
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঢাকা জেলা রাজস্ব সার্কেলের সাভার অফিসের মোটরযান পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম খানের বেপরোয়া ঘুষ দুর্নীতি ও লাইসেন্স বাণিজ্যের খবর অবগত আছেন আমজনতা ভুক্তভোগী থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের শীর্ষ কর্তারাও। তবে এরা রহস্যজনক কারণে থেকে যায় বহালতবিয়তে, ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর আগে একাধিক বার সংবাদমাধ্যমে আমিনুলের লুটপাটের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও আমিনুল রয়েছেন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে, শাস্তির বাইরে। জনশ্রুতি আছে বিভিন্ন উপঢৌকনে হেড অফিসের জনৈক কর্মকর্তাকে তুষ্ট করে তিনি এখনো রয়েছেন সাভার BRTA অফিসে বহালতবিয়তে।
অপরদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকদের দৃষ্টির আড়ালে মেট্রো সার্কেল-৩’র অভিনব কুশীলব মাস্টারমাইন্ড খ্যাত বেপরোয়া উচ্চমান সহকারী আশিকুর রহমান অজ্ঞাত শক্তিতে বলিয়ান হয়ে গোটা অফিসে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন প্রথম শ্রেণির দাপুটে অফিসারদের মতো। ইতিমধ্যে আশিকুর ” যত দালাল, তত আয়”” এই ফর্মূলা কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেট। ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় ফেল করলে বা শূন্য পেলেও সমস্যা নেই। তারজন্য আছেন উচ্চমান সহকারী আশিকুর ওরফে আশিক বা তার সুবিশাল দালাল বাহিনী। এদের সাথে যোগাযোগ করে এদের চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে পারলেই মিলবে ড্রাইভিং লাইসেন্স।৷ দিয়াবাড়ীতে আশিকুরের সুচিন্তিত অপকর্মকৌশলের কারণে ঘুষ দুর্নীতি ও লাইসেন্স বাণিজ্য যেনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। প্রতি কর্মদিবসে আশিকুর ভূক্তভোগীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
উত্তরা দিয়াবাড়ি ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩’র ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’র প্রহসনের পরীক্ষার মাঠ ও বোর্ড মিরপুর-১২ নম্বর বাস ডিপোর অনেক খবর সাংবাদিকদেরও অজানা। যেখানে সপ্তাহে অন্তত চার দিন নতুন-পুরনো দেড় হাজারের বেশী ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’র পরীক্ষার্থী থাকলেও একহাজার-বার’শ উপস্থিত থাকে। তাদের নেয়া হয়ে থাকে-চটকদার আয়োজন সর্বস্ব দায় এড়ানো বা লোক দেখানো পরীক্ষা। কাগজে কলমে,এমনকি-দৃশ্যমান তৎপরতায়ও সব ঠিকঠাক। তবে বাস্তবে যেন-সবই শুভঙ্করের ফাঁকি। নিয়মিত এক-একজন ইন্সপেক্টর (মোটরযান পরিদর্শক)’র তত্বাবধায়নে পরীক্ষা সম্পন হলেও তাতে প্রাই’শ একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সেখানে ফলাফলের খসড়া তৈরী হলেও দিন শেষে চলে পাশ-ফেলের অভিনব নাটক।

অর্থাৎ-এই কৌশলে চলে টাকা না দিলে “”পাশ করলেও ফেল”” আবার টাকা দিলে “”ফেল করলেও পাশ”” এর খেলা। আর সেখানে এর অন্যতম হোতা আশিকুর রহমান (৩৫) নামের একজন উচ্চমান সহকারী। ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার শেষে চলমান-ধান্ধাবাজির যত কারসাজি বর্তায় উচ্চমান সহকারী আশিকের হাতে। উচ্চমান সহকারী আশিক তার আগে সাজানো গ্যাটিজ (বহিরাগত সহযোগী) ও দালাল সিণ্ডিকেটের নির্দেশনায় ঘুষের নিশ্চয়তা পেয়ে বেশীরভাগ তাদেরই পরীক্ষার্থীর ডাটা চুড়ান্ত করে থাকেন। এরপর চলে-তা সার্ভারে (চুড়ান্ত পাশ-ফেল প্রদর্শিত অনলাইন) ঢুকিয়ে পাশ নিশ্চিত করণ। যেখানে ‘পাশ’ ৮০ ভাগই ঘুষ নির্ভর। সোজা কথায়-ওই আশিকের পোষা দালাল সিণ্ডিকেটের নিশ্চিত প্রার্থী ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষে ফেল হয়ে যায়-পাশ, সাধারণ পাশ করা পরীক্ষার্থী হয়ে যায়-ফেল। যার প্রমান বিগত বোর্ডের একাধিক পরীক্ষার্থী। আর আনসিন তো রয়েছেই, মানে-পরীক্ষায় উপস্থিত হতে নারাজ ও স্বচ্ছল শ্রেণীর বেলায় চলে অটো ‘পাশ’ সিস্টেম। বিনিময়ে নেয়া হয়,লাইসেন্স প্রতি ৪থেকে ৫ হাজার টাকা। এভাবেই শুধু লাইসেন্স খাত থেকেই আসে মাসে কোটি টাকার বেশী।
এদিকে সাভার অফিসেও পাশ ফেলের যাঁতাকলে পিষে আমিনুল ইসলাম খানও মাসান্তে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। আমিনুলকে চাহিদা মোতাবেক ঘুষের টাকা দিয়ে অসংখ্য পরীক্ষার্থী হাজির না হয়েও পাশের তালিকায় ঢুকছে। লাইসেন্স ও পেয়ে যাচ্ছে স্বল্প সময়ের মধ্যে। অন্যদিকে ফেল করা প্রার্থীও আমিনুলের হাতে বা তার দালালদের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে দিতে পারলে পাচ্ছেন শতভাগ পাশের গ্যারন্টি।।। আর যারা টাকা দিতে পারেনা, পাশ করলেও তাদের কপালে জোটে লম্বা লম্বা ডেট (সময়)। এখানেও একই ভাবে নিয়মিত দিন শেষে গড়ে ৫০জন, সপ্তাহে দুই-আড়াই হাজার ও মাসে সাড়ে সাত থেকে আট হাজার পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে দেড় কোটি টাকার বেশী ঘুষ হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। যা একইভাবে চলছে-দিন, সপ্তাহ ও মাসান্তে লাখ লাখ থেকে কোটি টাকা ভাগাভাগি। আর এসব অবৈধ টাকাতেই চলছে এদের বিলাসবহুল জীবনের গল্প। নামে বেনামে গড়ে উঠছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।।






















আপনার মতামত লিখুন :