রূপগঞ্জ পূর্ব সাব রেজিস্ট্রার অফিসে আমিনুলের কথায় শেষ কথা


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ২:২০ PM /
রূপগঞ্জ পূর্ব সাব রেজিস্ট্রার অফিসে আমিনুলের কথায় শেষ কথা

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ জেলার বনেদী সাব রেজিস্ট্রার অফিস হিসেবে খ্যাত রূপগঞ্জ পূর্ব সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কথিত সাব রেজিস্ট্রার সহকারী আমিনুল ইসলামের ঘুষ দুর্নীতি আর জাল জালিয়াতির দলিল বাণিজ্যে অতিষ্ঠ ভূক্তভোগীরা। এই অফিসে আমিনূল ইসলামের কথায় শেষ কথা। তার ইশারা ছাড়া কোনো দলিলে স্বাক্ষর করেননা সাব রেজিস্ট্রার। নর্মালেই দলিল প্রতি ৯ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা না পেলে তিনি কোনো দলিল সাব রেজিস্ট্রার এর সামনে পেশ করেননা। তাছাড়া কথায় জমির শ্রেণী পরিবর্তন, সরকারী খাস খতিয়ান ও এনিমি প্রোপার্টিও তিনি মোটা টাকার গোপন চুক্তিতে ব্যক্তি মালিকানায় এবং বিভিন্ন ডেভলোপার কোম্পানীর হাতে তুলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

গোপন চুক্তির মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম ভলিউম লোপাট, টেম্পারিং, ভূয়া এনআইডি কার্ডের অপপ্রয়োগসহ নানাবিধ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তার চাহিদা মোতাবেক টাকা পেলে হাজারো ত্রুটি ও সমস্যা যুক্ত জমিও চোখের পলকে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর দাম-দরে পরতা না হলে জমি দাতা গ্রহীতাদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। আর দলিলে বা পর্চায় সামান্য ত্রুটিবিচ্যূতি অথবা এনআইডিতে নামের বানান ভুল থাকলে আমিনুল ইসলামের বৃহস্পতি উঠে তুঙ্গে। এ সময় জমি দাতা গ্রহীতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে “”এসব জমি কস্মিনকালেও রেজিস্ট্রি সম্ভব নয় “” বলে কৃত্তিম আতঙ্ক সৃষ্টি করে শতক প্রতি হাতিয়ে নেন এক থেকে দেড় লাখ টাকা হারে। এছাড়া ফ্রেশ ভিটি জমি ও নাল জমিকে ডোবানালা পতিত দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা৷ এভাবে প্রকাশ্যে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে আমিনুল ইসলামের কারসাজিতে সরকার প্রতিমাসে হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূক্তভোগী বলেন ” এনআইডি কার্ডে আমার নামের ভুল থাকায় সরকারী ফিস ছাড়াও আমার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে এক লাখ টাকা”। এছাড়া মামলা চলমান থাকা জমিও গোপন চুক্তিতে আমিনুল রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে দেন বলেও ভূক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন।

জমি রেজিষ্ট্রেশন এর পূর্বে সেরেস্তা খরচ, বড়ো স্যারের নাম ভাঙিয়ে ( DR অফিসের দলিল প্রতি ১ হাজার) নাস্তা খরচ ও দলিল প্রতি ১০% হারে অতিরিক্ত অর্থ হাতে পেলে সেসব দলিলের মাথায় আমিনুল দিয়ে রাখেন বিশেষ ” সাংকেতিক চিহ্ন “। আর এসব দলিল হাতে নিয়েই সাব রেজিস্ট্রার বুঝতে পারেন তাদের কাঙ্খিত টাকা আমিনুলের পকেটে চলে এসেছে, এরপর সেসব দলিল সাব রেজিস্ট্রার সহি করেন চোখ বন্ধ করে খোশমেজাজে।।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে রূপগঞ্জ পূর্ব সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আমিনুলের নেতৃত্বে মোহরার, এক্সট্রা মোহরার, উমেদার, কতিপয় দলিল লেখক সমিতির নেতা ও স্থানীয় কতিপয় ২য় সারির রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের বাইরে কারো যাওয়ার ক্ষমতা নেই। এই সিন্ডিকেটকে পাশ কাটিয়ে সকল প্রকার কাগজ সঠিকভাবে জমা দিলেও আমিনুল ইসলামের ইশারায় সেসব কাগজ বাতিলপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়। এরপর এই দলিলের প্রকৃত মালিক মাসের পর মাস ঘুরতে থাকলেও সেসব জমি রেজিষ্ট্রেশন করা কারো পক্ষে আর সম্ভব হয়না। আবার এসব জমির কাগজ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বা আমিনুলের কাছে সরাসরি জমা দিলে আমিনুল তার চাহিদা মোতাবেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে দু ঘণ্টার মধ্যেই সাব রেজিস্ট্রার কে দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে দেন বলে জানা যায়।

এভাবে প্রতিনিয়ত AP, VP রেজিষ্ট্রেশন, জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে– রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আদায়কৃত টাকার ৫০% সাব রেজিস্ট্রারকে, ৩০% নিজের জন্য রেখে দিয়ে বাকি ২০% টাকা অফিস স্টাফ, দলিল লেখক সমিতি, DR Office ম্যানেজ করাসহ সিন্ডিকেটভূক্ত রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে বন্টন করা হয় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সন্ধ্যার পর বাসায় ফেরার পূর্ব মূহুর্তে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম আকষ্মিক অভিযান পরিচালনা করলে ঘুষ দুর্নীতির টাকাসহ আমিনুল ইসলাম ও সাব রেজিস্ট্রারকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সচেতন মহল।। ( চলবে)

 

বি:দ্র: এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়ুন আগামীকাল “” জাতীয় দৈনিক দেশবাংলা, আজকের কাগজ ও দৈনিক এই আমার দেশ”” পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।।।

You cannot copy content of this page