মাহফুজুর-নাসিরুলের নেতৃত্বে বিআরটিএ গাজীপুর অফিসে মাসে লুটপাট কোটি টাকা


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ১০:৫০ AM /
মাহফুজুর-নাসিরুলের নেতৃত্বে বিআরটিএ গাজীপুর অফিসে মাসে লুটপাট কোটি টাকা
সজীব আকবর, সিনিয়র অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেলে ঝালকাঠি পিরোজপুরের আলোচিত AD (সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার) এস.এম মাহফুজুর রহমান ( মাফুজ) ও মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন কথিত অফিস স্টাফ কাম দালালদের সাথে আঁতাত করে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোড পারমিট, মালিকানা বদল, ফিটনেস, চোরাই গাড়ির জাল কাগজ প্রস্তুত ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, নাম্বার প্লেট, অকৃতকার্য মোটরযান চালকদের কাছ থেকে মোটা অংকের দক্ষিণা নিয়ে গ্যারান্টি সহকারে ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করেই মূলতঃ এঁরা লুটপাট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হলেও মাহফুজুর আরিফিন নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
AD এস.এম মাহফুজুর রহমান ব্যাংকের টাকা বাদেও প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে নেন ১০/১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি রোড মারমিট থেকে গোপনে হাতিয়ে নেন ২/৩ লাখ টাকা। চোরাই গাড়ির জাল কাগজ প্রস্তুতে নেন গাড়ির মূল্যমান ও শ্রেণী বিশেষে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা। মালিকানা বদলের ক্ষেত্রে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। কাগজে ত্রুটি থাকলে গোপনে হয় মোটা অংকের লেনদেন। গাড়ির ফিটনেস বাবদ নেন ১০/১২ হাজার টাকা।
এসব টাকার ৪০% নেন এডি মাহফুজুর, আর ৩০% নেন পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন। আর বাকি টাকা যায় অফিস স্টাফ শাহ আলম, স্বপন, তুন্নি আপাসহ চিহ্নিত পোষ্য দালালদের পকেটে।  এডি মাহফুজুরের এই অসাধু উপায়ে অর্জিত টাকা থেকে হেড অফিস ম্যানেজের নামে একটি অংশ চলে যায় ঢাকা বিভাগীয় বিআরটিএ অফিসের এক লুটেরা অফিসারের পকেটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনার আমলে তৎকালীন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী কাউয়া কাদেরের প্রিয়জন হিসেবে খ্যাত এডি এসএম মাহফুজুর রহমান ও পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন নিজেদেরকে সাবেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে কর্মস্থলগুলোতে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি দালাল সিন্ডিকেট।
জনশ্রুতি আছে জুলাই আগস্ট ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলন দমন করতে এই মানিকজোড় প্রতিরাতে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে করতেন গভীর শলাপরামর্শ।  আর ছাত্র আন্দোলন দমাতে লক্ষ লক্ষ টাকা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের মাঝে বিতরণ করেন।
তবে ৫ই আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা দিল্লি পালিয়ে গেলে এডি মাহফুজুর ও নাসিরুল আরিফিন টানা প্রায় ৩ সপ্তা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তবে কিছুদিন পর সবকিছু স্বাভাবিক হতে থাকলে আস্তে আস্ত এঁরাও মাটি ফুঁড়ে বের হতে থাকেন। এরপর সপ্তাহ খানেক ফেরেস্তা সেজে থাকলেও তারপর থেকে এখন আবারো শেখ হাসিনার পেতাত্মা এই চক্র পূর্বের ন্যায় স্বমহিমায় উদ্ভাসিত!!!
(মাহফুজুর ও নাসিরুলের গাজীপুর প্রেরণের পিছনে বিভাগীয় পর্যায়ের মহা ঘুষখোর দুই বিআরটিএ কর্মকর্তার আমলনামাসহ মাহফুজুর ও নাসিরুল এর স্থাবর অস্থাবর সম্পদের ফিরিস্তুি নিয়ে আমরা আসবো রবিবার প্রিন্ট ভার্সনে। ততক্ষণ আমাদের সাথেই থাকুন। চোখ রাখুন জাতীয় দৈনিক ” এই আমার দেশ “, Crim News 24 এবং আজকের পেপার পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে)। ( চলবে)

You cannot copy content of this page