ভাঙ্গুড়া দিলপাশার ভূমি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ’র বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ৯:২৫ PM /
ভাঙ্গুড়া দিলপাশার ভূমি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ’র বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা:

রাজস্ব সার্কেল ভাঙ্গুড়া উপজেলা ভূমি অফিসের আওতাধীন দিলপাশার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ ফিরোজ আহমেদ এর বিরুদ্ধে লাগামহীন ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এখানে “ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল, মেলেনা সেবা “।

সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা ঘুষ আদায় করছেন ভূমি নায়েব মোঃ ফিরোজ আহমেদ। সরকার ভূমির নামজারির ফি ১১৭০/= টাকা নির্ধারণ করলেও ভূমি নায়েব মোঃ ফিরোজ আহমেদ সর্বনিম্ন ৬০০০/=টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকাও কৌশলে আদায় করে থাকেন।
কম লেখাপড়া জানা সহজসরল সাধারণ মানুষের কাগজপত্রে ভূল না থাকলেও তিনি ভুল-ভাল বুঝিয়ে কার্যসিদ্ধি করে থাকেন। দিলপাশারের সুবল ঘোষ এর নিকট থেকে ৩৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী শ্রী সুবল কুমার ঘোষ।

শ্রী সুবল কুমার ঘোষ অভিযোগ তুলে বলেন, আমার নিকট থেকে ৩৪ হাজার নগদ টাকা ও ৫ কেজি খাঁটি গাওয়া ঘি বাগিয়ে নিয়ে কোন কাজ করেন নি, টাকাও ফেরত দেয়নি। ভুক্তভোগি শ্রী সুবল ঘোষ আরও বলেন, ভূমি নায়েব মোঃ ফিরোজ আহমেদ বলেছেন ওই টাকার মধ্যে বিশ(২০) হাজার সহকারী কমিশনার ভূমির আর চৌদ্দ(১৪) হাজার টাকা তার খরচ। তবে সুবল ঘোষ ভূমি কর্মকর্তার কাছে যেয়ে জানতে পারেন, এসিল্যান্ড কোনো টাকা নেননি, বরং সম্পূর্ণ টাকা ভূমি নায়েব মোঃ ফিরোজ আহমেদ নিজেই আত্মসাৎ করেছে।

ভূমি নায়েব মোঃ ফিরোজ আহমেদ দিলপাশার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করার পর ২ মাস এর মধ্যে শুধু জমির নামজারিতে ঘুষ-বাণিজ্য করেছেন প্রায় ৪/৫ লাখ টাকা।
এই ভূমি অফিসে তার মাসিক ঘুষ-বাণিজ্যের টাকার পরিমাণ প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা। ভূমি নায়েব মোঃ ফিরোজ আহমেদ দিলপাশার ইউনিয়নে কিছু গ্রাম ভিত্তিক নিজস্ব দালাল পোষা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাগজপত্রে সামান্য ভুল থাকলেও জমির মালিকদের কাছ থেকে গ্রাম ভিত্তিক দালালের মাধ্যমে নিজে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন প্রতিনিয়ত।


যেসব মানুষ টাকা দেন না তাদের কোন কাজই করেন না ফিরোজ, বরং তাদের কাগজপত্র তালাবদ্ধ করে রেখে দেন। ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণেও তিনি কয়েক গুণ টাকা উপরি দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ে থাকেন। এই ভূমি অফিসের চৌকাঠ পেরুলেই ভূমি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ এর নিজের করা আইন মানতে হয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে।

এসব প্রসঙ্গে নায়েব ফিরোজ বলেন, ‘আমার কাছে টাকা নিয়ে আসছিলো আমি নিয়েছি এবং পরে ফেরত দিয়ে দিয়েছি ।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান (এসিল্যান্ড) বলেন, ফিরোজ আহমেদ অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, নায়েব ফিরোজ সাহেবের বিরুদ্ধে যদি এমন কোন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইনের আওতায় এনে তাঁর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

You cannot copy content of this page