
বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও থেকে:
জ্বালানি তেল তথা পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন সংকটে জেলা জুড়ে হাহাকার তৈরি হয়েছে। জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিনরাত্রি এক করেও মিলছে না তেল।অপরদিকে খোলাবাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন। ভোক্তাদের অভিযোগ বাজারে যদি সরবরাহ বন্ধ থাকে তবে গ্রাম গঞ্জের হাট বাজারে খুচরা বিক্রেতারা কোথায় এসব তেল পাচ্ছে। আজ ১৮ মার্চ বুধবার সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল পাওয়া যায়নি।পেট্রোল পাম্প মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ থাকায় জ্বালানি তেল আসার সাথে সাথে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বর্তমানে জেলাজুড়ে চলছে ইরি ধান চাষের মহোৎসব। ইরি চাষের এই পিক সিজনে ডিজেলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ধান চাষ।এতে আগামীতে দেশের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁও জেলাতে তীব্র খাদ্য সংকটের আশংকা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তেলের তীব্র সংকট নিয়ে জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে লুকোচুরি খেলছেন।জেলাব্যাপি তীব্র জ্বালানি সংকটের জন্য পেট্রোল পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন পরিবহন শ্রমিক মালিকরা।
ঠাকুরগাঁও শহরের আর্টগ্যালারী মোড়ে কথা হয় থ্রি হুইলার চালক মোহাম্মদ আলমের সঙ্গে।তিনি বলেন, পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া যায়না।হঠাৎ দু’একটা পাম্প খুলে তেল দেওয়া শুরু হলে এক কিলোমিটার লম্বা লাইন লেগে যায়। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় থাকার পরে দেওয়া হয় মাত্র দুশত টাকার তেল।দুইশত টাকার তেল নিয়ে বেশিক্ষণ গাড়ি চালানো অসম্ভব। ঈদের মৌসুমে তাদের মতো ছোট পরিবহনগুলোর এরকম অবস্থায় জেলা প্রশাসক কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নিরব রয়েছেন।তিনি আরো বলেন গ্রামের হাটবাজারগুলোতে দ্বিগুণ দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। তেলের যদি সংকট থাকে তবে ওসব খুচরা ব্যাবসায়ীদের তেল কে দিচ্ছে। তিনি এর পিছনে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটবাজির অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অপরদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোশতাক হোসেন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তাদের পাম্পগুলো এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। তিনি সিন্ডিকেটবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খুচরা ব্যাবসায়ীদের অধিক দামে তেল বিক্রির বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।
এদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এ প্রতিনিধিকে জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার পেট্রোল পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটের বিষয়টি অপেন সিক্রেট।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করেও কোন সুরাহা না হওয়ার কারণে বর্তমানে আন্তঃজেলা রুটের বাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট নিয়ে কথা হয় বাইক চালক মোকসেদ আলীর সাথে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, দেড়ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গত পরশু ঠাকুরগাঁও রোডের আব্দুল কাদের পাম্প থেকে মাত্র একশত টাকার তেল পেয়েছি। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ বাজারে গিয়ে খুচরা ব্যাবসায়ীর নিকট থেকে ১৮০ টাকা লিটার দরে তেল নিতে বাধ্য হয়েছি।এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন,পাম্প মালিকরা সিন্ডিকেট করে গোপনে খুচরা ব্যাবসায়ীদের নিকট বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিকে জেলার চলমান জ্বালানি তেল সংকটের বিষয়ে কথা বলার জন্য জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।ঠাকুরগাঁওবাসী অবিলম্বে তেল নিয়ে তেলেসমাতি বন্ধ করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।






















আপনার মতামত লিখুন :