতিবেদক, দর্শনা:
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পানিতে একের পর এক এলাকা প্লাবিত হয়ে অসংখ্য মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রান্না, খাওয়া, চলাচল এমনকি নামাজ আদায় করতেও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, দর্শনা বাজার সংলগ্ন কেরু কোয়ার্টারের ১৫টি পরিবারের প্রায় ৬০-৭০ জন, শ্যামপুর হিন্দুপাড়ার ৬টি পরিবারের প্রায় ৩০-৪০ জন এবং আজমপুর স’মিলপাড়ার ৪টি পরিবারের প্রায় ২০ জন মানুষ বর্তমানে পানি বন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি দর্শনার ঐতিহ্য হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পানি বের হয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কেরু কর্তৃপক্ষ একাধিকবার অস্থায়ীভাবে কাজ করলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। কিছু কর্মকর্তার অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
দর্শনা রেলবাজার, মিলপাড়া, বাজারপাড়া, আজমপুর, ইসলাম বাজার ও মোবারকপাড়ায় নিয়মিত মানুষের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু বর্জ্য পানি বের হলে বাজার সংলগ্ন এলাকা দূষিত হয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মুসল্লিরা মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এলাকাবাসী আরও জানান, কেরুর আধুনিকায়ন প্রকল্পের নতুন বয়লার হাউজ থেকে অতিরিক্ত শব্দ, বর্জ্য পানির দুর্গন্ধ এবং ছাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরুর বর্জ্য পানির সঙ্গে ড্রেন ও টয়লেটের নোংরা পানি মিশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ওই পানিতে সাপ ও পোকামাকড়ও দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে এই নোংরা পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এর আগেও পানি ঢুকে পরে শুকিয়ে গেলে আশপাশের গাছপালা মরে যাওয়ার নজির রয়েছে। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে তা শুধু রেলবাজার নয়, দর্শনার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দায়সারা কাজ ছাড়া স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁরা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হয়েছে। আগামীকালও কাজ চলবে। পৌরসভার ড্রেন নিচু হওয়ায় পানি ঠিকভাবে নামতে পারছে না। বিষয়টি সমাধানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি।’
চিনিকলের অতিরিক্ত শব্দ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ বছর শব্দ কমানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে কী করা যায় তা দেখা হবে। প্রকল্পটি এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এটি সরকারি প্রকল্প, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক “সময়ের সমীকরণ” চুয়াডাঙ্গা।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :