
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজারের আলু ব্যবসায়ী মোঃ ইসমাইল সরদারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পাওনা টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বর্তমানে আদালতে অন্তত ১২ টি মামলা বিচারাধীন।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইন্দ্রিরা গ্রামের মৃত মোকছেদ আলী সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার সুলতানপুর বড়বাজারে মেসার্স ফারহা ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী। তিনি ব্যবসার কথা বলে বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নেন।
এছাড়া আলু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকিতে মালামাল কিনে টাকা পরিশোধের বিপরীতে নিজের ব্যাংক হিসাবের চেক প্রদান করেন। তবে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় পাওনাদাররা ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হন। ভুক্তভোগীদের দাবি চেক জালিয়াতের মাধ্যমে ইসমাইল প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতে নিয়েছেন। টাকা ফেরত না পেয়ে পাওনাদাররা সাতক্ষীরা আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়,ইসমাইলের বিরুদ্ধে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক (সেশন ৩৩২/২২), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (সেশন ১৬০৭/২১) এছাড়াও ব্যবসায়ী জবেদ আলী, শেখ মহসীন, তৌফিকুজ্জামান লিটু ও সাইদুর রহমান সহ অনেকের মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সাজা ভোগের পর বেরিয়ে এসে তিনি আবারো ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো হলো- সুলতানপুর বড়বাজারের আলু ব্যবসায়ী জবেদ আলী কর্তৃক (সেশন ১২২৩/২১), শেখ মহসীন কতৃক সেশন ১৫৫৪/২০,সেশন ৩৮৮/২১, সেশন ৮৪১/২১, তৌফিকুজ্জামান লিটু কতৃক সেশন ১৬০৩/২১, মোঃ সাইদুর রহমান কতৃক সেশন ৮৫৫/২১, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখা কতৃক সেশন ৩৩২/২২ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখা কর্তৃক সেশন ১৬০৭/২১।
এসব মামলা সাতক্ষীরা আদালতে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইসমাইল সরদারের বিরুদ্ধে মোঃ আব্দুস সামাদ কর্তৃক সিআর মামলা চলমান রয়েছে।
পাওনাদাররা বলেন, ব্যবসার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন কিন্তু বারবার তাগাদা দিয়েও টাকা না পেয়ে আদালতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি। আমরা দ্রুত এই প্রতারণার বিচার ও টাকা ফেরত চাই। ভুক্তভোগীরা চেক গ্রহীতার আইন ও আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইসমাইল সরদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :