অবশেষে পতিত শেখ হাসিনার পেতাত্মা ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬, ৪:৩৬ AM /
অবশেষে পতিত শেখ হাসিনার পেতাত্মা ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ

সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা, পলাতক শেখ হাসিনার পেতাত্মা এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রিয়জন হিসেবে খ্যাত ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহার বিরুদ্ধে হলো অবশেষে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ। ঘুষ দুর্নীতি ও জাল জালিয়াতিতে তিনি বরাবরই সিদ্ধহস্ত। সাব রেজিস্ট্রার থাকাকালীন সময়গুলোতেও তিনি ছিলেন ঘুষ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড। সাব রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার হওয়ার পর পদপদবীর সম্মানের কথা ভেবে অনেকে ঘুষ দুর্নীতির পথ থেকে সড়ে আসলেও পথিক কুমার সাহার ক্ষেত্রে হয়েছে পুরোপুরি উল্টো। বরং তাঁর সাব রেজিস্ট্রার পদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অধিনস্ত সকল সাব রেজিস্ট্রার, অফিস স্টাফ, দলিল লেখক ও কাজীদের কাছ থেকে গত ৫ বছর যাবৎ ” মহাজনী” কায়দায় করছেন অবৈধ অর্থ আদায়। নামে বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। ১লা জুন ২০২০ সালে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে পথিক কুমার সাহার প্রথম পদায়ন ছিলো বরিশালে। বরিশালে সকল সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সহকারীরা তার ঘুষের ক্ষুধা মিটাতে যেয়ে হয়েছেন ক্ষুব্ধ, ত্যাক্ত, বিরক্ত। বরিশালে টানা ৩ বছর লুটপাট ও জাল জালিয়াতি করে ৬ই জুন ২০২৩ সালে যোগদান করেন ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে।

টানা ১৭ বছর পতিত হাসিনা সরকারের শাসনামলে আওয়ামী নেতাদের প্রভাবে লুটেছেন দুহাত ভরে। তবে হাসিনা সরকার ও হাসিনা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সে সময় শীর্ষ পদে ভারতীয়রা চাকরির নামে ছড়ি ঘুরাতো বলে, অজনা আতঙ্কে ভূক্তভোগী বা দুদক টু শব্দটি করেনি পথিক কুমার সাহাদের মতো দ্বৈত নাগরিকের তকমা লাগানো সাব রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে। তাছাড়া বারবার বড়ো ধরনের অপরাধ দুর্নীতি করেও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিস্ট্রার- জেলা রেজিস্ট্রারদের ন্যায় সাবেক ডিআর সাবেকুন নাহার, বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সিগঞ্জ রমজান খান, ওসমান গণি মন্ডল, দেশ সেরা লুটেরা সাব রেজিস্ট্রার অসীম কল্লোল, লুৎফর রহমান মোল্লা, রাম জীবন কুন্ডু, মিনতী দাস, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আবু তাহের মো: মোস্তফা, স্বপন কুমার দে ও চট্টগ্রামের বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার জামিলুর রহমান ও সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমার মতো অনেকই ছিলেন- আছেন ” ধরি মাছ,না ছুঁই পানি” স্ট্যাইলে।

ময়মনসিংহের জেলা রেজিস্ট্রার ও কিশোরগঞ্জের জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা দুই জেলায় তার অধিনস্ত সকল সাব রেজিস্ট্রার অফিস ও জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়কে ঘুষ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেন। তার দুর্নীতি ও মাসোহারা যোগাতে ২টি জেলার সাব রেজিস্ট্রার, সহকারী, মোহরার, পিয়ন, কাজী ও দলিল লেখকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা এক অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে , শীর্ষ দুর্নীতিবাজ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা ময়মনসিংহের যোগদান করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরে সাবেক এ আই জি আর সালাম আজাদের লোক পরিচয় দিয়ে সাব রেজিস্ট্রার ও অধিনস্ত কর্মচারীদের ডেকে দলিল প্রতি ৩০০ টাকা ও নকল প্রতি ২৫০ টাকা, অফিস অডিটে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। সারপ্রাইজ ভিজিটে ১ লক্ষ টাকা, সাব রেজিস্ট্রাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিতে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে আদায় করে থাকেন।

সেই সাথে জেলার সকল নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী)দের নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা করে ৬ মাস পরপর আদায় করে আসছেন। অতি সম্প্রতি তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অডিট করতে নেন ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া ২০২০-২১ অর্থ বছরে বরিশালে কর্মরত থাকাকালীন দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা বিভিন্ন ফান্ডের সরকারি অর্থ ভুয়া ভাউচার দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলেও ঐ অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ আছে ময়মনসিংহের জেলার রেজিস্টার পথিক কুমার সাহা ঘুষের টাকায় গড়ে তুলেছেন ঢাকার বসুন্ধরা সিটি মার্কেটে স্বর্ণের দোকান, ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা আবাসিকে বাড়ি, কানাডার টরেন্টোর বেগমপাড়া ও কলকাতায় বাড়ি সহ নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

You cannot copy content of this page