
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, সজীব আকবর:

তার সঙ্গে আছেন আরেক উমেদার রাজিব, দু’জনে মিলে পুরো অফিসকে পরিণত করেছেন দুর্নীতির আখড়ায়। ওমেদার রাজিব কথায় কথায় ঘুষ নেন। ঘুষের টাকা দিয়ে তিনি রাজধানীতে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট গড়ে তুলেছেন। এ বিষয়ে রাজিব বলেন, “পরিশ্রম করলে টাকা আসবেই। মানুষের উপকার করলে মানুষও আমাকে টাকা দেয়। ওই টাকা দিয়ে বাড়ি ও গাড়ি করেছি।”
উমেদার জসিমের জীবনের শুরুটা ছিল চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। গার্মেন্টসে কাজ করতেন, সংসার চলত টানাপোড়েনে। পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঝাড়ুদারের কাজ পান। তখন প্রতিদিন মাত্র ৬০ টাকা হাজিরা ছিল তার আয়। কিন্তু আজকের দিনে সেই জসিম রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি, জমিজমা ও বিদেশে ব্যবসার মালিক।
সাধারণ চাকরিজীবী থেকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নেতায় রূপান্তরিত হওয়ার পেছনে রয়েছে দলিল বাণিজ্য ও ঘুষের টাকা।

এলাকাবাসীর মতে, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক দশক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ জসিমের অফিসিয়াল আয় এখনও দৈনিক মাত্র ৬০ টাকা হাজিরা।
বিগত আওয়ামী লীগ সময়ে সাংবাদিকরা তার কাছে তথ্য চাইতে গেলে নিজেকে পরিচয় দিতেন টুঙ্গীপাড়ার বাসিন্দা বলে এবং আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখাতেন ২০২৪ সালে এক সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহের জন্য তার কাছে গেলে তাকে তিনি হুমকি দেন বলেন আমার বাড়ি টুঙ্গিপাড়া আপনি কিছুই করতে পারবেন না পরবর্তীতে সেই সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি সাধারন ডাইরি করেন নিজের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে।”
এমনকি এক সাংবাদিক তার ভয়ে মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তিনি নিয়মিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে দেন, যার ফলে তার সিন্ডিকেট অক্ষত থাকে।
জসিমের কাছে কোন গণমাধ্যম কর্মী গেলেই তাকে তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল প্রিন্ট মিডিয়া অনলাইন সহ শীর্ষ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা তাকে চিনে এবং তার সম্পর্কে জানে তাদের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক আর জসিম বলেন আপনারা নিউজ করে যদি কিছু করতে পারেন তাহলে করেন কোন সমস্যা নেই।
২০২৪ সালে একুশে আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তার নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যেখানে তারা অবৈধ সম্পদের মধ্যে উল্লেখ আছে একটি দামি হাইয়েস গাড়ি, সাভারে মসূরী খোলা এলাকায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশের একটি জমির প্লট , ময়মনসিংহ ভালুকায়ে রয়েছে গরুর খামার, সৌদি আরবের রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা।
মোটকথা পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সবকিছু এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে উমেদার জসিম, পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব রেজিস্টারদের এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এই উমেদার জসিম এবং সকল অর্থের লেনদেন তার হাত ধরেই হয়।
প্রতি ঈদে জসিম বিপুল অর্থ বিতরণ করেন, কোরবানিতে একাধিক গরু দেন, দরিদ্রদের মাঝে চাল–ডাল–টাকা বিলান। অনেকেই তাকে ‘দানবীর’ মনে করেন। কিন্তু স্থানীয় সচেতনরা বলেন, “এটা আসলে দুর্নীতির টাকা সাদা করার কৌশল। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই দান।”
জসিম ও রাজিবের সিন্ডিকেট শুধু ঘুষই নেয় না, বরং দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সর্বনাশে ফেলে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—
দলিলের পাতা ছিঁড়ে ফেলা।
ভলিউম পরিবর্তন।
দাগ ও খতিয়ান পরিবর্তন।
জমির শ্রেণী বদল।
রেজিস্ট্রেশনের সময় গ্রাহককে হয়রানি।
দলিল দেখতে এলেও টাকা ছাড়া নড়াচড়া না করা।
ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না।

বছরের পর বছর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন একাধিকবার বদলি করেছে। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে কিছুদিনের মধ্যেই আবার তারা একই অফিসে ফিরে আসেন। ফলে স্থানীয়রা বলছেন,
“পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক সাব-রেজিস্ট্রার নয়, বরং এই দুই উমেদার।”
মিরপুরের এক ভূমিমালিক বলেন
“একটা জমির দলিল করতে গিয়ে পাঁচবার অফিসে দৌড়াতে হয়েছে। প্রতিবার আলাদা অজুহাতে টাকা চেয়েছে। না দিলে কাজই হয় না।”
আরেক দলিল লেখক অভিযোগ করেন>>>>
“আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিই। উমেদাররা এখন অফিসের রাজা। তাদের ছাড়া কোনো কাজ হয় না।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরার উমেদারের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ। দুর্নীতি দমন কমিশন চাইলে খুব সহজেই তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে পারে।
“এসব উমেদারই আসলে পুরো সাব-রেজিস্ট্রি সেক্টরের দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে সাধারণ মানুষের প্রথম অভিযোগ—
“এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না।”
জনগণের দাবি, সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন যেন অবিলম্বে উমেদার জসিম ও রাজিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়। না হলে এই অফিস দুর্নীতির ক্যান্সারে পরিণত হবে। যা ছড়িয়ে যাবে সব উমদার নকলনবিশ ও সহকারীদের মাঝে।।






















আপনার মতামত লিখুন :