
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলাকে শতভাগ মাদক ও জুয়ামুক্ত করতে চূড়ান্ত ও আপসহীন যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং উপজেলা মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান। মাদক কারবারি, সেবনকারী কিংবা তাদের বাঁচানোর জন্য পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ানো কোনো সুপারিশকারী বা পৃষ্ঠপোষক—কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
বিবৃতিতে ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান উল্লেখ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে তার টানা ও আপসহীন অবস্থানের কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক সিন্ডিকেট। দিশেহারা হয়ে পড়ে কিছু মাদক কারবারি ও তাদের স্বার্থান্বেষী মহল তার সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে। এ লক্ষ্যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তবে এসব অপপ্রচারে পিছু হটার পাত্র তিনি নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ান বলেন, কোনো চক্রান্ত বা অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে এক ইঞ্চিও সরানো যাবে না। মাদকচক্রের এই মরিয়া আচরণই প্রমাণ করে যে আমাদের আঘাত সঠিক জায়গায় লেগেছে। এসব অপপ্রচারকে তোয়াক্কা না করে মিঠাপুকুর থেকে মাদকের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে আমার কাজের গতি আগের চেয়ে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছি।
মাদক কারবারিদের ব্যবসায়ী না ডেকে সরাসরি সমাজবিধ্বংসী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা একটি সম্মানজনক পেশা। আর যারা মাদক বিক্রি করে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়, তারা ব্যবসায়ী নয়—তারা সমাজের শত্রু। এদের সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কট করতে হবে।
একই সাথে মাদক চক্রের পক্ষে কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবিরের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা কোনো মাদক কারবারির পক্ষে কথা বলবে বা তাদের আড়াল করার চেষ্টা করবে, তাদেরকেও অপরাধের সমান অংশীদার গণ্য করে কঠোর আইনি ও সামাজিক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। দল কিংবা সামাজিক পরিচয় যা-ই হোক, অপরাধী ও তার সমর্থক কেউ রেহাই পাবে না।
উপজেলার যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় না দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। পুরো মিঠাপুকুরকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন :