এলজিইডির ড্রাইভার রুহুল আমিনের ২১ ফ্লাট-প্লট, নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : মার্চ ২৫, ২০২৬, ৮:৫২ AM /
এলজিইডির ড্রাইভার রুহুল আমিনের ২১ ফ্লাট-প্লট, নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ঢাকা:

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে। মাসিক বেতন মাত্র ৩৪ হাজার টাকা হলেও তার নামে বা সংশ্লিষ্টতায় অন্তত ২১টি ফ্ল্যাটে বিদ্যুতের মিটার থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম রুহুল আমিন সরদার।

জানা গেছে, রুহুল আমিন সরদার ১৯৯৬ সালে এলজিইডিতে দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরায় চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। তবে চাকরিতে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনি চাকরি হারান। যদিও রুহুল আমিন দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ই আগস্ট আবারও এলজিইডিতে গাড়িচালক পদে পুনরায় নিয়োগ পান তিনি। বর্তমানে তার মাসিক বেতন ৩৪ হাজার টাকা। তবে পুনঃনিয়োগ পেলেও তিনি নিয়মিত গাড়ি চালান না বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ও তদবিরকে কেন্দ্র করেই তার সময় কাটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজেকে তিনি জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ–সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডিকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারের গোপন তথ্য ফাঁস এবং সরকারি গাড়ির তেল চুরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমেই অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং ও চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় তার নামে বা সংশ্লিষ্টতায় একাধিক জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। একতা হাউজিংয়ের ৪, ৫, ৭ ও ৮ নম্বর রোডে রয়েছে তার জমি এবং প্রায় আটটি ফ্ল্যাট। এছাড়া একসঙ্গে তিন থেকে চারটি ভবনের নির্মাণকাজও চলছে।

চন্দ্রিমা হাউজিংয়েও রয়েছে তার দুটি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে একতা হাউজিংয়ের ৫ নম্বর রোডের ১০১ নম্বর ‘জয়েন্ট টাওয়ার’, চন্দ্রিমা মডেল টাউনের এভিনিউ–২, ব্লক–ই, বাড়ি নম্বর ১৮ ‘রয়েল প্যাসিফিক টাওয়ার’ এবং একই মডেল টাউনের ব্লক–বি, রোড–২, প্লট নম্বর ১০/৭–এ তার ফ্ল্যাটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রাইভার রুহুল আমিন সরদারের নামে অন্তত ২১টি ফ্ল্যাটে বিদ্যুতের মিটার ইস্যু করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহুল আমিন সরদার। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ১৮ জন মিলে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি। বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলের কারণে ১৮টি ফ্ল্যাটের বিদ্যুতের মিটার ও একটি কমন মিটার আমার নামে করা হয়েছে। এছাড়া পাশের আরেকটি ভবনের দুটি মিটারও ভুলবশত আমার নামে হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ২১টি মিটারের মধ্যে আমার নিজের মাত্র একটি মিটার রয়েছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলজিইডির বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতিরই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই কর্মচারীর সম্পদের বিষয়টি। তাদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের এখন জরুরি দায়িত্ব।