

সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থ বা রাজস্ব আনয়নকারী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন অধিদপ্তর। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে হাজার হাজার কেটি টাকা রাজস্ব জমা হলেও এখানে যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের তেমন দৃশ্যমান মূল্যায়ন নেই। যতো মূল্যায়ন আর সুযোগসুবিধা সব গোপনসিঁড়িতে উপঢৌকন আর কালোটাকাতেই সীমাবদ্ধ বলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে।
পতিত শেখ হাসিনার শাসনামলে সাবেক দুই আইনমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম ও আনিসুল হক এই অফিসটিকে বানিয়েছিলেন ঘুষ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে। আইন মন্ত্রনালয়ের অধীনে দেশের আদালত ভবনে এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের আদেশে প্রায় ৮/১০ হাজার কর্মচারী ও ১৭০ ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার তথা কথিত মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী নিয়োগে দেড়বছর থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় আইন মন্ত্রনালয় ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পিএস বাবু ও এপিএস জীবন এই অফিসকে ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করেন। নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্যের চরম সীমায় পৌঁছায় এই দপ্তর।

তাছাড়া দেশের সকল সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে অবৈধ টাকা কালেক্ট করে ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সাবেক ডিআর সাবেকুন নাহার ও তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রার ও বর্তমানে মুন্সিগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার এবং BRSA এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রমজান খান প্রতি মাসে আইনমন্ত্রীর ইন্দিরা রোডের বাসায় প্রকাশ্যে পৌঁছে দিতেন বলে জনশ্রুতি আছে।


সাবেকুন নাহার দীর্ঘদিন সাব-রেজিস্ট্রার( SR) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় প্রত্যেকটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেখে এসেছেন দুর্নীতির স্বাক্ষর। কমিশনে দলিল সম্পাদন, জমির শ্রেণী পরিবর্তন, জাল দলিল সম্পাদন এবং ‘খাড়া দলিল’ সম্পাদনে তিনি নিতেন মোটা অংকের ঘুষ। ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার হওয়ার আগে তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার। এরও আগে তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার। ওই সময় তিনি সরকারি ফি’র অতিরিক্ত দলিল প্রতি লাখে ৩০০ টাকা নিতেন। দলিল লেখক সমিতির নামে দিতে হতো দলিলপ্রতি ৮শ’ টাকা করে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে কোনো ফি না থাকলেও তিনি দলিলপ্রতি ১৫শ’ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা নিতেন। হেবা দলিলেও ছিল না কোনো ফি। কিন্তু সাবিকুন নাহার নিতেন ১৫শ’ টাকা করে। বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রিতে নিতেন ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনো দলিলে পর্চার মূল কপি না থাকলে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি ফটোকপি দিয়েও রেজিস্ট্রি করতেন। নকল তুলতে দলিল প্রতি ভেন্ডার নিতেন ২ হাজার টাকা করে। এখান থেকে ৫শ’ টাকা বখরা পেতেন সাবিকুন নাহার। রূপগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে মাসে গড়ে দলিল হতো ১২শ’টি। এই হারে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে সাবিকুন নাহারের মাসিক আয় ছিল ৫০ লাখ টাকার বেশি।
জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে অব্যাহত রাখেন ঘুষ বাণিজ্য। কর্মকর্তা-কর্মচারি, দলিল লেখক এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে তিনি ঘুষ নিতেন অভিনব কায়দায়।
তার অধীনস্থ ঢাকা সদর, কেরাণীগঞ্জ, গুলশান, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর, উত্তরা, বাড্ডা, আশুলিয়া, খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া কাজ হতোনা।
ওই সময় উত্তারার ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা(বর্তমানে নীলফামারীর জলঢাকায় কর্মরত) গুলশান সাব রেজিস্ট্রার রমজান খান জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী নেতাদের নামে বিভিন্ন ফ্লাট, প্লট দলিল করে দিয়ে নিজেরা বনে যান অবৈধ টাকার মালিক। তাছাড়া সাবেকুন নাহার ও রমজান খান ছিলেন ঢাকা গাজীপুরসহ সারাদেশের ৪৯৫ সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে মাসিক দক্ষিণার টাকা ফার্মগেটের নিকটবর্তী ইন্দিরা রোডে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাড়িতে ও গুলশানের বাসাতে প্রকাশ্যে পৌঁছে দিয়ে সাবেকুন নাহার ও রমজান খান বনে যান, সাবেক আইনমন্ত্রীর কথিত ক্যাশিয়ার!! সে সময় এই “”রমজান-সাবেকুন”” সিন্ডিকেট নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের প্রধান কুশীলব হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করেন। নিয়োগ আর বদলি বাণিজ্য থেকে লুটে নেন বস্তা বস্তা টাকা।
তবে রমজান খান ও সাবেকুন নাহারকে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। সাবেকুন নাহার গাজীপুর লুটে সম্প্রতি লক্ষীপুর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে( পিআরএল) এ গেছেন।
আর সাবেক আইনমন্ত্রী ও সাবেক ছাত্রলীগের পেতাত্মা রমজান খান শাস্তির বদলে হয়েছেন পুরষ্কৃত। আইন মন্ত্রনালয়ের বিশেষ বিবেচনায় ( কেউ কেউ বলেন গোপনসিঁড়ি ব্যবহার করে) মুন্সিগঞ্জ সিরাজদীখান সাব রেজিস্ট্রার থাকাকালীন ( ১০/০৯/২০২৪ ইং তারিখে ) হাস্যকরভাবে বনে যান মুন্সিগঞ্জেরই জেলা রেজিস্ট্রার( DR), আর ফলশ্রুতিতে ” বাংলাদেশ রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন” ( BRSA) নতুন কমিটিতে হয়েছেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।। মূল সভাপতি চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খোন্দকার জামিলুর রহমান একটু দূরে থাকার সুযোগ নিয়ে সভাপতির ভূমিকাও পালনে সক্রিয় রমজান খান।
তিনি আগে থেকে এবং এখনো চলেন বিলাসবহুল গাড়িতে। নিজ এলাকা কেরাণীগঞ্জের শাক্তায় রয়েছে তাঁর শত কোটি টাকার সম্পত্তি। রাজধানীর হাতিরপুল, গুলশান ও উত্তরায় রয়েছে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট। ধানমন্ডির রোড নং-৯-এ, ১৫ কাঠা প্লটের ওপর নির্মাণ করেছেন ‘গোলাপ ভিলা-১’ এবং ‘গোলাপ ভিলা-২’ নামে ৮ তলা বাড়ি। নামে-বেনামে তার রয়েছে মার্কেট, দোকান এবং স্বর্ণের ব্যবসা।
তার আওয়ামী কানেকশনের প্রভাবে তার স্বামী সৈয়দ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ৮ বছর ধরে মৎস্য অফিসার হিসেবে ৮ বছর কেরাণীগঞ্জে কর্মরত ছিলেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
২০২২এর আগে বিগত কমিশন আমলে সাবিকুন নাহারের দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান হলেও অদৃশ্য ইশারায় সেগুলো ‘নথিভুক্ত’ হযে যায়।

তদন্ত চলাকালীন তিনি বদলি নিয়ে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব নিয়ে মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী পরিচয়ধারী তিনজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিস্ট্রার তৎকালীন গাজীপুর সদরের ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম, টঙ্গীর ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও শ্রীপুরের ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলকে নিয়ে ঘুষ দুর্নীতি ও জাল দলিল বাণিজ্যে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেন। সম্প্রতি বছরগুলোতে গাজীপুর থেকে তিনি যেমন নিজে শত-শত কোটি টাকা লুটপাট করেন। তেমনি তিন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাসনদ জালিয়াতি করা ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও ওসমান গণি মন্ডলদের বানিয়ে দেন শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক।
এসব বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হলে আজ পর্যন্ত কোনো ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার, ভূয়া নিয়োগ ও মৌখিক নামমাত্র নিয়োগের উমেদার মোহরার পিয়ন সহকারীরা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেলেও কেউ শাস্তির আওতায় আসেনি।
এই অধিদপ্তর ঘিরে ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার কাম ভূয়া মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে ১৭০ জন ১ বছর থেকে ৫/৬ বছর বয়সী কথিত মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিস্ট্রার থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। জনশ্রুতি আছে নিবন্ধন অধিদপ্তরের বড়োবাবুর মাধ্যমে যারা কড়কড়ে কালোটাকার বান্ডিল আর হাজারো উপঢৌকনে কর্মকর্তাদের তুষ্ট করতে পেরেছেন, এখন তারাই রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।। অনেকের আবার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২০০৯ সালে চাকরী পাওয়ায় পূণরায় ১ বছর করে অনেকের চাকরী বর্ধিত করা হয়েছে। অথচ এরা কেউ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন, তারপরও বিশেষ দেনদরবার আর নগদ নারায়ণে বিভাগীয় কর্তাদের তুষ্ট করে এই ১ বছর করে বর্ধিত করাতে সক্ষম হয়েছেন।

এরমধ্য আছেন গাজীপুরের শ্রীপুর কাপাসিয়া খ্যাত ওসমান গণি মন্ডল, রংপুর সদর ফেরৎ পীরগাছার সাব রেজিস্ট্রার রামজীবন কুন্ডু, দেশসেরা শীর্ষতম লুটেরা বরিশাল সদরের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার অসীম কল্লোল, কিশোরগঞ্জ সদর খ্যাত দ্বৈত নাগরিক মিনতি দাস। আবার এই মিনতি দাসের স্বামী পরিতোষ দাস সেও ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার। ফলে দেশের একমাত্র ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার দম্পতি হলে মনতি- পরিতোষ জুটি।
মুন্সিগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার BRSA’ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক আইনমন্ত্রীর কথিত ক্যাশিয়ার রমজান খান পদোন্নতি পেয়ে জেলা রেজিস্ট্রার হয়েছেন সেই মুন্সিগঞ্জেই পেয়েছেন পোস্টিং, যা শুধু অভাবনীয় বিষয়ই নয় এমন হাস্যকর ঘটনা হাজার বছরে হয়তো একবারই ঘটে।
যেমন মুন্সিগঞ্জের নব্য DR রমজান খান, কুতুবদিয়া কক্সবাজারের সাব রেজিস্ট্রার ভারত বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের শক্তিতে বলিয়ান প্রিয়দর্শিনী বিপাশা বড়ুয়া।
ভূয়া ও অযোগ্যদের মধ্যে অনেকেই পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন সাব রেজিস্ট্রার। আবার কেউ কেউ হয়েছেন শফিকুল ইসলামদের মতে জেলা রেজিস্ট্রার।।
আবার গোপনসিঁড়ি ব্যবহারের সুফল হিসেবে বেশ কয়েকজন চৌকস গুণাবলীর সর্বোচ্চ শিক্ষিত সাব রেজিস্ট্রারদের মাথা ডিঙিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে উড়িয়ে এনে জাহিদুল হককে রাজধানীর পল্লবীতে, আবরার ইবনে রহমানকে পঞ্চগড় থেকে তুলে এনে সূত্রাপুর সাব রেজিস্ট্রার পদে, সাব রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমানকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ “” ধানমন্ডি “” সাব রেজিস্ট্রার অফিসে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। সুদূর মফস্বল থেকে তুলে এনে দেশের ভিভিআইপি সাব রেজিস্ট্রার অফিসের এসব আকষ্মিক পদায়ন ঘিরে খোদ তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের অফিসার, স্টাফ ও দলিল লেখকদের মধ্যে চলছে নানামূখী ইঙ্গিতপূর্ণ চাপা সমালোচনার ঝড়।।
আর ” কদমবুচি ” করতে বা অবনত মস্তকে কর্মকর্তাদের পদলেহন করতে যারা অস্বীকার করেন তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অজপাড়াগাঁ তথা অচ্ছুৎ মফস্বলে।
এখনো পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তর ভূয়া সাব রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও শিক্ষাসনদ জালিয়াতি সাব রেজিস্ট্রারদের মধ্যে দেশসেরা লুটেরা হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার বরিশাল সদর খ্যাত অসীম কল্লোল। পটুয়াখালী সদরের সাব রেজিস্ট্রার মো: ফারুক, কলাপাড়া- খেপুপাড়ার কাজী নজরুল ইসলাম, ধামরাই কালামপুর খ্যাত মঞ্জুরুল ইসলাম ( লালমোহন, ভোলা), রংপুর সদর খ্যাত দ্বৈত নাগরিকত্বের শক্তিতে বলিয়ান পীরগাছা সাব রেজিস্ট্রার কুড়িগ্রামের রাম জীবন কুন্ডু, সদ্য এলপিআরে যাওয়া পত্নিতলা নওগাঁর মুক্তিয়ারা খাতুন, ঢাকার উত্তরা খ্যাত বর্তমানে নীলফামারী জেলার জলঢাকার লুৎফর রহমান মোল্লা, বাগেরহাট মোংলার স্বপন কুমার দে, কিশোরগঞ্জের সদরের মিনতী দাস ও তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার পরিতোষ দাস, রূপগঞ্জ খ্যাত সাব রেজিস্ট্রার খোন্দকার গোলাম কবির ( শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), ধানমন্ডি ও যশোর চৌগাছার আবুল হোসেন, নোয়াখালীর সাব রেজিস্ট্রার আবু তাহের মো: মোস্তফা, টঙ্গীর সাব রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল ( দিনাজপুর), গাজীপুর শ্রীপুর কাপাসিয়ার সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল প্রমূখ।
এই রকম শতো শতো কোটি টাকা লুটেরা সাব রেজিস্ট্রাররা রয়েছে খোশমেজাজে এখনো বহাল তবিয়তে।
তবে অনেক সাব রেজিস্ট্রারকে অজপাড়াগাঁ ও মফস্বল থেকে তুলে এনে বিশেষ কারণ বশতঃ বসানো হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের বনেদী কার্যালয়ে।। এরমধ্যে একজন গোপালগঞ্জের প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, যিনি সম্প্রতি পল্লবী সাব রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব পালন করাকালীন বাউনিয়া মৌজার ১০ শতক জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে ১ দলিলেই ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সমালোচনায় আসার পর শেখ হাসিনার পেতাত্মা প্রদীপ কুমারকে পাঠানো হয়েছে চর রাজিবপুরে।
তেমনি পদোন্নতী না দিয়ে ইমরুল খোরশেদদের মতো কর্মোদ্যমী চৌকস উচ্চশিক্ষিত সজ্জন সাব রেজিস্ট্রারদের রাখা হয়েছে ” যথা পূর্বং তথা পরং “” পজিশনে।

আবার প্লেনে যাতায়াতকারী মোহাম্মদপুরের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার শাহিন আলম কোটি কোটি টাকা লুটপাট করলেও তাকে পাঠানো হয়েছে উপমহাদেশের প্রথম ডিস্ট্রিক্ট যশোরের ঝিকরগাছাতে।

আর সাম্প্রতিক সময়ের লুটপাট বাণিজ্যের প্রধান শিরোমণি গাজীপুর নিবাসী আইনের ছাত্র জাহিদুল হককে ময়মনসিংহের “ত্রিশাল ” থোকে উড়িয়ে এনে পদায়ন করা হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের বনেদী অফিস”পল্লবী”তে।। এখানে তিনি জসিম রাজিব সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে দেদারসে লুটপাট ও জালজালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।।
অনুসন্ধানে জানা গেছে আইন মন্ত্রনালয় ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের জনৈক কর্মকর্তার অন্যায় আব্দারে রাজি না হওয়ায় অনেক SR ও DR কে পাঠানো হয়েছে নির্বাসনে।।

এছাড়া শেখ হাসিনার পেতাত্মা ও দ্বৈত নাগরিক পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমারের নামে কোটি কোটি টাকা ও নারীলিপ্সুতার অভিযোগ উত্থাপন হলেও দিল্লীর আশীর্বাদে দ্বীপক কুমার রয়েছেন খোশমেজাজে।।
।
আগামীকাল বিস্তারিত পড়ুন জাতীয় দৈনিক আজকের পেপার পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।।






















You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :