
অটোয়ারী, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) উদ্যোক্তা শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে এক যুবককে অপহরণ, বেধড়ক মারধর, অর্থ ছিনতাই ও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।
গত রোববার (৭ই জুন) দুপুরে আটোয়ারী উপজেলার লিলারমেলা বাজার থেকে ভুক্তভোগী যুবক জুয়েলকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রানীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিশনের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে। সেখানে তাকে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী জুয়েল ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় বলরামপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শাহিনুর ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবু তৌহিদ মোশাহারুল,
ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম টিপু, নামাজপড়া শাহিনুর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
জুয়েল জানান, রোববার সকালে তিনি বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ বাজারে মরিচ বিক্রি করে ২২ হাজার টাকা পান। পরে বলরামপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এলে তার চাচাতো ভাই নাঈম ফোন করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যেতে বলেন। সেখানে উদ্যোক্তা শাহিনুর ইসলামের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। যদিও কিছুক্ষণ পরেই বিষয়টি স্থানীয়ভাবেই মিটে যায়। “কিন্তু পরে আমি লিলারমেলা বাজারে এলে তারা মোটরসাইকেলে এসে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে রানীগঞ্জের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে নিয়ে মারধর শুরু করে উদ্দোক্তা শাহিনুর ইসলাম। তখন টিপু, নামাজপড়া শাহিনুর সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। আমার কাছে থাকা ২২ হাজার টাকাও কেড়ে নেয় শাহিনুর,” বলেন জুয়েল।
ভুক্তভোগীর বাবা মজিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে বেধড়ক পেটানোর পর শাহিনুর ইসলাম আমার কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। স্থানীয় রানীগঞ্জ বাজারের কয়েকজন লোক নির্যাতনের শব্দ পেয়ে কোয়ার্টারে গিয়ে জুয়েলকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহিনুর ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, তারা আটোয়ারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :