
মাসুদ রানা,পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের জনসেবা কিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনাকাঙ্খিত ঘটনাসহ চুরির ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সঠিক তথ্য প্রকাশের লক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টায় পৌরশহরের জনসেবা কিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অত্র কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. তাওহীদ।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২০/০৯/২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত ১১টায় আমাদের কিনিকে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে তার প্রকৃত সত্য ও সঠিক তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্যই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের জনসেবা কিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ থাকায় মালামাল ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেই। সেই প্রেক্ষিতে গত ০১/০৮/২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা সদরের মো. কছির উদ্দিনের ছেলে মো. হাবিবকে আমরা কিনিকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োগ প্রদান করি।
পরবর্তীতে দায়িত্ব পালনের ১ মাসের মাথায় আমাদের সন্দেহ হলে স্টক রেজিস্ট্রার পরীক্ষা করে দেখা যায়-অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি এবং স্টোর রুম থেকে বেশ কিছু মূল্যবান মেডিসিন গায়েব বা চুরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরবর্তীতে দায়িত্ব অবহেলার কারণে এবং মালামালের হিসাব না মেলায় গত ১৫/০৯/২০১৬ তারিখে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতির পর সে মালামালের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এবং চুরির ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য বিষয় সমাধানের জন্য আমাদের কাছে ১৫ দিনের সময় প্রার্থনা করে।
আমি অন্য একটি কিনিকের জন্য কিছু নতুন যন্ত্রপাতি ও মালামাল ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্যাশে নগদ ৫ লাখ টাকা রাখি। গত ২০/০৯/২০২৬ তারিখ রাতে আমি একটি জরুরি কাজে কিনিকের বাইরে গেলে সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মো. হাবিব কৌশলে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ক্যাশে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে সে এই বিশাল অংকের টাকা চুরির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং ঘটনা অন্যদিকে মোড় ঘোরাতে এক নাটকীয় ও পরিকল্পিত পরিবেশ সৃষ্টি করে। সে তার মায়ের মাধ্যমে সরকারি এনটিব্যায়োটিক ও কিছু গ্যাসের ইনজেকশনের ফাঁকা অ্যাম্পুল প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে।
শুধু তাই নয়, চুরির দায় থেকে বাঁচতে সে কিছু সাংবাদিক ভাইদের ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনে এবং পরিকল্পিতভাবে নিজের শরীরে অপারেশন থিয়েটারের বিভিন্ন সার্জিক্যাল মালামাল বেঁধে আত্মগোপন বা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত সচেতন সাংবাদিক ভাইদের হাতে সে হাতে-নাতে আটক হয়-যার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ আপনারা ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, তার মা বর্তমান একটি সরকারি হাসপাতালে আয়া পদে চাকরি করেন এবং এসব বিষয়ে তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও হাত রয়েছে।
মো.হাবিব অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের নগদ ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এই বিভ্রান্তিকর নাটকের আশ্রয় নিয়েছে।
আমরা আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তি মো. হাবিবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং আমাদের অপহৃত ৫ লাখ টাকা ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এসময় জনসেবা কিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :