
সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
ঘুষ দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে ডেমরা সাব রেজিস্ট্রি অফিস। এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা নড়েনা ফাইল। কথায় কথায় ঘুষ লেনদেন, দালালদের প্রাধান্য, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, রেজিস্ট্রেশনের নামে অবৈধ বিভিন্ন ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে। হয়রানির শিকার সেবাগ্রহীতার এমন অভিযোগ হরহামেশাই তুললেও জেলা রেজিস্ট্রার ( DR) মুন্সি মোখলেছুর রহমান রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন বলেও অভিযোগ দীর্ঘদিনের।কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, সাব-কবলা দলিলে প্রতি লাখ টাকায় সব মিলিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ খরচ হলেও দলিল লেখকেরা সাব-রেজিস্ট্রারের নাস্তা খরচ ও সেরেস্তা খরচের কথা বলে ১০ থেকে ১১ শতাংশ হারে টাকা আদায় করছেন।
কয়েকজন দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাংবাদিকদের কাছে সব কথা বলা যাবে না। পরে সাব-রেজিস্ট্রার তাঁর পরিচিত লোক ছাড়া অন্যদের নানান সমস্যার কথা বলে দলিল ফেরত দেবেন বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রিয়জন হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে তাঁর কর্মস্থলগুলোতে তিনি গড়ে তুলেন শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট অফিস স্টাফ, কতিপয় দলিল লেখক ও স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতা যুক্ত থাকে বলে জানান ভূক্তভোগীরা।
ডেমরা অফিসে ভলিউম লোপাট, টেম্পারিং ও ভূয়া এনআইডি কার্ডের অপপ্রয়োগে দলিল সম্পাদন।
খাসজমি, শত্রু সম্পত্তি, বনবিভাগ এবং সড়ক ও জনপথের জমি ব্যক্তি মালিকানায় ও ডেভলপার কোম্পানির নামে মোটা অংকের দক্ষিণা নিয়ে খাস কামরায় বসে স্বাক্ষর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অপেক্ষাকৃত সহজসরল ও কম লেখাপড়া জানা মানুষকে “” এসব জমি কস্মিনকালেও রেজিস্ট্রি সম্ভব নয় বলে”” ভয়ভীতি দেখিয়ে কৃত্রিম আতঙ্ক সৃষ্টি করে সহকারীর মাধ্যমে গোপন চুক্তিতে লুটে নেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে উপরি টাকা বা সেরেস্তা খরচের নামে প্রতিমাসে আদায় হয় কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা। যার সিংহভাগ টাকা সাব রেজিস্ট্রার নিজ ঝুলিতে রেখে বাকি টাকা DR অফিস, আইজিআর অফিস, দলিল লেখক সমিতি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও অফিস স্টাফদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেন বলে জানিয়েছেন একটি বিশ্বস্ত সূত্র।।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভূক্তভোগীরা বলছেন ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্য খ্যাত ডেমরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ” দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম “” এর আকষ্মিক অভিযান পরিচালনা এখন সময়ের দাবি।।।
পুনশ্চ: সাব রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের জন্ম ২৯শে মে ১৯৮১সনে জামালপুরে। অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করে তিনি ২০১৩ সালে সাব রেজিস্ট্রার পদে মনোনীত হন। তাঁর প্রথম পদায়ন ২০১৩ সালের ২রা জুন তাঁর নিজ জেলার মাদারগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে। এরপর পর্যায়ক্রমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি, ময়মনসিংহের ফুলপুর, রাজধানীর পল্লবী ও শরীয়তপুর সদরে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন অধিদপ্তরের এক বদলি আদেশে ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে তাঁকে পদায়ন করা হয়।।
আপনার মতামত লিখুন :