নওগাঁর এএসপির বিরুদ্ধে চালক কে ‘মারধরের’ অভিযোগ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৮, ২০২৬, ৬:৫৪ AM /
নওগাঁর এএসপির বিরুদ্ধে চালক কে ‘মারধরের’ অভিযোগ

নেপথ্যে টিকিট জালিয়াতি ও যাত্রী হয়রানী  অনুসন্ধানী প্রতিবেদক: 

নওগাঁর সাপাহারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি, সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে বাসচালককে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমাচল পরিবহনের একটি বাসে টিকিট জালিয়াতি এবং সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে হেল্পার-সুপারভাইজারের চরম দুর্ব্যবহারের ঘটনা আড়াল করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও টিকিট জালিয়াতি

গত ৪ জানুয়ারি (রবিবার) সকালে সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাসে (সকাল ৯:৩০ মিনিটের ট্রিপ) এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী ও কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ যাত্রী হিসেবে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের ভাষ্যমতে, বাসটি ছাড়ার আগেই নির্ধারিত সিটের চেয়ে বেশি টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। বিশেষ করে ‘আই-৩’ ও ‘আই-৪’ নম্বর সিটগুলো চারজন আলাদা যাত্রীর কাছে বিক্রি করা হয়।
সাপাহার থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যাওয়ার পর নতুন যাত্রী উঠে সিট দাবি করলে বাসের ভেতর চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ সময় বাসের সুপারভাইজার সিয়াম এক বয়স্ক যাত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও রূঢ় আচরণ করেন।

যাত্রীদের বয়ান

বাসে থাকা যাত্রী নাসির উদ্দিন জানান, “সুপারভাইজার বয়স্ক লোকটিকে যেভাবে ধমকাচ্ছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর। একই সিট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে তারা যাত্রীদের সাথে প্রতারণা করছিল।”

জানা যায়, কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ পেছনের একটি ফাঁকা সিটে বসলে সুপারভাইজার তাকেও অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং সিট ছাড়তে বাধ্য করেন। জয়ন্ত বর্মণ ভদ্রভাবে কথা বলার অনুরোধ করলে চালক বাদলও সুপারভাইজারের পক্ষ নিয়ে তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

অভিযোগ বনাম বাস্তবতা

স্বামীর সাথে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এবং বাসে যাত্রী হয়রানির অভিযোগে চালক ও সুপারভাইজারকে এএসপি কার্যালয়ে ডাকা হয়।

পুলিশের সূত্র জানায়, চালক বাদল অফিসে এসে নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। তবে সুপারভাইজার সিয়াম সেখানে উপস্থিত হননি।

এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ বলেন, “আমি আসামির গায়েও কখনো হাত দিতে দেই না, সেখানে একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে মারার প্রশ্নই আসে না। বাসে টিকিট অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানির জবাবদিহিতার জন্য তাদের ডাকা হয়েছিল। চালক ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

নেপথ্যে শ্রমিক নেতা ও তদন্ত

অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার পেছনে একজন প্রভাবশালী শ্রমিক নেতার মদদ রয়েছে, যিনি ওই বাসের মালিক বলেও জানা গেছে। বাসের অনিয়ম আড়াল করতে এবং পুলিশি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতেই তারা ‘মারধরের গল্প” সাজিয়ে গণমাধ্যমে প্রচার করেছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে এএসপির বিরুদ্ধে মারধরের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

বর্তমানে এলাকায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে বাসের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন পুলিশ কর্মকর্তাকেই উল্টো হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে।

You cannot copy content of this page