
বিশেষ প্রতিনিধি, রাঙামাটি:
পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক ধর্ষণের অপচেষ্টা এবং সাড়ে ৫ ভরিরও বেশি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার অভিযোগে রাঙামাটির সাবেক এক পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নেয়াজ আহমেদ (৫০)। তিনি রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং ডিসি বাংলো রোড এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী গৃহবধূ কানিজ সুলতানা কেয়া (২৬) বাদী হয়ে রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৮/২৬, কোতোয়ালী)। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ)/১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৩/৪০৬/ ৪২০/ ৫০৬ (ii) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামির সঙ্গে বাদীনির পরিবারের পূর্বপরিচয় থাকার সুবাদে তিনি প্রায়ই বাদীনির বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়িক সংকটের কথা বলে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে ১ মাসের জন্য হাওলাত হিসেবে ৫ ভরি ২ আনা স্বর্ণালংকার নেন। পরবর্তীতে স্বর্ণালংকার ফেরত না দিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কুপ্রস্তাব এবং কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। রাজি না হলে স্বামী ও তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং ডিভোর্সের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাতে আসামি বনরূপার কাটা পাহাড় লেইন এলাকায় গৃহবধূর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে শারীরিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে জোরপূর্বক বেডরুমে নিয়ে ধর্ষণের অপচেষ্টা চালান। পরবর্তীতে গৃহবধূর চিৎকারে তার স্বামী চলে এলে আসামি পালিয়ে যান।
সর্বশেষ গত ২রা অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফোনে গৃহবধূকে সোনা ফেরত না দেওয়ার ঘোষণা এবং মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্ত সাবেক এই কাউন্সিলর। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করা হলে পরবর্তীতে থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
কানিজ সুলতানা কেয়া (২৬) বাদীর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
বিবাদী নেয়াজ আহমেদ বলেন, আমার আত্মীয় সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝির নোটারি পাবলিক মাধ্যমে আপোষ হয়েছে। ১৯শে অক্টোবর নারী ও শিশু আদালতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত নেওয়াজ আহমেদ।আপোষ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী প্রতিবেদককে বলেন ,নারী শিশু চাঞ্চল্যকর ধর্ষন মামলা আপোষযোগ্য নয়।
কোতয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেছেন, কানিজ সুলতানা নামে গৃহবধূ একদিন একবার থানায় আসছে জিডি করতে আমি নিজেই অভিযোগ করতে বলেছিিএবং তদন্ত করে দেখবো। এখন শুনেছি আপোষ হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :