বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীনের


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬, ১১:৩০ AM /
বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীনের

 

সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

শরীয়তপুরে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রথম পদায়নের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জেরবার শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন। বিগত বছরগুলোতে তিনি যখন সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন, সেই ২০১৬ সাল থেকেই তিনি রয়েছেন দফায় দফায় সংবাদ শিরোনামে। ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ সালে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী হেলেনা পারভীন ছিলেন ছাত্রলীগের নেত্রী। মাহবুব আলম হানিফের আশীর্বাদে ক্রমশ: হয়ে উঠেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রিয়জন বলে জানা যায়। পলাতক শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি তাঁর কর্মস্থলগুলোতে আওয়ামীলীগের ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গোপন সহযোগিতা ও মৌন সম্মতির কারণে তাঁর ডিমোশন হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও।

 

জুলাই আন্দোলন শেষে BRSA নেতাদের দিয়ে তদবির করে গোপনসিঁড়ি ব্যবহার করে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কথিত ক্যাশিয়ার মুন্সিগঞ্জের বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খানের ন্যায় পেয়েছেন বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদন্নোতি!!!

২০১৬ সালে গোপালগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন দলিল লেখকদের ধর্মঘটের কবলে পড়েছিলেন হেলেনা পারভীন তার সীমাহীন অর্থলিপ্সুতা ও স্বেচ্ছাচারিতার স্বাক্ষর গোপালগঞ্জ ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভূক্তভোগী ও সচেতন মহলের মুখেমুখে।

শরীয়তপুরে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের একমাস পর থেকে দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্বমূর্তি ধারণ করতে শুরু করেন তিনি।

শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান সহকারী ও কথিত কালেকশন বস্ ক্যাশিয়ার জাকির হোসেন
শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান সহকারী ও কথিত কালেকশন বস্ ক্যাশিয়ার জাকির হোসেন

তার প্রধান সহকারী জাকির হোসেনের মাধ্যমে ৬ টি সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দলিল প্রতি ৫০০, নকল প্রতি ২৫০ টাকা হারে আদায় করতে থাকেন। তাঁর পদায়নের পর কথিত মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার ওমর ফারুকসহ ৬ সাব রেজিস্ট্রার অফিসে চলতে থাকে বেশুমার ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্য, যা এখনো চলমান।
এখানে প্রতিদিন ৬টি সাব রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল সম্পাদন হয় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০, তাছাড়া নকল ও শ্রেণীবদ্ধ কর্মকাণ্ড থেকে হেলেনা পারভীনের ঝুলিতে জমা পড়ছে প্রতি কর্মদিবসে গড়ে ৫ লাখ টাকা করে তাছাড়া অডিট ও সারপ্রাইজ ভিজিট মানি ও দলিল লেখক, কাজীদের লাইসেন্স নবায়নেও আসছে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা।

নানাবিধ অভিযোগের তীরে বিদ্ধ জেলা রেজিস্ট্রারের অধিনস্ত তাঁর প্রধান সেনাপতি শরীয়তপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয় তথা ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার ওমর ফারুকের অফিসে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে দলিলের শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি, সরকারি খাস খতিয়ান, শত্রু সম্পত্তি, বন বিভাগের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিষ্ট্রেশন, ভলিউম লোপাট, টেম্পারিং, নকল এনআইডির অপপ্রয়োগ, নামজারি ছাড়াই জমি রেজিষ্ট্রেশন ও দলিল প্রতি লাখে ১ হাজার টাকা, ডিআর স্যারের নাস্তা খরচ ৫০০ টাকা, কথিত সেরেস্তা খরচ সহ একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পায় দুদক। বুধবার (১৬ এপ্রিল, ২০২৫) দুপুরে দুদকের মাদারীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে ওই অভিযানের খড়গ থেকে এখনো নিষ্কৃতি পাননি সাব রেজিস্ট্রার উমর ফারুক ও জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন।

দুদক কর্মকর্তারা ওইসময় গণমাধ্যমকে জানান, শরীয়তপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিলের শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি, দাতা-গ্রহীতার নাম পরিবর্তন এবং নকল উত্তোলনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের মতো অভিযোগ পেয়েছি। এগুলো জেলা রেজিস্ট্রার ইচ্ছে করলে কঠোর হস্তে দমন করতে পারেন। কিন্তু তা হয়নি ফলে লাগামহীন ঘুষ দুর্নীতি এখনো চলমান।

অবশ্য শরীয়তপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার ওমর ফারুক সেসময় গণমাধ্যমের সামনে বলেছিলেন, সাব রেজিস্ট্রার অফিসে যাতে অনিয়ম না হয়, দুদকের এমন অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। বিগত দিনের যেসব দলিলে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে, তারা জানতে চাইলে আমি সেগুলো দেখিয়েছি। কিছু রাজস্ব আদায় হয়েছে, কিছু এখনো আদায় হয়নি—এমন দলিল যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এগুলো সংবাদ মাধ্যমের সামনে বললেও ভেতরের খবর ভিন্ন। যা অবহিত আছেন জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন নিজেও।

( চলবে)

আগামীকাল DR হেলেনা পারভীনের নামে বেনামে গড়ে তুলা অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তিসহ বিস্তারিত পড়ুন জাতীয় দৈনিক আজকের পেপার, এই আমার দেশ পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।

You cannot copy content of this page