নিবন্ধন অধিদপ্তরে হাজারো বৈষম্য, যোগ্য আর অযোগ্যর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই !!!! 


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৯, ২০২৬, ১০:২৬ AM /
নিবন্ধন অধিদপ্তরে হাজারো বৈষম্য, যোগ্য আর অযোগ্যর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই !!!! 

সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থ বা রাজস্ব আনয়নকারী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন অধিদপ্তর। যে অফিসটিকে দেশের অধিকাংশ মানুষ বলেন আইজিআর ( IJR) স্যারের অফিস।। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে হাজার হাজার কেটি টাকা রাজস্ব জমা হলেও এখানে যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের তেমন দৃশ্যমান মূল্যায়ন নেই।

পতিত শেখ হাসিনার শাসনামলে সাবেক দুই আইনমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম ও আনিসুল হক এই অফিসটিকে বানিয়েছিলেন ঘুষ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে। তাঁদের পিএস বাবু ও এপিএস জীবন এই অফিসকে ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করেন। এই অফিস ঘিরে ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার কাম ভূয়া মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে ১৭০ জন ১ বছর থেকে ৫/৬ বছর বয়সী কথিত মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিস্ট্রার থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। জনশ্রুতি আছে নিবন্ধন অধিদপ্তরের বড়োবাবুর মাধ্যমে যারা কড়কড়ে কালোটাকার বান্ডিল আর হাজারো উপঢৌকনে কর্মকর্তাদের তুষ্ট করতে পেরেছেন, এখন তারাই রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।।

মুন্সিগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার BRSA’ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক আইনমন্ত্রীর কথিত ক্যাশিয়ার রমজান খান পদোন্নতি পেয়ে জেলা রেজিস্ট্রার হয়েছেন সেই মুন্সিগঞ্জেই

যেমন মুন্সিগঞ্জের নব্য DR রমজান খান, কুতুবদিয়া কক্সবাজারের সাব রেজিস্ট্রার ভারত বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের শক্তিতে বলিয়ান প্রিয়দর্শিনী বিপাশা বড়ুয়া।

ভূয়া ও অযোগ্যদের মধ্যে অনেকেই পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন সাব রেজিস্ট্রার। আবার কেউ কেউ হয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার।। আবার গোপনসিঁড়ি ব্যবহারের সুফল হিসেবে বেশ কয়েকজন চৌকস গুণাবলীর সর্বোচ্চ শিক্ষিত সাব রেজিস্ট্রারদের মাথা ডিঙিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে উড়িয়ে এনে জাহিদুল হককে রাজধানীর পল্লবীতে, আবরার ইবনে রহমানকে পঞ্চগড় থেকে তুলে এনে সূত্রাপুর সাব রেজিস্ট্রার পদে, সাব রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমানকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ “” ধানমন্ডি “” সাব রেজিস্ট্রার অফিসে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। সুদূর মফস্বল থেকে তুলে এনে দেশের ভিভিআইপি সাব রেজিস্ট্রার অফিসের এসব আকষ্মিক পদায়ন ঘিরে খোদ তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের অফিসার স্টাফ ও দলিল লেখকদের মধ্যে নানামূখী ইঙ্গিতপূর্ণ চাপা সমালোচনার ঝড়।।

আর ” কদমবুচি ” করতে বা অবনত মস্তকে কর্মকর্তাদের পদলেহন করতে অস্বীকার করেন তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অজপাড়াগাঁ তথা অচ্ছুৎ মফস্বলে। যেমন দেশের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ শিক্ষিত সাব রেজিস্ট্রার BSRA এর সাবেক মহাসচিব ইমরুল খোরশেদ, নারায়ণ ঘোষ প্রমূখ।

এখনো পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তর ভূয়া সাব রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি সাব রেজিস্ট্রারদের মধ্যে দেশসেরা লুটেরা হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার বরিশাল সদর খ্যাত অসীম কল্লোল। পটুয়াখালী সদরের সাব রেজিস্ট্রার মো: ফারুক, কলাপাড়া-খেপুপাড়ার কাজী নজরুল ইসলাম, ধামরাই কালামপুর খ্যাত মঞ্জুরুল ইসলাম ( লালমোহন, ভোলা), রংপুর সদর খ্যাত দ্বৈত নাগরিকত্বের শক্তিতে বলিয়ান পীরগাছা সাব রেজিস্ট্রার কুড়িগ্রামের রাম জীবন কুন্ডু, সদ্য এলপিআরে যাওয়াল নিয়ামতপুর নওগাঁর মুক্তিয়ারা খাতুন, ঢাকার উত্তরা খ্যাত বর্তমানে নীলফামারী জেলার জলঢাকার লুৎফর রহমান মোল্লা, বাগেরহাট মোংলার স্বপন কুমার দে, কিশোর সদরের মিনতী দাস ও তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার পরিতোষ দাস, রূপগঞ্জ খ্যাত সাব রেজিস্ট্রার খোন্দকার গোলাম কবির ( শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), ধানমন্ডি ও যশোর চৌগাছার আবুল হোসেন, নোয়াখালীর সাব রেজিস্ট্রার আবু হানিফ মো: মোস্তফা, টঙ্গীর সাব রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল ( দিনাজপুর), গাজীপুর শ্রীপুর কাপাসিয়ার সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল প্রমূখ। এই রকম শতো শতো কোটি টাকা লুটেরা সাব রেজিস্ট্রাররা রয়েছে খোশমেজাজে এখনো বহাল তবিয়তে।

৩০ লাখ খ্যাত সাব রেজিস্ট্রার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস।

ইতোমধ্যে অনেককেই দেয়া হয়েছে পদোন্নতি। এদেরমধ্যে নরসিংদীর জেলা রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমান, রাজবাড়ীর শেখ মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ, মুন্সিগঞ্জের রমজান খান অন্যতম। যদিও কাওসার আহমেদ প্রকৃত মেধাবী এবং যোগ্যতম অফিসার হিসেবে বহুবার বহু ক্রিটিকাল মুহুর্তে এই দপ্তরকে তিনি সততার আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। 

তবে অনেক সাব রেজিস্ট্রারকে অজপাড়াগাঁ ও মফস্বল থেকে তুলে এনে বিশেষ কারণ বশতঃ বসানো হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের বনেদী কার্যালয়ে।। এরমধ্যে একজন গোপালগঞ্জের প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, যিনি সম্প্রতি পল্লবী সাব রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব পালন করাকালীন বাউনিয়া মৌজার ১০ শতক জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে ১ দলিলেই ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সমালোচনায় আসার পর শেখ হাসিনার পেতাত্মা প্রদীপ কুমারকে পাঠানো হয়েছে চর রাজিবপুরে।

তেমনি পদোন্নতী না দিয়ে ইমরুল খোরশেদদের মতো কর্মোদ্যমী চৌকস উচ্চশিক্ষিত সজ্জন সাব রেজিস্ট্রারদের রাখা হয়েছে ” যথা পূর্বং তথা পরং “” পজিশনে।

আবার প্লেনে যাতায়াতকারী মোহাম্মদপুরের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার কোটি কোটি টাকা লুটপাট করলেও তাকে পাঠানো হয়েছে উপমহাদেশের প্রথম ডিস্ট্রিক্ট যশোরের ঝিকরগাছাতে।

আর সাম্প্রতিক সময়ের লুটপাট বাণিজ্যের প্রধান শিরোমণি গাজীপুর নিবাসী আইনের ছাত্র জাহিদুল হককে ময়মনসিংহের “ত্রিশাল ” থোকে উড়িয়ে এনে পদায়ন করা হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের বনেদী অফিস”পল্লবী”তে।। এখানে তিনি জসিম রাজিব সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে দেদারসে লুটপাট ও জালজালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।। 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে আইন মন্ত্রনালয় ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের জনৈক কর্মকর্তার অন্যায় আব্দারে রাজিমনা হওয়ায় অনেক SR ও DR কে পাঠানো হয়েছে নির্বাসনে।।

এছাড়া শেখ হাসিনার পেতাত্মা ও দ্বৈত নাগরিক পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমারের নামে কোটি কোটি টাকা ও নারীলিপ্সুতার অভিযোগ উত্থাপন হলেও দিল্লীর আশীর্বাদে দ্বীপক কুমার রয়েছেন খোশমেজাজে।।

আগামীকাল বিস্তারিত পড়ুন জাতীয় দৈনিক এই আমার দেশ ও আজকের পেপার পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।।

You cannot copy content of this page