সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রারের মাসিক ধান্দা অর্ধ কোটি টাকা


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২২, ২০২৬, ১২:১৫ PM /
সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রারের মাসিক ধান্দা অর্ধ কোটি টাকা

নেপথ্যের কুশীলব মোয়াজ্জেম হোসেন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাব রেজিস্ট্রার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর

সজীব আকবর,সিনিয়র অনুসন্ধানী প্রতিবেদক,ঢাকা:

সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যে বরাবরই আছেন অন্যতম শীর্ষস্থানে। তাঁর অধিনস্ত জেলার ৯ টি সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সদ্য বিদায়ী সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে প্রতিমাসে চুক্তির ২৫ লাখ টাকা কালেকশন করেন সংগোপনে। এছাড়া বদলী, পদোন্নতি, দলিল লেখক ও কাজীদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রও তিনি ইচ্ছেমাফিক দক্ষিণা আদায় করে থাকেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের আওতায় রয়েছে মোট ৯ টি সার রেজিস্ট্রার অফিস। এ অফিসগুলো হলো সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, নান্দাইল, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, সলংগা ও শাহাজাদপুর।
এসব অফিসে ঘুষ দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট। প্রতি কর্মদিবসে এসব সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল ৬/৭ শ। জমি রেজিষ্ট্রেশন এর সময় স্ব স্ব অফিসে সরকারী ফিসের বাইরে ৯ হাজার থেকে ২৫/৩০ হাজার টাকা করে টেনে নেন সাব রেজিস্ট্রারদের বিশেষ সহকারী ও উমেদার নকলনবিশরা। প্রতিটি অফিসে এসব টাকার বাইরেও সেরেস্তা খরচ ও জেলা রেজিস্ট্রার এর চা নাস্তা খরচের নামে দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা করে কর্তন করা হয়। প্রতি কর্মদিবসে তাই সিরাজগঞ্জ DR এর ঝুলিতে জমা পড়ে নাস্তা খরচের নামে ৩ লাখ টাকা। প্রতিমাসে জেলা রেজিস্ট্রারের পকেটে চলে আসে ৬৬ লাখ টাকা। মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে অর্জিত এসব অবৈধ কালোটাকার বদৌলতে ইতোমধ্যে DR নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

আর নেপথ্যের কুশীলব জেলা রেজিস্ট্রার এর সাবেক ক্যাশিয়ার প্রধান সহকারী  মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাব রেজিস্ট্রার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এখন তিনি নিবন্ধন অধিদপ্তরের জনৈক বড়োবাবু ও ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারকে ম্যানেজ করে স্বপ্নপূরণের মিশন চালিয়ে যাচ্ছেন। 

জন্মসূত্রে আওয়ামী পরিবারের সন্তান শরীফ তোরাফ হোসেন ৩০শে নভেম্বর ১৯৭৬ সালে নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা শরীফ তোরাফ সাব রেজিস্ট্রার থাকাকালীন সময়ে তাঁর প্রত্যেকটি কর্মস্থলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তথা আওয়ামীলীগের অবৈধ ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে অফিস স্টাফ, দলিল লেখক, কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ও চিহ্নিত দালালদের সমন্বয়ে গড়ে তুলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কথায় কথায় জমির শ্রেণী পরিবর্তন, খাসখতিয়ান ( VP) শত্রুসম্পত্তি ( AP) ও বনবিভাগের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি করে দিয়ে লুটে নেন কোটি কোটি টাকা। অবৈধ অর্থের গরমে ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন দমনের মানসে তিনি প্রায় রাতেই কতিপয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের সাথে গভীর রাতে বিভিন্ন শলাপরামর্শে লিপ্ত থাকতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমন করতে ওইসব ক্যাডারদের মাঝে মোটা অংকের টাকা লগ্নী করেন বলে শোনা যায়। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রিয়জন হিসেবে খ্যাত শরীফ তোরাফ হোসেন গোপন সিঁড়ি ব্যবহার করে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে ২০২০ সালের ৮ই নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার বনে যান। ওই সময় জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে অধিষ্ঠিত হন জয়পুরহাটে। অভিনব ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড DR শরীফ তোরাফ হোসেন ও তার প্রধান সহকারীকে অবৈধ টাকাসহ হাতেনাতে আটক করতে যেকোনো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকষ্মিক অভিযান চালালে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম সফলতা পাবে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভাক্তভোগীরা। ( চলবে)

১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় কর্মস্থল সিরাজগঞ্জে যোগদান করেন।

You cannot copy content of this page