মফস্বলে অপসাংবাদিকতার দৌড় ঝাপে উৎকন্ঠায় সচেতন মহল, জিম্মি সাধারণ মানুষ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২৬, ৭:৪১ PM / ০
মফস্বলে অপসাংবাদিকতার দৌড় ঝাপে উৎকন্ঠায় সচেতন মহল, জিম্মি সাধারণ মানুষ

সেলিম রেজা তাজ,স্টাফ রিপোর্টার:-

‎​বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং গণমাধ্যমের সংখ্যাবৃদ্ধির সুবাদে সংবাদমাধ্যমের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি এর আড়ালে তৈরি হয়েছে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী চক্র। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, ন্যূনতম যোগ্যতা এবং পেশাগত নৈতিকতাহীন কিছু মানুষের হাত ধরে সমাজে ‘অপসাংবাদিকতা’ এক মারাত্মক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। লিখতে বা পড়তে না পেরেও কেবল ‘সাংবাদিক’ পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার এই প্রবণতা সমাজকে কলুষিত করছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলছে।

‎​

‎​অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত চতুর ও স্বার্থান্বেষী প্রকৃতির হয়ে থাকে। তারা প্রথমে নিজেদের কোনো একটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সুকৌশলে সম্পর্ক তৈরি করে। এদের মূল লক্ষ্যই থাকে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে বা বিভিন্ন অজুহাতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করা।

‎​‎​যোগ্যতাহীন এই তথাকথিত সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। যখনই তাদের স্বার্থে আঘাত লাগে বা কোনো অবৈধ সুবিধা পেতে ব্যর্থ হয়, তখনই তারা মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। ব্লাকমেইল, চাঁদাবাজি এবং মনগড়া খবর প্রকাশের হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা এদের নিত্যদিনের কৌশলে পরিণত হয়েছে। এদের কারণে গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের অনেক সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অপসাংবাদিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে, একুশে টিভি,জাগোনিউজ২৪,সময়ের কন্ঠস্বর,রুপালী বাংলাদেশ এর বেনাপোল প্রতিনিধি সাংবাদিক জামাল হোসেন বলেন,সত্যিই আমরা যারা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকায় কাজ করছি তারা আজকে একপ্রকারে কোনঠাসা হয়ে আছি তাদের কারনে। সাধারণ ঘটনাকে গড়ে তুলছে তিল থেকে তাল। বিভিন্ন ধরনের অনিবন্ধিত পোর্টাল ও ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মালিক বা তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে কোন ঘটনার সত্যতা যাচাই বাছাই না করেই তাদের মতো করে করছে ভাইরাল। আবার শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিজের মধ্যেই সাজাচ্ছে নাটক কেউ আবার এই নাটকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। পান থেকে চুন খসলেই বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ধারা সাধারন মানুষদের জিম্মি করে বিভিন্ন ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। একটু যদি লক্ষ করি তবে দেখবেন তাদের এইসব ভিডিওর মধ্যে বেশির ভাগই নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা, কার বাড়িতে কোন মেয়ে আসছে এইসব আবার এসব ঘটনার মূল তথ্য থেকে নিজেদের মতো করেও করছে ভাইরাল। আবার মাঝে মধ্যে আমাদের ভিতরের অনেকের মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে ও অর্থ গ্রহন করে‌। তাদের থেকে ক্ষেতে কাজ করা কৃষক থেকে শুরু করে সরকারি বা ধনাট্য ব্যাক্তি বর্গরাও রেহাই পাচ্ছে না। আরেকটি বিষয় সারা বছর আবার এইসব কিছু সাংবাদিকদের দেখা না মিললেও নির্বাচন কালীন সময়ে তারা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বর্তমানে মফস্বলে এদের দমন না করতে পারলে সাংবাদিকতা করা মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে।