BRTA ইকুরিয়াই মোটরযান পরিদর্শক মনিষ কুমার চক্রবর্তীর অভিনব বাণিজ্য “দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাশ”


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ৪:৪১ PM / ০
BRTA ইকুরিয়াই মোটরযান পরিদর্শক মনিষ কুমার চক্রবর্তীর অভিনব বাণিজ্য “দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাশ”

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ঢাকা:

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন অথরিটি (BRTA) মেট্টো সার্কেল-২ ইকুরিয়া কেরানীগঞ্জের মোটরযান পরিদর্শক মনিষ কুমার চক্রবর্তী শুরু করেছে এক অভিনব বাণিজ্য।

” দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাশ” এই সিস্টেম হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

BRTA’ লাইসেন্স করতে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০ নম্বরের মধ্যে ৮ পেলে পাশ।। তবে ২/৩ বা “শূন্য” (০) পেলেও সমস্যা নেই। সমস্যা নেই সাদা খাতা জমা দিলেও। তার জন্য আছে ” সর্ব ঘটে কাঁঠালী কলা” মনিষ কুমার চক্রবর্তী ও তাঁর পৌষ্য সিন্ডিকেট। এঁদের সাথে যোগাযোগ করে সরকারি ফিসের বাইরে ১৫/২০ হাজার টাকা ধরিয়ে দিলেই মিলবে ঝাঁ চকচকে লার্নার।। পর্যায়ক্রমে হালকা ও ভারি লাইসেন্স। মোট কথা “সাদা খাতা জমা দেয়া” মানে মূর্খ প্রার্থীদের লাইসেন্স প্রাপ্তিতেও এখানে কোনো বাধা নেই। পরে সড়কের আইন না জানা অক্ষর জ্ঞানহীন এসব ড্রাইভাররাই সড়কে প্রাণ ঝরায় এবং শতশত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।।

প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৯ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এতে ইকুরুয়ার মনিষ কুমার চক্রবর্তীর মতো ১১ জন মোটরযান পরিদর্শক ও ৭ সহকারী পরিচালক(ইঞ্জিনিয়ার) সরাসরি যুক্ত। যাঁরা কোনোভাবেই এই দায়ভার এড়াতে পারেন না।।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বিআরটিএর কার্যালয়ে (ঢাকা মেট্রো–২ সার্কেল) ৮ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।। তবে কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি।। ঘাটে ঘাটে দুর্নীতি আর লুটপাট বাণিজ্য চলছে মহাসমারোহে।।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগ আছে, শুধু লাইসেন্স প্রাপ্তিই নয়। একটি সিন্ডিকেট বিআরটিএর সব ধরনের সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে। রুট পারমিট, গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা পরিবর্তন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে মাসে এক থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করা হয়। এসব অনিয়ম–দুর্নীতির সঙ্গে বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের একটি অংশও জড়িত। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইকুরিয়া কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক।

দুদক সূত্র বলছে, অভিযোগ অনুযায়ী, বিআরটিএর ইকুরিয়া কার্যালয়ে সেবাভেদে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ অবৈধভাবে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের সামনে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটসহ একটি ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করা হয়। সাবেক এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে কার্যালয়ের একটি কক্ষ নিজের দখলে রেখে দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মনিষ কুমার চক্রবর্তীর মতো অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ মদদে এখানে রয়েছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট।

প্রতিমাসে ২০ কার্যদিবসে অবৈধ কালেকশন হয় এক থেকে দেড় কোটি টাকা।

অবৈধ এই টাকার কতো পার্সেন্ট কে পাবেন, স্টাফদের বখরা কতোটা, হেড অফিস ম্যানেজের নামে কতো কর্তন করতে হবে তা সবই নিয়ন্ত্রন করেন ছাত্রলীগের সাবেক পেতাত্মা মনিষ কুমার চক্রবর্তী।

সম্প্রতি মনিষ কুমার চক্রবর্তীর নামে উঠেছে মানি লন্ডারিং ও ওপার বাংলায় দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ।

বর্তমানে তিনি নামে বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। ঢাকাসহ তাঁর নিজ এলাকায় এবং শ্বশুরকূলের কাছে তিনি এখন ডাকসাইটে অন্যতম সেরা ধনী ব্যক্তিত্ব।

তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব, মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদের খোঁজ তল্লাশি নিতে প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের আকষ্মিক অভিযান কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।। ( চলবে)

 

( আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন, চোখ রাখুন পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে)