ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের আছে অর্ধশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:৩৪ AM /
ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের আছে অর্ধশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয় পরিচয়ে ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সেই অর্থ আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতির আরেক ‘কালো বিড়াল’। সাব রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রার পদে চাকুরি করে জমি, বাড়ী, গাড়ী, ফ্ল্যাট, মিল কারখানা সঞ্চয়পত্রের কোনো কিছুরই যেন কমতি নেই। জামালপুর, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকায় গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। তিনি শেরপুর জেলা রেজিস্ট্রার থাকাকালীন শেরপুর জেলায় কর্মরত সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রারগণের সিল স্বাক্ষর ও পুরাতন স্মারক বহির স্মারক ওভার রাইটিং করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল লেখক লাইসেন্স নকলনবিশ নিয়োগ, ভুয়া কাজী নিয়োগের যোগদান পত্র তৈরি, লাইসেন্স নবায়নের নামে বেশুমার চাঁদাবাজি, বিভিন্ন আবেদনের রিসিভ কপি জাল দলিল তৈরি, দলিলের খতিয়ান দাগ নাম্বার জমির পরিমাণ জমির শ্রেণী পরিবর্তন, সঠিক জমির দলিল ওয়াল্টার এবং ভলিয়মে দলিল লিপিবদ্ধ এবং বিভিন্ন মেডিসিন ও ক্যামিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে দলিলের পাতার লেখা নষ্ট করে নতুন দলিল সৃজন করাসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ বিভিন্ন অফিসিয়াল কাগজপত্র সৃজন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে জাল দলিল শ্রেণি পরিবর্তন করে ভুয়া নামজারি ও জমা খারিজ তৈরি করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি আর জাল জালিয়াতির কারণে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় কিনেছেন দুই হাজার শতক জমি( ৩২০বিঘা), ৪ টি ফ্ল্যাট ১ টি রাইস মিল ও ১ টি দুই তলা নান্দনিক বাড়ী। রয়েছে বিলাস বহুল একাধিক গাড়ীও।

নুর নেওয়াজ ২০০৪ সালে সাব রেজিস্ট্রার হিসাবে চাকুরী নেন পিএসসি কোঠায়। দীর্ঘ বছর এই পদে চাকুরী করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এবং ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে জামালপুর জেলা সদরে কিনেছেন ৮৭০ শতক জমি। ময়মনসিংহ শহরের ৪ নং মোহাম্মদ আলী রোডের রোজ গার্ডেনে স্ত্রী আঞ্জুমান আরা মুক্তা ও নুর নেওয়াজ এর নামে রয়েছে ২ টি ফ্ল্যাট, শহরের নৌমহল এলাকায় ও পন্ডিত বাড়ীতে রয়েছে এই দম্পতির আরো ২ টি ফ্ল্যাট। তোলাদিয়া মৌজায় রয়েছে ১৩ শতক জমি। জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের নামে। টাংগাইল জেলার ধন বাড়ীতে স্ত্রী আঞ্জুমান আরা মুক্তার নামে গড়ে তুলেছেন রাইস মিল।এছাড়াও রয়েছে ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র সহ নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। তার ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও জাল জালিয়াতির বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললে তিনি প্রভাবশালী ও গুন্ডা বাহিনী দিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অনিয়ম দুর্নীতি আর জাল জালিয়াতি স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করার কারনে ছাত্র জনতা গণঅভ্যুত্থানে গঠিত সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে সেই সাথে শেরপুরবাসীর অপুরনীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

ভোলার সচেতনমহল দ্রুত সময়ের মধ্যে নুর নেওয়াজকে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। সেইসাথে অফিস চলাকালীন সময়ে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের আকষ্মিক অভিযান কামনা করেছেন সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।।